ঢাকা ০৯:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

স্তন ক্যান্সারে এশিয়ায় শীর্ষে পাকিস্তান

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

এশিয়ার মধ্যে স্তন ক্যান্সারের হার সবচেয়ে বেশি পাকিস্তানে। প্রতি নয়জন নারীর মধ্যে একজনের জীবনে এই রোগের ঝুঁকি রয়েছে। বিশ্বব্যাপী এটি একটি বড় স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২২ সালে ২৩ লাখ নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং প্রায় ৬ লাখ ৭০ হাজারের মৃত্যু ঘটে।

পাকিস্তানের মারুফ ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের মেডিক্যাল ডিরেক্টর ডা. মীর ওয়াহিদ এসব তথ্য জানিয়েছেন। শনিবার হাসপাতালের স্তন ক্যান্সার সচেতনতা কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. ওয়াহিদ বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে জীবন রক্ষা করাই প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। সঠিক চিকিৎসা পেলে স্থানীয় বা আঞ্চলিক স্তন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীরা ২০ বছরের বেশি সময় বেঁচে থাকতে পারেন।
মারুফ হাসপাতালের স্তন ক্যান্সার সার্জন ডা. সাইরা মাহমুদ ক্যান্সারের বৈশ্বিক প্রভাব তুলে ধরে বলেন, শুধু ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩ লাখ ১০ হাজার ৭২০ নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সচেতনতা কর্মসূচিতে নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে শিক্ষাদান করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, জীবনযাপনের বিভিন্ন অভ্যাস যেমন স্থূলতা, ধূমপান ও অ্যালকোহল গ্রহণ ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। নারীদের নিয়মিত স্তন পরীক্ষা করতে উৎসাহিত করেন তিনি, যাতে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দ্রুত শনাক্ত করা যায়।

রেডিওলজি বিভাগের প্রধান ডা. আয়েশা আমিন বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার শনাক্ত হলে এটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। আমরা আমাদের সেশনের মাধ্যমে মেমোগ্রাফি প্রোগ্রামগুলোকে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করে তুলেছি, যাতে আরও বেশি নারী সচেতন হয়ে নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পদক্ষেপ নিতে পারেন।

হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হারুন নাসির জানান, তাদের তিন মাসব্যাপী সচেতনতা কর্মসূচি বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠী, আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে শুরু করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। এতে মানুষের মধ্যে ক্যান্সারের লক্ষণ, প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি অক্টোবরে সাধারণ সচেতনতা মাসের সীমা অতিক্রম করে নভেম্বর পর্যন্ত চলে। এতে অসচ্ছল জনগোষ্ঠী, ছোট শিল্প কারখানার কর্মী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংগঠনের সাথে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

স্তন ক্যান্সারে এশিয়ায় শীর্ষে পাকিস্তান

আপডেট সময় ১১:১৭:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৪

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

এশিয়ার মধ্যে স্তন ক্যান্সারের হার সবচেয়ে বেশি পাকিস্তানে। প্রতি নয়জন নারীর মধ্যে একজনের জীবনে এই রোগের ঝুঁকি রয়েছে। বিশ্বব্যাপী এটি একটি বড় স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২২ সালে ২৩ লাখ নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং প্রায় ৬ লাখ ৭০ হাজারের মৃত্যু ঘটে।

পাকিস্তানের মারুফ ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের মেডিক্যাল ডিরেক্টর ডা. মীর ওয়াহিদ এসব তথ্য জানিয়েছেন। শনিবার হাসপাতালের স্তন ক্যান্সার সচেতনতা কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. ওয়াহিদ বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে জীবন রক্ষা করাই প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। সঠিক চিকিৎসা পেলে স্থানীয় বা আঞ্চলিক স্তন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীরা ২০ বছরের বেশি সময় বেঁচে থাকতে পারেন।
মারুফ হাসপাতালের স্তন ক্যান্সার সার্জন ডা. সাইরা মাহমুদ ক্যান্সারের বৈশ্বিক প্রভাব তুলে ধরে বলেন, শুধু ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩ লাখ ১০ হাজার ৭২০ নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সচেতনতা কর্মসূচিতে নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে শিক্ষাদান করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, জীবনযাপনের বিভিন্ন অভ্যাস যেমন স্থূলতা, ধূমপান ও অ্যালকোহল গ্রহণ ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। নারীদের নিয়মিত স্তন পরীক্ষা করতে উৎসাহিত করেন তিনি, যাতে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দ্রুত শনাক্ত করা যায়।

রেডিওলজি বিভাগের প্রধান ডা. আয়েশা আমিন বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার শনাক্ত হলে এটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। আমরা আমাদের সেশনের মাধ্যমে মেমোগ্রাফি প্রোগ্রামগুলোকে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করে তুলেছি, যাতে আরও বেশি নারী সচেতন হয়ে নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পদক্ষেপ নিতে পারেন।

হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হারুন নাসির জানান, তাদের তিন মাসব্যাপী সচেতনতা কর্মসূচি বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠী, আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে শুরু করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। এতে মানুষের মধ্যে ক্যান্সারের লক্ষণ, প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি অক্টোবরে সাধারণ সচেতনতা মাসের সীমা অতিক্রম করে নভেম্বর পর্যন্ত চলে। এতে অসচ্ছল জনগোষ্ঠী, ছোট শিল্প কারখানার কর্মী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংগঠনের সাথে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।