আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:
গত বছর থিম্পুতে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের প্লে অফে ভুটানের কাছে হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই হার যেন এক কলঙ্ক-তিলক হয়ে আছে বাংলাদেশের ফুটবলে। ৩-১ গোলের সেই হারকে অনেকে ‘অঘটন’ বলতে চান, কিন্তু ভুটান সে ম্যাচটা জিতেছিল রীতিমতো পরিকল্পনা করে, ঠান্ডা মাথায়। নির্দিষ্ট করে বাংলাদেশের ফুটবলারদের খেলা পর্যালোচনা করেই সে ম্যাচটির কৌশল সাজিয়েছিল তারা। ঢাকায় প্রথম লেগের খেলা গোলশূন্য ড্র হওয়ার পরপরই ভুটান আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছিল থিম্পুর কন্ডিশনে তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ কোনোমতেই পেরে উঠবে না!
বাংলাদেশের ফুটবলারদের খুব ভালো করেই চিনেছিলেন ভুটানের জার্মান কোচ টর্সটেন স্পিটলার। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, বেশি বয়সের বাংলাদেশি ফুটবলারদের ওপর একটি চাপ সৃষ্টি করতে পারলেই তারা এলোমেলো হয়ে পড়বে। নিজ দলের কুশলী ও প্রতিভাবান ফুটবলারদের ওপর যথেষ্ট আস্থাও ছিল তাঁর। তা ছাড়া ঘরের মাঠে গোলশূন্য ড্র করার পর এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে সুযোগ করে নেওয়া না-নেওয়া নিয়ে বাংলাদেশ যে প্রচণ্ড চাপের মুখে আছে, ভুটানের জার্মান কোচ জানতেন সেটিও।
মোটকথা বাংলাদেশের দুর্বলতাগুলোর পূর্ণ সদ্ব্যবহারই এক বছর আগে থিম্পুতে করেছিল ভুটান। হ্যাঁ, সেই ভুটান, যে ভুটান এর আগে কখনোই বাংলাদেশের বিপক্ষে জিততে পারেনি। ২০১৫ সালে ভারতের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপেও যে ভুটান বাংলাদেশের কাছে হেরেছিল ৩-০ গোলে।
সে ম্যাচে ভুটানের অধিনায়ক কারমা শেডরিফ শেরিংয়ের অনন্য এক স্মৃতি বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়। তাঁর মতে, বাংলাদেশের বিপক্ষে সেই জয় নাকি ভুটানের সামগ্রিক ফুটবলকে অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছে। আত্মবিশ্বাসের জ্বালানির জোগান দিয়েছে। শেরিফও জানিয়েছেন, সে ম্যাচে বাংলাদেশকে ভুটান হারিয়েছিল একেবারে ছক কেটে, ছক অনুযায়ী খেলে, ‘ঢাকায় গোলশূন্য ড্র করে আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে যায়—আমরা বুঝতে পারি বাংলাদেশকে খুব করেই হারানো সম্ভব। বাংলাদেশের দুর্বলতাগুলোও আমাদের সামনে উঠে আসে। প্রতিটি খেলোয়াড়কে নিয়ে আমরা আলাদা আলাদা পরিকল্পনা করি। থিম্পুর ম্যাচে আমরা কেবল সেই পরিকল্পনাগুলোই বাস্তবায়ন করি।’
ম্যাচের আগে কোচ স্পিটলারের ব্রিফিং ভুটানি ফুটবলারদের দারুণ উদ্বুদ্ধ করে বলেই জানিয়েছেন শেরিং, ‘ম্যাচের আগে কোচ বলেছিলেন দারুণ কিছু কথা। তিনি আমাদের বুঝিয়েছিলেন, এই ম্যাচটা যদি আমরা হেরে যাই, তাহলে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এটি হেরে গেলে বাংলাদেশের ফুটবলাররা তাদের দেশে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়বে। সুতরাং চাপটা তাদের ওপরই থাকবে। কোচ বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের বেশি বয়সের কথাও তুলে ধরেছিলেন। বলেছিলেন, ম্যাচে তোমরা যদি ওদের চেপে ধরতে পার, তাহলে ওদের বয়স্ক ফুটবলাররা সেই চাপ নিতে পারবে না। এমনিতেই ওরা মানসিকভাবে অনেকটা পিছিয়ে থেকেই ম্যাচে নামবে।’
কোচের আরও একটি কথা এখনো কানে ভাসে শেরিংয়ের, ‘বাংলাদেশকে হারাতে পারলে ভুটানের ফুটবলের চেহারাই বদলে যাবে। এটা নিশ্চয়ই তোমরা অনুধাবন করতে পারছ।’
খেলোয়াড়েরা সেটি খুব ভালোমতোই বুঝতে পেরেছিলেন। আর পেরেছিলেন বলেই ভুটান আজ উন্নতির দিকেই হাঁটছে। স্বপ্ন দেখছে নিজেদের ফুটবলের চেহারা পাল্টে দেওয়ার। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের মতোই আত্মবিশ্বাসী তারা, ভুটানের ফুটবল একদিন অন্য উচ্চতায় পৌঁছাবেই।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























