ঢাকা ১০:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখে গুরুতর আঘাত পেলেন যাত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্ত হত্যাকে বৈধতা দিয়েছেন: হাসনাত আবদুল্লাহ মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির বর্ষপূতি: শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগোতে হবে: ডা. জুবাইদা লুটপাটের জন্য ছাত্রজনতা রক্ত দেয়নি: হাসনাত আবদুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আঘাত না হানলে আজ ইসরাইলের অস্তিত্ব থাকত না: ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজধানীতে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা গণতন্ত্র না থাকায় অনেক এলাকার সমস্যা গুরুত্ব পায়নি: ডেপুটি স্পিকার ছাত্র-জনতার অধিকার রক্ষায় দলীয় প্রভাবমুক্ত রাষ্ট্রকাঠামো গড়ার বিকল্প নেই:নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্কুলমুখী করতে সাড়ে তিন লাখ শিশুকে স্কুল ড্রেস দেবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা

সোয়া কিলোমিটার সেতু করতে ১১ বছর

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর নির্মাণকাজ যেন শেষই হচ্ছে না। ২০১০ সালে হাতে নেয়া এই সোয়া কিলোমিটার (১২৬০ মিটার) সেতুর কাজ অদ্যবদি শেষ হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেতুটির নির্মাণ কাজ তখনই শেষ হবে, যখন কাজ শুরু হবে। গত সাত বছরে প্রকল্পের কাজ খুব একটা বাস্তবায়ন করতে পারেনি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। এর ফলে প্রকল্পের ব্যয় ইতোমধ্যে দ্বিগুণ করার প্রস্তাব এসেছে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

কমিশন কর্তৃপক্ষ জানায়, এর আগে পরপর তিনবার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এবার নতুন করে বাড়ানো হচ্ছে প্রকল্পের মেয়াদকাল। এ দফায় ২০২১ সাল নাগাদ মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। সঙ্গে বাড়ানো হচ্ছে প্রকল্পটির ব্যয়। এর ফলে ৩৭৭ কোটি টাকার প্রকল্পের ব্যয় ৬০৬ কোটি টাকায় উন্নিত হচ্ছে। পরিকল্পনা কমিশনে এ সংক্রান্ত এক প্রকল্প প্রস্তাব পাঠিয়েছে সড়ক ও জনপদ অধিদফতর।

জানা গেছে, ২০১০ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) এ সেতু নির্মানের প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে সেতুর কাজ শেষ করার কথা ছিল। প্রকল্পের মূল ব্যয় ৩৭৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকার মধ্যে সৌদি ঋণ ৩১১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ও সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৬৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

নতুন প্রস্তাবনায় প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়াবে ৬০৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ধরা হয়েছে ২৫৮ কোটি আর বাকি টাকা বৈদেশিক সহায়তা থেকে দেয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা সদরের সঙ্গে বন্দর উপজেলার সরাসরি যোগযোগ স্থাপনে এই প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। বর্তমানে এই অঞ্চলের লোকজন নৌকায় করে নারায়ণগঞ্চ শহরে যাতায়াত করছে। এতে তাদের ৩০ কিলোমিটার পথ বেশি পারি দিতে হচ্ছে। এই সেতুটি সম্পন্ন করা গেলে এই অঞ্চলের লোকজন সহজে নারায়ণগঞ্জ শহরে যাতায়াত করতে পারত।

পরিকল্পনা কমিশনের এক পর্যালোচনায় জানা গেছে, গত এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় সাত বছরে প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি হলো ১৫৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, যা ২৯ দশমিক ৩০ শতাংশ। প্রকল্পটি ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে শেষ করার কথা। এরপর ডিসেম্বর ২০১৪ পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। দ্বিতীয় দফায় আবার ডিসেম্বর ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি পায়। এ মেয়াদে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৫৩৯ কোটি ৬৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। পরে আবার জুন ২০১৭ মেয়াদে প্রকল্পের সময় বাড়ানো হয়। এখন জুন ২০২১ সাল নাগাদ সময় বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ব্যয় ৩৩৭ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াচ্ছে ৬০৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

