ঢাকা ১১:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাসপাতালে লাশ রেখে পালালেন স্বামী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রেমের বিয়ের মাত্র আড়াই মাসের মধ্যে পারিবারিক বিরোধে খাবারে বিষ মিশিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান রিনা আক্তার (১৯)। স্বামী পিয়াল মিয়া (২৪) ও তার স্বজনরা লাশ রেখে পালিয়ে যান।

খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার নিহত রিনার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের পর নেত্রকোনার মদন উপজেলার বাশরি গ্রামে বাবার বাড়িতে এনে রাতে দাফন করা হয়।

স্বজনসহ স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের একটি গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের বাশরি গ্রামের জাকির মিয়ার মেয়ে রিনার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী কেন্দুয়া উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামের বিল্লাল বেপারির ছেলে পিয়াল মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপরই তারা প্রায় আড়াই মাস পর বিয়ে করেন।

বিয়ের পর কেন্দুয়ার নওয়াপাড়া ছেলের বাড়িতে চলে আসে দু’জন। এর কয়েকদিন পর পিয়াল জানায়, তিনি রিনার সঙ্গে সংসার করবে না। এরপর গত বুধবার ইফতারের পর রিনা বিষ খেয়েছে বলে পিয়ালের বড় ভাই পিয়াস রিনার বাবাকে জানায়।

অন্যদিকে বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হতে থাকলে তাকে নিয়ে কেন্দুয়া হাসপাতালে যায়। সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহে পাঠান চিকিৎসকরা। কিন্তু ময়মনসিংহে গেলে রিনা মারা যায়। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃতদেহ ফেলে রেখেই সকলে পালিয়ে যান। এমনকি গ্রামের বাড়ি থেকে গরু-ছাগল সব নিয়ে পালিয়ে যান।

রিনার দাদা জুলহাস মিয়া জানান, রিনা ভালো বেতনের চাকরি করত। সেখান থেকে প্রেম হলে বিয়ে করেন দু’জন। কিন্তু বিয়ের পর থেকে পছন্দ হয় না বলে পিয়াল অত্যাচার শুরু করে। বুধবার পোলাওয়ের সঙ্গে বিষ প্রয়োগ করে খাওয়ায় এবং আমাদেরকে সঠিক তথ্য না দেওয়ায় আমরা বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরাঘুরি করি। লাশ ফেলে কিভাবে চলে যায়, কোনো অপরাধ না করলে? উল্টো নাটক সাজিয়েছে যে রিনা বিষ খেয়েছে। দাফনের পর মামলা রুজু করা হবে।

এ ব্যাপারে কেন্দুয়া থানার ওসি মো. মেহেদি মাকসুদ বলেন, খোঁজ নিয়ে আমরা ছেলের বাড়ি যাই। কিন্তু সবাই পলাতক। লাশের দাফন শেষে মামলা করবে স্বজনরা। সে অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

হাসপাতালে লাশ রেখে পালালেন স্বামী

আপডেট সময় ১১:২৫:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রেমের বিয়ের মাত্র আড়াই মাসের মধ্যে পারিবারিক বিরোধে খাবারে বিষ মিশিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান রিনা আক্তার (১৯)। স্বামী পিয়াল মিয়া (২৪) ও তার স্বজনরা লাশ রেখে পালিয়ে যান।

খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার নিহত রিনার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের পর নেত্রকোনার মদন উপজেলার বাশরি গ্রামে বাবার বাড়িতে এনে রাতে দাফন করা হয়।

স্বজনসহ স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের একটি গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের বাশরি গ্রামের জাকির মিয়ার মেয়ে রিনার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী কেন্দুয়া উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামের বিল্লাল বেপারির ছেলে পিয়াল মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপরই তারা প্রায় আড়াই মাস পর বিয়ে করেন।

বিয়ের পর কেন্দুয়ার নওয়াপাড়া ছেলের বাড়িতে চলে আসে দু’জন। এর কয়েকদিন পর পিয়াল জানায়, তিনি রিনার সঙ্গে সংসার করবে না। এরপর গত বুধবার ইফতারের পর রিনা বিষ খেয়েছে বলে পিয়ালের বড় ভাই পিয়াস রিনার বাবাকে জানায়।

অন্যদিকে বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হতে থাকলে তাকে নিয়ে কেন্দুয়া হাসপাতালে যায়। সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহে পাঠান চিকিৎসকরা। কিন্তু ময়মনসিংহে গেলে রিনা মারা যায়। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃতদেহ ফেলে রেখেই সকলে পালিয়ে যান। এমনকি গ্রামের বাড়ি থেকে গরু-ছাগল সব নিয়ে পালিয়ে যান।

রিনার দাদা জুলহাস মিয়া জানান, রিনা ভালো বেতনের চাকরি করত। সেখান থেকে প্রেম হলে বিয়ে করেন দু’জন। কিন্তু বিয়ের পর থেকে পছন্দ হয় না বলে পিয়াল অত্যাচার শুরু করে। বুধবার পোলাওয়ের সঙ্গে বিষ প্রয়োগ করে খাওয়ায় এবং আমাদেরকে সঠিক তথ্য না দেওয়ায় আমরা বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরাঘুরি করি। লাশ ফেলে কিভাবে চলে যায়, কোনো অপরাধ না করলে? উল্টো নাটক সাজিয়েছে যে রিনা বিষ খেয়েছে। দাফনের পর মামলা রুজু করা হবে।

এ ব্যাপারে কেন্দুয়া থানার ওসি মো. মেহেদি মাকসুদ বলেন, খোঁজ নিয়ে আমরা ছেলের বাড়ি যাই। কিন্তু সবাই পলাতক। লাশের দাফন শেষে মামলা করবে স্বজনরা। সে অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।