ঢাকা ০৯:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায় পটুয়াখালীতে দুই বান্ধবীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার ধর্ষকের মা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জরুরি নির্দেশনা শিশু পানিতে পড়লেই বাজবে সাইরেন, কল যাবে ফোনে,দাবি ভোলার তরুণ উদ্ভাবকএর আমেরিকার উস্কানিতে ইরানে বিক্ষোভ : মাসুদ পেজেশকিয়ান আমার মনোনয়ন বাতিল করার কোনো কারণ ছিল না: মাহমুদুর রহমান মান্না ব্রিটিশ সরকারকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিলেন ইলন মাস্ক ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনে বাণিজ্যে প্রভাব পড়বে না : শেখ বশিরউদ্দীন

পাঁচ বছর ধরে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ, অভিযোগ বিচারকের গাড়ি চালকের বিরুদ্ধে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ফেনীতে এক গৃহবধূকে অজ্ঞান করে ধর্ষণের পর নগ্ন অবস্থার ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করে গত পাঁচ বছরে ৭৫ বার ধর্ষণ করেছেন মোবারক হোসেন জুয়েল নামে এক গাড়ি চালক। এছাড়া নগ্ন ছবির ভয় দেখিয়ে গৃহবধূর কাছ থেকে বিভিন্ন ধাপে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে যায় জুয়েল।

এমন অভিযোগে রবিবার বিকেলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ ওসমান হায়দারের আদালতে জুয়েলের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ওই গৃহবধূ। পরে বিচারক অভিযোগটি গ্রহণ করে ফেনী পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

মোবারক হোসেন জুয়েল ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের বাথানিয়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে। তিনি ফেনীর নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এক বিচারকের গাড়ি চালক।

মামলার বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম নান্টু জানান, নির্যাতিত গৃহবধূ নিজে বাদী হয়ে নারী নির্যাতন আইনে জুয়েলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার বিবরণে বলা হয়, গৃহবধূর স্বামীর এক বন্ধুর সঙ্গে আসামি মোবারক হোসেন জুয়েল ২-৩ বার তার বাসায় আসা যাওয়া করে। তখন মোবারক একজন গাড়ি চালক হিসেবে নিজের পরিচয় দেন। ২০১৭ সালের ১২ মার্চ আসামি মোবারক হোসেন বাসায় গিয়ে তার স্বামীকে খোঁজ করেন। তখন জুয়েল এক গ্লাস পানি খাওয়ানোর জন্য অনুরোধ করে ঘরে প্রবেশ করে রুমাল দিয়ে তাকে অজ্ঞান করে ধর্ষণ করে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, পরে জ্ঞান ফেরার পর গৃহবধূ সামাজিক লজ্জার ভয়ে স্বামীকে ঘটনা না বলে চুপ থাকেন। পরের দিন রাত ৯টায় জুয়েল জানায় তাকে ধর্ষণ করেছেন এবং তার নগ্ন অবস্থার ছবি তুলে রেখেছেন। পরে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে চাঁদা দাবি করেন এবং ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন ধাপে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে যান। একইভাবে ভুক্তভোগীকে ব্ল্যাকমেইল করে বিভিন্ন সময় প্রায় ৭৫ বার ধর্ষণ করে জুয়েল।

মামলার অভিযোগে আরো বলা হয়, প্রায় দুই বছর আগে জুয়েলের নির্যাতন থেকে মুক্তি পেতে বাসা পরিবর্তন করেন নিপীড়নের শিকার গৃহবধূ। পরে নতুন ভাড়া বাসায়ও আসামি ওই নারীকে আগের মতো ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। পরে আসামি জুয়েলের দাবি করা আরো দুই লাখ টাকা দিয়ে তার হাত-পায়ে ধরে কান্না করে মুক্তি চান।

এর মধ্যে গত ৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় গৃহবধূর স্বামী দোকানে থাকায় ও সন্তান মাদরাসায় থাকার সুযোগে জুয়েল তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।

এদিকে ধর্ষণ থেকে মুক্তি পেতে এবং জুয়েলের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কলম্বিয়ায় বিমান বিধ্বস্তে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নিহত

পাঁচ বছর ধরে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ, অভিযোগ বিচারকের গাড়ি চালকের বিরুদ্ধে

আপডেট সময় ১০:৩৯:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ফেনীতে এক গৃহবধূকে অজ্ঞান করে ধর্ষণের পর নগ্ন অবস্থার ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করে গত পাঁচ বছরে ৭৫ বার ধর্ষণ করেছেন মোবারক হোসেন জুয়েল নামে এক গাড়ি চালক। এছাড়া নগ্ন ছবির ভয় দেখিয়ে গৃহবধূর কাছ থেকে বিভিন্ন ধাপে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে যায় জুয়েল।

এমন অভিযোগে রবিবার বিকেলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ ওসমান হায়দারের আদালতে জুয়েলের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ওই গৃহবধূ। পরে বিচারক অভিযোগটি গ্রহণ করে ফেনী পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

মোবারক হোসেন জুয়েল ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের বাথানিয়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে। তিনি ফেনীর নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এক বিচারকের গাড়ি চালক।

মামলার বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম নান্টু জানান, নির্যাতিত গৃহবধূ নিজে বাদী হয়ে নারী নির্যাতন আইনে জুয়েলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার বিবরণে বলা হয়, গৃহবধূর স্বামীর এক বন্ধুর সঙ্গে আসামি মোবারক হোসেন জুয়েল ২-৩ বার তার বাসায় আসা যাওয়া করে। তখন মোবারক একজন গাড়ি চালক হিসেবে নিজের পরিচয় দেন। ২০১৭ সালের ১২ মার্চ আসামি মোবারক হোসেন বাসায় গিয়ে তার স্বামীকে খোঁজ করেন। তখন জুয়েল এক গ্লাস পানি খাওয়ানোর জন্য অনুরোধ করে ঘরে প্রবেশ করে রুমাল দিয়ে তাকে অজ্ঞান করে ধর্ষণ করে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, পরে জ্ঞান ফেরার পর গৃহবধূ সামাজিক লজ্জার ভয়ে স্বামীকে ঘটনা না বলে চুপ থাকেন। পরের দিন রাত ৯টায় জুয়েল জানায় তাকে ধর্ষণ করেছেন এবং তার নগ্ন অবস্থার ছবি তুলে রেখেছেন। পরে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে চাঁদা দাবি করেন এবং ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন ধাপে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে যান। একইভাবে ভুক্তভোগীকে ব্ল্যাকমেইল করে বিভিন্ন সময় প্রায় ৭৫ বার ধর্ষণ করে জুয়েল।

মামলার অভিযোগে আরো বলা হয়, প্রায় দুই বছর আগে জুয়েলের নির্যাতন থেকে মুক্তি পেতে বাসা পরিবর্তন করেন নিপীড়নের শিকার গৃহবধূ। পরে নতুন ভাড়া বাসায়ও আসামি ওই নারীকে আগের মতো ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। পরে আসামি জুয়েলের দাবি করা আরো দুই লাখ টাকা দিয়ে তার হাত-পায়ে ধরে কান্না করে মুক্তি চান।

এর মধ্যে গত ৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় গৃহবধূর স্বামী দোকানে থাকায় ও সন্তান মাদরাসায় থাকার সুযোগে জুয়েল তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।

এদিকে ধর্ষণ থেকে মুক্তি পেতে এবং জুয়েলের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ।