অাকাশ নিউজ ডেস্ক:
দুই যুগ পর বাংলাদেশে জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়িতে পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। জন্ম নিয়ন্ত্রণের বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি খাবার বড়ি আরো আধুনিক ও সহনশীল করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ সরকার। ইতোমধ্যে তৃতীয় প্রজন্মের এই খাবার বড়ির (থার্ড জেনারেশন পিল) পরীক্ষামূলক গবেষণা শুরু হয়েছে।
প্রায় এক বছর মেয়াদী পরীক্ষামূলক গবেষনাটি পরিবার পরিকল্পনা সেবাপ্রদান কার্যক্রমের মাধ্যমে বাগেরহাটের সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা উপজেলার দুটি ইউনিয়নে পাইলট প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। এই গবেষনার ফলাফল ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচীতে তৃতীয় প্রজন্মের খাবার বড়ি অন্তর্ভূক্তকরণে সিদ্ধান্ত নিতে সরকারকে সাহায্য করবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম-সচিব ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর’র খুলনা অঞ্চলের পরিচালক ব্রজগোপাল ভৌমিক গত ২৪ সেপ্টেম্বর বাগেরহাটের শরণখোলায় তৃতীয় প্রজন্মের এ খাবার বড়ি গবেষনা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
জানা যায়, ১৯৯৪ সাল থেকে “সুখী” নামে খাবার বড়ি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর সারা দেশে বিতরণ করে আসছে। সুখী খাবার বড়ি’র চেয়ে আরও উন্নত মানের এবং পার্শপ্রতিক্রিয়াহীন খাবার বড়ি সরবরাহের চিন্তা মাথায় রেখে গবেষনা শুরু হয়। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালনায় “ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডায়রিয়াল ডিজিজ রিসার্স, বাংলাদেশ” (আইসিডিডিআর,বি) নামে ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ প্রোগ্রাম এই গবেষনা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
ইউনিভার্সাল হেল্থ কভারেজ প্রোগ্রাম আইসিডিডিআর,বি’র গবেষক ও পরিচালক ড. মাহবুব ইলাহী চৌধুরী বলেন, আমাদের অনেক সমস্যার মধ্যেও ফ্যামিলি প্ল্যানিং প্রোগ্রাম অত্যন্ত সফল। আমাদের এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় প্রজন্মের খাবার বড়ির মধ্যে গ্রহনযোগ্যতা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ব্যয়-সাশ্রয় বিশ্লেষণ এবং বিতরণ প্রক্রিয়ার তুলনা করা। এই গবেষণার ফলাফলের ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচীতে তৃতীয় প্রজন্মের খাবার বড়ি অন্তর্ভূক্তকরণে সিদ্ধান্ত নিতে সরকারকে সাহায্য করবে।
বর্তমানে যে সূখী বড়ি দেওয়া হচ্ছে, তা খেয়ে মায়েদের মাথাধরা, বমি, মোটা হওয়াসহ বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তাই গবেষণায় সাইড ইফেক্টের মাত্রা কম হলে এই পিল কর্মসূচীর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
তিনি আরও বলেন, তৃতীয় প্রজন্মের এই বড়ির বর্তমান বাজার মূল্য ১০০ টাকা। গবেষণায় সফল হলে সরকার সাবসিডি দিয়ে এই পিল সারা দেশে সরবরাহ করবে। পাইলট প্রকল্প হিসেবে শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা ও রায়েন্দা এই দুটি ইউনিয়নে পরীক্ষামূলক গবেষণা করা হবে। এর মধ্যে রায়েন্দা ইউনিয়নে ১৪শ’ দম্পতিকে দ্বিতীয় প্রজন্মের (সুখী) পিল এবং খোন্তাকাটা ইউনিয়নে ১৪শ’ দম্পতিকে তৃতীয় প্রজন্মের পিল সরবরাহ করে পার্থক্য নির্ণয়ের জন্য সাড়ে ১০ মাস গবেষণা চালানো হবে। এসব দম্পতির কাছ থেকে প্রতি তিন মাস পর পর তথ্য নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম-সচিব ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর’র খুলনা অঞ্চলের পরিচালক ব্রজগোপাল ভৌমিক বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে দেশের স্বাস্থ্য বিভাগও অগ্রসর হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি সুখী সমৃদ্ধ দেশ গড়ার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য খাতকে সের্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়নের জন্য সরকারি অর্থে তৃতীয় প্রজন্মের এই খাবার বড়ির পরীক্ষামূলক গবেষনা শুরু হয়েছে।
এই পিলের গ্রহনযোগ্যতা কেমন হবে এসব বিষয়ে গবেষনা করে সফল হলে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ এই পিল পরবর্তীতে সারা দেশে সরবরাহ করবে। এরফলে মাতৃস্বাস্থ্য ঝুঁকি অনেক কমবে। তৃতীয় প্রজন্মের পিল পরীক্ষা সফল হলে তাহবে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের একটি বিশাল অর্জন। প্রকল্পটি সফল করতে সকলের সহযোগীতা চান তিনি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