এ প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক এম শামসুল হক বলেন, দরপত্র সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতার কারণে প্রকল্পের কাজ যথাসময়ে শুরু করা যায়নি। এখন চীনের সিনোহাইড্রো নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে। ফলে প্রস্তাবিত মেয়াদে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখে গুরুতর আঘাত পেলেন যাত্রী

সোয়া কিলোমিটার সেতু করতে ১১ বছর

আপডেট সময় ১২:৩০:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর নির্মাণকাজ যেন শেষই হচ্ছে না। ২০১০ সালে হাতে নেয়া এই সোয়া কিলোমিটার (১২৬০ মিটার) সেতুর কাজ অদ্যবদি শেষ হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেতুটির নির্মাণ কাজ তখনই শেষ হবে, যখন কাজ শুরু হবে। গত সাত বছরে প্রকল্পের কাজ খুব একটা বাস্তবায়ন করতে পারেনি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। এর ফলে প্রকল্পের ব্যয় ইতোমধ্যে দ্বিগুণ করার প্রস্তাব এসেছে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

কমিশন কর্তৃপক্ষ জানায়, এর আগে পরপর তিনবার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এবার নতুন করে বাড়ানো হচ্ছে প্রকল্পের মেয়াদকাল। এ দফায় ২০২১ সাল নাগাদ মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। সঙ্গে বাড়ানো হচ্ছে প্রকল্পটির ব্যয়। এর ফলে ৩৭৭ কোটি টাকার প্রকল্পের ব্যয় ৬০৬ কোটি টাকায় উন্নিত হচ্ছে। পরিকল্পনা কমিশনে এ সংক্রান্ত এক প্রকল্প প্রস্তাব পাঠিয়েছে সড়ক ও জনপদ অধিদফতর।

জানা গেছে, ২০১০ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) এ সেতু নির্মানের প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে সেতুর কাজ শেষ করার কথা ছিল। প্রকল্পের মূল ব্যয় ৩৭৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকার মধ্যে সৌদি ঋণ ৩১১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ও সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৬৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

নতুন প্রস্তাবনায় প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়াবে ৬০৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ধরা হয়েছে ২৫৮ কোটি আর বাকি টাকা বৈদেশিক সহায়তা থেকে দেয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা সদরের সঙ্গে বন্দর উপজেলার সরাসরি যোগযোগ স্থাপনে এই প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। বর্তমানে এই অঞ্চলের লোকজন নৌকায় করে নারায়ণগঞ্চ শহরে যাতায়াত করছে। এতে তাদের ৩০ কিলোমিটার পথ বেশি পারি দিতে হচ্ছে। এই সেতুটি সম্পন্ন করা গেলে এই অঞ্চলের লোকজন সহজে নারায়ণগঞ্জ শহরে যাতায়াত করতে পারত।

পরিকল্পনা কমিশনের এক পর্যালোচনায় জানা গেছে, গত এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় সাত বছরে প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি হলো ১৫৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, যা ২৯ দশমিক ৩০ শতাংশ। প্রকল্পটি ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে শেষ করার কথা। এরপর ডিসেম্বর ২০১৪ পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। দ্বিতীয় দফায় আবার ডিসেম্বর ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি পায়। এ মেয়াদে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৫৩৯ কোটি ৬৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। পরে আবার জুন ২০১৭ মেয়াদে প্রকল্পের সময় বাড়ানো হয়। এখন জুন ২০২১ সাল নাগাদ সময় বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ব্যয় ৩৩৭ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াচ্ছে ৬০৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

এ প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক এম শামসুল হক বলেন, দরপত্র সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতার কারণে প্রকল্পের কাজ যথাসময়ে শুরু করা যায়নি। এখন চীনের সিনোহাইড্রো নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে। ফলে প্রস্তাবিত মেয়াদে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।