ঢাকা ০৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক পার্থকে ছেড়ে দিলেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনে ৩০ আসনে লড়বে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস

কোরআনের গুণে গুণান্বিত হতে হবে

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

পৃথিবীতে সবাই সফলতা লাভ করতে চায়। চাই সেটা ছোট থেকে বড় কোনো কাজের সফলতা বা বড় থেকে ছোট কোনো উদ্দেশ্যের সফলতা। তবে একজন মুসলমানের জীবনের প্রকৃত সফলতা হলো দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতা।

শুধু দুনিয়ার উন্নতি ও অগ্রগতির সাফল্য একজন মোমিনের জন্য যথেষ্ট নয়। কারণ মোমিন বিশ্বাস করে ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার এ জীবন শেষ করে একদিন চিরস্থায়ী আখেরাতের দিকে পাড়ি জমাতে হবে। সে জীবনে সুখ-শান্তি ও সফলতা লাভ করতে হবে। কোরআনে এসেছে একজন মুসলমানের জন্য সফলতা কোনটি।

এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রসুলের আনুগত্য করবে, তিনি তাঁকে এমন জান্নাতে দাখিল করবেন যার তলদেশে নহরগুলো প্রবাহিত। তারা তাতে থাকবে চিরদিন। আর এটাই মহাসফলতা। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রসুলের অবাধ্যতা করবে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করবে তিনি তাকে দাখিল করবেন জাহান্নামে, যাতে সে সর্বদা থাকবে এবং তার জন্য থাকবে লাঞ্ছনাকর শাস্তি।’ (সুরা নিসা, আয়াত ১৩-১৪)

প্রত্যেক মানুষের জন্ম-মৃত্যু চিরসত্য। জন্মের পর দুনিয়ার জীবন আর মৃত্যুর পর আখেরাতের জীবন। উভয় জীবনে আল্লাহর রহমত ও সন্তুষ্টি লাভ করাই প্রকৃত সফলতা।

এ প্রসঙ্গে কোরআনে এসেছে, ‘প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে এবং তোমাদের সবাইকে কিয়ামতের দিন (তোমাদের কর্মের) পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে। তখন যাকেই জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সে-ই প্রকৃত অর্থে সফলকাম। আর এ পার্থিব জীবন তো প্রতারণার উপকরণ ছাড়া কিছু নয়।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত ১৮৫)

অনেক সময় আমরা মনে করি একজন ব্যক্তি দুনিয়ায় ভালো আছে বলে সফলতা অর্জন করে ফেলেছে। অথচ শুধু দুনিয়ায় ভালো থাকা বা সুখে থাকা সফলতার মানদন্ড নয়। কোরআন দুনিয়ায় ভালো থাকাকে সফলতা হিসেবে বিবেচনা করেনি।

এ প্রসঙ্গে কোরআনে এসেছে, ‘সেদিন (কেয়ামতের দিন) যে ব্যক্তি থেকেই তা (জাহান্নামের শাস্তি) দূর করে দেওয়া হবে; তার প্রতি আল্লাহ বড়ই দয়া করলেন। আর সেটাই স্পষ্ট সফলতা।’ (সুরা আনয়াম, আয়াত ১৬)
কেয়ামতের মাঠে জান্নাতের সুসংবাদ অর্জন করাকে মোমিনদের জন্য সফলতা বলা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘(হে নবী) সেদিন আপনি মোমিন পুরুষ ও মোমিন নারীদের দেখবেন, তাদের সামনে ও ডান দিকে তাদের নুর ছোটাছুটি করছে। (তাদের বলা হবে) আজ তোমাদের জন্য এমন জান্নাতের সুসংবাদ, যার পাদদেশে নহরগুলো প্রবাহিত, যাতে তোমরা সর্বদা থাকবে। এটাই মহাসফলতা।’ (সুরা হাদিদ, আয়াত ১২)

যারা দুনিয়ায় আল্লাহকে ভয় করে জীবনযাপন করবে তারা উভয় জগতে সফল। তাদের জন্য সুসংবাদ রয়েছে কোরআনে।

এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, ‘স্মরণ রেখ, যারা আল্লাহর ঘনিষ্ঠ তাদের কোনো ভয় থাকবে না এবং তারা দুঃখিতও হবে না। তারা সেসব লোক, যারা ইমান এনেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করেছে। তাদের দুনিয়ার জীবনেও সুসংবাদ আছে এবং আখেরাতেও। আল্লাহর কথায় কোনো পরিবর্তন হয় না। এটাই মহাসফলতা।’ (সুরা ইউনুস, আয়াত ৬২-৬৪)

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি

কোরআনের গুণে গুণান্বিত হতে হবে

আপডেট সময় ০৭:৫৮:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

পৃথিবীতে সবাই সফলতা লাভ করতে চায়। চাই সেটা ছোট থেকে বড় কোনো কাজের সফলতা বা বড় থেকে ছোট কোনো উদ্দেশ্যের সফলতা। তবে একজন মুসলমানের জীবনের প্রকৃত সফলতা হলো দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতা।

শুধু দুনিয়ার উন্নতি ও অগ্রগতির সাফল্য একজন মোমিনের জন্য যথেষ্ট নয়। কারণ মোমিন বিশ্বাস করে ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার এ জীবন শেষ করে একদিন চিরস্থায়ী আখেরাতের দিকে পাড়ি জমাতে হবে। সে জীবনে সুখ-শান্তি ও সফলতা লাভ করতে হবে। কোরআনে এসেছে একজন মুসলমানের জন্য সফলতা কোনটি।

এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রসুলের আনুগত্য করবে, তিনি তাঁকে এমন জান্নাতে দাখিল করবেন যার তলদেশে নহরগুলো প্রবাহিত। তারা তাতে থাকবে চিরদিন। আর এটাই মহাসফলতা। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রসুলের অবাধ্যতা করবে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করবে তিনি তাকে দাখিল করবেন জাহান্নামে, যাতে সে সর্বদা থাকবে এবং তার জন্য থাকবে লাঞ্ছনাকর শাস্তি।’ (সুরা নিসা, আয়াত ১৩-১৪)

প্রত্যেক মানুষের জন্ম-মৃত্যু চিরসত্য। জন্মের পর দুনিয়ার জীবন আর মৃত্যুর পর আখেরাতের জীবন। উভয় জীবনে আল্লাহর রহমত ও সন্তুষ্টি লাভ করাই প্রকৃত সফলতা।

এ প্রসঙ্গে কোরআনে এসেছে, ‘প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে এবং তোমাদের সবাইকে কিয়ামতের দিন (তোমাদের কর্মের) পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে। তখন যাকেই জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সে-ই প্রকৃত অর্থে সফলকাম। আর এ পার্থিব জীবন তো প্রতারণার উপকরণ ছাড়া কিছু নয়।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত ১৮৫)

অনেক সময় আমরা মনে করি একজন ব্যক্তি দুনিয়ায় ভালো আছে বলে সফলতা অর্জন করে ফেলেছে। অথচ শুধু দুনিয়ায় ভালো থাকা বা সুখে থাকা সফলতার মানদন্ড নয়। কোরআন দুনিয়ায় ভালো থাকাকে সফলতা হিসেবে বিবেচনা করেনি।

এ প্রসঙ্গে কোরআনে এসেছে, ‘সেদিন (কেয়ামতের দিন) যে ব্যক্তি থেকেই তা (জাহান্নামের শাস্তি) দূর করে দেওয়া হবে; তার প্রতি আল্লাহ বড়ই দয়া করলেন। আর সেটাই স্পষ্ট সফলতা।’ (সুরা আনয়াম, আয়াত ১৬)
কেয়ামতের মাঠে জান্নাতের সুসংবাদ অর্জন করাকে মোমিনদের জন্য সফলতা বলা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘(হে নবী) সেদিন আপনি মোমিন পুরুষ ও মোমিন নারীদের দেখবেন, তাদের সামনে ও ডান দিকে তাদের নুর ছোটাছুটি করছে। (তাদের বলা হবে) আজ তোমাদের জন্য এমন জান্নাতের সুসংবাদ, যার পাদদেশে নহরগুলো প্রবাহিত, যাতে তোমরা সর্বদা থাকবে। এটাই মহাসফলতা।’ (সুরা হাদিদ, আয়াত ১২)

যারা দুনিয়ায় আল্লাহকে ভয় করে জীবনযাপন করবে তারা উভয় জগতে সফল। তাদের জন্য সুসংবাদ রয়েছে কোরআনে।

এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, ‘স্মরণ রেখ, যারা আল্লাহর ঘনিষ্ঠ তাদের কোনো ভয় থাকবে না এবং তারা দুঃখিতও হবে না। তারা সেসব লোক, যারা ইমান এনেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করেছে। তাদের দুনিয়ার জীবনেও সুসংবাদ আছে এবং আখেরাতেও। আল্লাহর কথায় কোনো পরিবর্তন হয় না। এটাই মহাসফলতা।’ (সুরা ইউনুস, আয়াত ৬২-৬৪)

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।