ঢাকা ০৯:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

ভিসা বন্ড বা জামানত আরোপ দুঃখজনক, তবে অস্বাভাবিক নয় : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত আরোপের সিদ্ধান্তকে দুঃখজনক হলেও, অস্বাভাবিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্ত শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়; যেসব দেশের ক্ষেত্রে অভিবাসনসংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে, তাদের অনেককেই এই তালিকায় রাখা হয়েছে।’

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক সেবা ব্যবস্থায় নির্ভরতার প্রবণতা বেশি, তাদের ওপর এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সে তালিকায় বাংলাদেশ থাকাটা আমার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয় না। অবশ্যই এটি দুঃখজনক ও কষ্টকর।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রক্রিয়া নতুন নয় এবং দীর্ঘদিন ধরেই চালু রয়েছে। এক বছরে হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত হলে বর্তমান সরকারের দায় থাকার প্রশ্ন উঠত। তবে যেহেতু এটি দীর্ঘদিনের একটি নীতি, তাই এর দায় আগের সব সরকারের নীতিগত সীমাবদ্ধতার সঙ্গেই যুক্ত।’

অনিয়মিত অভিবাসনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার প্রথম দিন থেকেই এ প্রবণতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধ করাই একমাত্র সমাধান। যতদিন এটি বন্ধ করা যাবে না, ততদিন ভূমধ্যসাগরে মানুষের মৃত্যুর খবর আসতেই থাকবে।’

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, পর্যাপ্ত সামর্থ্য না থাকা সত্ত্বেও ট্যুরিস্ট ভিসায় বিভিন্ন দেশে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পথে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতা রোধ করা না গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।

এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে ৩৮টি দেশের নাগরিকদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বা জামানত দিতে হবে। গত বছরের আগস্টে প্রথমে ছয়টি দেশের নাম তালিকায় যুক্ত করা হয়। পরে আরও কয়েক দফায় দেশ যুক্ত হয়ে সর্বশেষ মঙ্গলবার বাংলাদেশসহ ২৫টি দেশের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নতুন করে যুক্ত হওয়া অধিকাংশ দেশের জন্য এই শর্ত আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

ভিসা বন্ড আরোপ প্রত্যাহারে সরকার কোনো উদ্যোগ নেবে কি না এ প্রশ্নে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘বিষয়টি সদ্য কার্যকর হয়েছে। সরকার প্রচলিত কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে এবং বাংলাদেশকে এ সিদ্ধান্ত থেকে অব্যাহতি দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদিতে হামলার প্রভাবে ৫১ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী

ভিসা বন্ড বা জামানত আরোপ দুঃখজনক, তবে অস্বাভাবিক নয় : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৬:২০:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত আরোপের সিদ্ধান্তকে দুঃখজনক হলেও, অস্বাভাবিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্ত শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়; যেসব দেশের ক্ষেত্রে অভিবাসনসংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে, তাদের অনেককেই এই তালিকায় রাখা হয়েছে।’

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক সেবা ব্যবস্থায় নির্ভরতার প্রবণতা বেশি, তাদের ওপর এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সে তালিকায় বাংলাদেশ থাকাটা আমার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয় না। অবশ্যই এটি দুঃখজনক ও কষ্টকর।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রক্রিয়া নতুন নয় এবং দীর্ঘদিন ধরেই চালু রয়েছে। এক বছরে হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত হলে বর্তমান সরকারের দায় থাকার প্রশ্ন উঠত। তবে যেহেতু এটি দীর্ঘদিনের একটি নীতি, তাই এর দায় আগের সব সরকারের নীতিগত সীমাবদ্ধতার সঙ্গেই যুক্ত।’

অনিয়মিত অভিবাসনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার প্রথম দিন থেকেই এ প্রবণতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধ করাই একমাত্র সমাধান। যতদিন এটি বন্ধ করা যাবে না, ততদিন ভূমধ্যসাগরে মানুষের মৃত্যুর খবর আসতেই থাকবে।’

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, পর্যাপ্ত সামর্থ্য না থাকা সত্ত্বেও ট্যুরিস্ট ভিসায় বিভিন্ন দেশে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পথে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতা রোধ করা না গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।

এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে ৩৮টি দেশের নাগরিকদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বা জামানত দিতে হবে। গত বছরের আগস্টে প্রথমে ছয়টি দেশের নাম তালিকায় যুক্ত করা হয়। পরে আরও কয়েক দফায় দেশ যুক্ত হয়ে সর্বশেষ মঙ্গলবার বাংলাদেশসহ ২৫টি দেশের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নতুন করে যুক্ত হওয়া অধিকাংশ দেশের জন্য এই শর্ত আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

ভিসা বন্ড আরোপ প্রত্যাহারে সরকার কোনো উদ্যোগ নেবে কি না এ প্রশ্নে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘বিষয়টি সদ্য কার্যকর হয়েছে। সরকার প্রচলিত কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে এবং বাংলাদেশকে এ সিদ্ধান্ত থেকে অব্যাহতি দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।’