ঢাকা ০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

পাঁচ বছর ধরে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ, অভিযোগ বিচারকের গাড়ি চালকের বিরুদ্ধে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ফেনীতে এক গৃহবধূকে অজ্ঞান করে ধর্ষণের পর নগ্ন অবস্থার ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করে গত পাঁচ বছরে ৭৫ বার ধর্ষণ করেছেন মোবারক হোসেন জুয়েল নামে এক গাড়ি চালক। এছাড়া নগ্ন ছবির ভয় দেখিয়ে গৃহবধূর কাছ থেকে বিভিন্ন ধাপে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে যায় জুয়েল।

এমন অভিযোগে রবিবার বিকেলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ ওসমান হায়দারের আদালতে জুয়েলের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ওই গৃহবধূ। পরে বিচারক অভিযোগটি গ্রহণ করে ফেনী পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

মোবারক হোসেন জুয়েল ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের বাথানিয়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে। তিনি ফেনীর নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এক বিচারকের গাড়ি চালক।

মামলার বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম নান্টু জানান, নির্যাতিত গৃহবধূ নিজে বাদী হয়ে নারী নির্যাতন আইনে জুয়েলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার বিবরণে বলা হয়, গৃহবধূর স্বামীর এক বন্ধুর সঙ্গে আসামি মোবারক হোসেন জুয়েল ২-৩ বার তার বাসায় আসা যাওয়া করে। তখন মোবারক একজন গাড়ি চালক হিসেবে নিজের পরিচয় দেন। ২০১৭ সালের ১২ মার্চ আসামি মোবারক হোসেন বাসায় গিয়ে তার স্বামীকে খোঁজ করেন। তখন জুয়েল এক গ্লাস পানি খাওয়ানোর জন্য অনুরোধ করে ঘরে প্রবেশ করে রুমাল দিয়ে তাকে অজ্ঞান করে ধর্ষণ করে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, পরে জ্ঞান ফেরার পর গৃহবধূ সামাজিক লজ্জার ভয়ে স্বামীকে ঘটনা না বলে চুপ থাকেন। পরের দিন রাত ৯টায় জুয়েল জানায় তাকে ধর্ষণ করেছেন এবং তার নগ্ন অবস্থার ছবি তুলে রেখেছেন। পরে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে চাঁদা দাবি করেন এবং ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন ধাপে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে যান। একইভাবে ভুক্তভোগীকে ব্ল্যাকমেইল করে বিভিন্ন সময় প্রায় ৭৫ বার ধর্ষণ করে জুয়েল।

মামলার অভিযোগে আরো বলা হয়, প্রায় দুই বছর আগে জুয়েলের নির্যাতন থেকে মুক্তি পেতে বাসা পরিবর্তন করেন নিপীড়নের শিকার গৃহবধূ। পরে নতুন ভাড়া বাসায়ও আসামি ওই নারীকে আগের মতো ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। পরে আসামি জুয়েলের দাবি করা আরো দুই লাখ টাকা দিয়ে তার হাত-পায়ে ধরে কান্না করে মুক্তি চান।

এর মধ্যে গত ৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় গৃহবধূর স্বামী দোকানে থাকায় ও সন্তান মাদরাসায় থাকার সুযোগে জুয়েল তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।

এদিকে ধর্ষণ থেকে মুক্তি পেতে এবং জুয়েলের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

২৬ অক্টোবর চারদিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

পাঁচ বছর ধরে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ, অভিযোগ বিচারকের গাড়ি চালকের বিরুদ্ধে

আপডেট সময় ১০:৩৯:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ফেনীতে এক গৃহবধূকে অজ্ঞান করে ধর্ষণের পর নগ্ন অবস্থার ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করে গত পাঁচ বছরে ৭৫ বার ধর্ষণ করেছেন মোবারক হোসেন জুয়েল নামে এক গাড়ি চালক। এছাড়া নগ্ন ছবির ভয় দেখিয়ে গৃহবধূর কাছ থেকে বিভিন্ন ধাপে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে যায় জুয়েল।

এমন অভিযোগে রবিবার বিকেলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ ওসমান হায়দারের আদালতে জুয়েলের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ওই গৃহবধূ। পরে বিচারক অভিযোগটি গ্রহণ করে ফেনী পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

মোবারক হোসেন জুয়েল ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের বাথানিয়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে। তিনি ফেনীর নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এক বিচারকের গাড়ি চালক।

মামলার বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম নান্টু জানান, নির্যাতিত গৃহবধূ নিজে বাদী হয়ে নারী নির্যাতন আইনে জুয়েলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার বিবরণে বলা হয়, গৃহবধূর স্বামীর এক বন্ধুর সঙ্গে আসামি মোবারক হোসেন জুয়েল ২-৩ বার তার বাসায় আসা যাওয়া করে। তখন মোবারক একজন গাড়ি চালক হিসেবে নিজের পরিচয় দেন। ২০১৭ সালের ১২ মার্চ আসামি মোবারক হোসেন বাসায় গিয়ে তার স্বামীকে খোঁজ করেন। তখন জুয়েল এক গ্লাস পানি খাওয়ানোর জন্য অনুরোধ করে ঘরে প্রবেশ করে রুমাল দিয়ে তাকে অজ্ঞান করে ধর্ষণ করে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, পরে জ্ঞান ফেরার পর গৃহবধূ সামাজিক লজ্জার ভয়ে স্বামীকে ঘটনা না বলে চুপ থাকেন। পরের দিন রাত ৯টায় জুয়েল জানায় তাকে ধর্ষণ করেছেন এবং তার নগ্ন অবস্থার ছবি তুলে রেখেছেন। পরে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে চাঁদা দাবি করেন এবং ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন ধাপে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে যান। একইভাবে ভুক্তভোগীকে ব্ল্যাকমেইল করে বিভিন্ন সময় প্রায় ৭৫ বার ধর্ষণ করে জুয়েল।

মামলার অভিযোগে আরো বলা হয়, প্রায় দুই বছর আগে জুয়েলের নির্যাতন থেকে মুক্তি পেতে বাসা পরিবর্তন করেন নিপীড়নের শিকার গৃহবধূ। পরে নতুন ভাড়া বাসায়ও আসামি ওই নারীকে আগের মতো ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। পরে আসামি জুয়েলের দাবি করা আরো দুই লাখ টাকা দিয়ে তার হাত-পায়ে ধরে কান্না করে মুক্তি চান।

এর মধ্যে গত ৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় গৃহবধূর স্বামী দোকানে থাকায় ও সন্তান মাদরাসায় থাকার সুযোগে জুয়েল তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।

এদিকে ধর্ষণ থেকে মুক্তি পেতে এবং জুয়েলের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ।