ঢাকা ১২:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শেখ মুজিবুর পাকিস্তান রাষ্ট্রকে একসঙ্গে রাখার চেষ্টা করেছিলেন: আবদুর রব ইরানের ৪২ যুদ্ধজাহাজ ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করেছে দিল্লি: প্রণয় ভার্মা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিলেই আক্রমণ, প্রতিবেশীদের হুঁশিয়ারি ইরানের শেখ হাসিনা সরকারের প্রবণতা এই সরকারেও দেখতে পাচ্ছি: নাহিদ ইসলাম সরকার ও বিরোধী দলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে: জোনায়েদ সাকি কুমিল্লায় মন্দিরে দুর্বৃত্তের রেখে যাওয়া ককটেল বিস্ফোরণ, পুরোহিতসহ আহত ৪ আবেগি পোস্ট দিয়ে দলের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন জামায়াত নেতা জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ কোটি ডলারের রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে ইরান: ব্লুমবার্গ চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের মুখে আজকের মুসলিম বিশ্ব: মামুনুল হক

চোখের এলার্জি, কারণগুলো জানুন

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

চোখের এলার্জি এই কথাটির সঙ্গে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত। দেশে এমন একজন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না তার এলার্জি আছে। এটি একরকম জাতীয় রোগও বলা যেতে পারে।
এলার্জি কী?

এলার্জি হলো, শরীর অগ্রহণীয় বস্তুর সংস্পর্শে এলে আমাদের দেহে যে বিক্রিয়া হয় তার নাম এলার্জি।

তেমনি সেই অগ্রহণীয় বস্তু সংস্পর্শে এলে তখনই শুরু হয় চোখের এলার্জি। যে বস্তু শরীরে এলার্জি সৃষ্টি করে তাকে বলা হয় এলারজেন। এলারজেন শরীরে এসে পড়লে শরীরের মধ্যে মাস্ট কোর্স থেকে হিস্টামিন পদার্থ এলাকায় এসে যে সমস্যা সৃষ্টি করে সেটিই এলার্জি। চোখের এলার্জি বারো মাসেই কম বেশি হতে পারে। তবে কিছু কিছু মাস যেমন শীতকাল, বসন্তকাল, গ্রীষ্ম, বর্ষা–এই সময় চোখের এলার্জি বেশি দেখা দেয়।

শীতকালে ঠান্ডা নিবারণের জন্য আমরা অতিরিক্ত পোশাক, সোয়েটার কিংবা লেপ-কম্বলের ব্যবহার, বসন্তকালে প্রচুর ফুল ফুটে। শীত ও বসন্তকালে মৌসুমি ফল গাছে ফুল আসে। পরাগায়ন হয়। বাতাসে প্রচুর পলেন উড়ে বেড়ায়–সঙ্গে শুষ্ক আবহাওয়া চোখের এলার্জির অন্যতম কারণ। গ্রীষ্ম বা বর্ষাকালে বাতাস শুকনো বা আর্দ্র থাকে।
বর্ষাকালের কাদাপানি ইত্যাদির কারণে চোখের এলার্জি হতে পারে।

এলার্জির লক্ষণ কী: হঠাৎ করে বা মাঝেমধ্যে বা অনেকদিন ধরে চোখ লাল হয়ে খুব চুলকায়, খচ খচ করে, চোখ থেকে আঠা আঠা পানি বা সুতার মতন পিছুটি আসে। চোখ চুলকাতে শুরু করলে মনে হয় আমি আরও চুলকায়। চোখের পাপড়ির ঝিল্লি পর্দা (নেত্র পর্দা) ফুলে ওঠে। সঙ্গে সঙ্গে চোখের দৃষ্টিরও সমস্যা হয়। অনেক সময় নেত্র স্বচ্ছের পাশে মোটা মোটা দানা দেখা যায়। চোখের এলার্জিকে আমরা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এলার্জিক কঞ্জান্টিভাইটিস বলি।

চিকিৎসা: প্রথমেই কারণ খুঁজে বের করতে হবে এবং কারণ খুঁজে পাওয়া যায় তাহলে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং সমস্যার সমাধান হবে। সাধারণত পুকুর, নদী, বাঁওড়ের পরিষ্কার পানিতে গোসল, পোশাক-পরিচ্ছদ পরিষ্কার রাখা, বাড়ির ভেতরে অপরিচ্ছন্নতা দূর করতে হবে। ব্যবহার্য কাপড়-চোপড় রোদে দিলে কাপড়ের মধ্যে ‘মাইট’ জাতীয় পরজীবী বাস করে সেগুলো মারা যায়। অনেকেই খাবারকে এলার্জিপ্রধান কারণ বলে মনে করেন। তার পরিমাণ অনেক কম। তারপরও বিশেষ কোনো খাদ্যের প্রতি অনীহা বা সমস্যা থাকলে সেটা বর্জন করা যেতে পারে। রক্ত পরীক্ষায় এলার্জি কোষ, আইজিই পরীক্ষা করলে রোগের কারণ খুঁজে যেতে পারে। পরিশেষে নিজের সাবধানতা এলার্জি থেকে মুক্ত করতে পারে।

[চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ও ফেকো সার্জন, যশোর]

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শেখ মুজিবুর পাকিস্তান রাষ্ট্রকে একসঙ্গে রাখার চেষ্টা করেছিলেন: আবদুর রব

চোখের এলার্জি, কারণগুলো জানুন

আপডেট সময় ১০:০৮:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

চোখের এলার্জি এই কথাটির সঙ্গে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত। দেশে এমন একজন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না তার এলার্জি আছে। এটি একরকম জাতীয় রোগও বলা যেতে পারে।
এলার্জি কী?

এলার্জি হলো, শরীর অগ্রহণীয় বস্তুর সংস্পর্শে এলে আমাদের দেহে যে বিক্রিয়া হয় তার নাম এলার্জি।

তেমনি সেই অগ্রহণীয় বস্তু সংস্পর্শে এলে তখনই শুরু হয় চোখের এলার্জি। যে বস্তু শরীরে এলার্জি সৃষ্টি করে তাকে বলা হয় এলারজেন। এলারজেন শরীরে এসে পড়লে শরীরের মধ্যে মাস্ট কোর্স থেকে হিস্টামিন পদার্থ এলাকায় এসে যে সমস্যা সৃষ্টি করে সেটিই এলার্জি। চোখের এলার্জি বারো মাসেই কম বেশি হতে পারে। তবে কিছু কিছু মাস যেমন শীতকাল, বসন্তকাল, গ্রীষ্ম, বর্ষা–এই সময় চোখের এলার্জি বেশি দেখা দেয়।

শীতকালে ঠান্ডা নিবারণের জন্য আমরা অতিরিক্ত পোশাক, সোয়েটার কিংবা লেপ-কম্বলের ব্যবহার, বসন্তকালে প্রচুর ফুল ফুটে। শীত ও বসন্তকালে মৌসুমি ফল গাছে ফুল আসে। পরাগায়ন হয়। বাতাসে প্রচুর পলেন উড়ে বেড়ায়–সঙ্গে শুষ্ক আবহাওয়া চোখের এলার্জির অন্যতম কারণ। গ্রীষ্ম বা বর্ষাকালে বাতাস শুকনো বা আর্দ্র থাকে।
বর্ষাকালের কাদাপানি ইত্যাদির কারণে চোখের এলার্জি হতে পারে।

এলার্জির লক্ষণ কী: হঠাৎ করে বা মাঝেমধ্যে বা অনেকদিন ধরে চোখ লাল হয়ে খুব চুলকায়, খচ খচ করে, চোখ থেকে আঠা আঠা পানি বা সুতার মতন পিছুটি আসে। চোখ চুলকাতে শুরু করলে মনে হয় আমি আরও চুলকায়। চোখের পাপড়ির ঝিল্লি পর্দা (নেত্র পর্দা) ফুলে ওঠে। সঙ্গে সঙ্গে চোখের দৃষ্টিরও সমস্যা হয়। অনেক সময় নেত্র স্বচ্ছের পাশে মোটা মোটা দানা দেখা যায়। চোখের এলার্জিকে আমরা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এলার্জিক কঞ্জান্টিভাইটিস বলি।

চিকিৎসা: প্রথমেই কারণ খুঁজে বের করতে হবে এবং কারণ খুঁজে পাওয়া যায় তাহলে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং সমস্যার সমাধান হবে। সাধারণত পুকুর, নদী, বাঁওড়ের পরিষ্কার পানিতে গোসল, পোশাক-পরিচ্ছদ পরিষ্কার রাখা, বাড়ির ভেতরে অপরিচ্ছন্নতা দূর করতে হবে। ব্যবহার্য কাপড়-চোপড় রোদে দিলে কাপড়ের মধ্যে ‘মাইট’ জাতীয় পরজীবী বাস করে সেগুলো মারা যায়। অনেকেই খাবারকে এলার্জিপ্রধান কারণ বলে মনে করেন। তার পরিমাণ অনেক কম। তারপরও বিশেষ কোনো খাদ্যের প্রতি অনীহা বা সমস্যা থাকলে সেটা বর্জন করা যেতে পারে। রক্ত পরীক্ষায় এলার্জি কোষ, আইজিই পরীক্ষা করলে রোগের কারণ খুঁজে যেতে পারে। পরিশেষে নিজের সাবধানতা এলার্জি থেকে মুক্ত করতে পারে।

[চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ও ফেকো সার্জন, যশোর]