ঢাকা ০৮:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

লম্বা বিরতিতে মহা ক্ষতি

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

মারুফুল হক খুব বিরক্ত। সেই কবে ফুটবল মৌসুম শুরু করে এখন পর্যন্ত এগোচ্ছেন কচ্ছপগতিতে। ‘এভাবে একজন কোচের কোনো পরিকল্পনাই আর থাকে না’ বলে বারবার হতাশা ব্যক্ত করেন আরামবাগের এই কোচ। হতাশার কারণ, গত ১৩ মে ফেডারেশন কাপ দিয়ে শুরু হওয়া ফুটবল মৌসুমে এখন পর্যন্ত ১৩৮ দিনে আরামবাগসহ ছোট দলগুলো ম্যাচ খেলেছে মাত্র ১০টি! ফেডারেশন কাপে ২ ম্যাচ, লিগে ৮। তার মানে সাড়ে চার মাসেরও বেশি সময়ে আরামবাগ গড়ে প্রায় ১৪ দিনে একটি ম্যাচ খেলেছে!

ফেডারেশন কাপের ফাইনালে ওঠা দুই আবাহনী পেয়েছে ৫টি ম্যাচ। এই দুই দলই এখন পর্যন্ত মৌসুমে সর্বোচ্চ ১৩টি করে ম্যাচ খেলেছে। তবে সেটাও এমন কিছুই নয়। বারবার বিরতি পড়াতেই ম্যাচসংখ্যা কম। এতে ফুটবল মৌসুমই আকর্ষণ হারিয়েছে। দলগুলোকে নতুনভাবে শুরু করতে হয় বিরতি শেষে। ফুটবলারদের মনঃসংযোগও নড়ে যায় খেলা থেকে।

এত কথা বলার কারণ, দশম পেশাদার ফুটবল লিগটা তিন সপ্তাহের বিরতি কাটিয়ে আগামীকাল আবার মাঠে গড়াবে। প্রথম দিনে ঢাকা আবাহনী-ব্রাদার্স, চট্টগ্রাম আবাহনী-শেখ জামাল। ১৪ অক্টোবর শেষে আবার একটা লম্বা বিরতি। ১৫ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর মধ্যবর্তী দলবদল। ১৩ নভেম্বর লিগের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হওয়ার কথা। সে পর্যন্ত ছয় মাসে বেশির ভাগ দল ম্যাচ খেলবে মাত্র ১৩টি করে!

তবে এই সময়সূচিও ঠিক থাকবে এমন নিশ্চয়তা নেই। নানা অজুহাতে সকাল-বিকেল খেলা বন্ধ থাকে। আগে জাতীয় দলের খেলার জন্য বন্ধ থাকত ঘরোয়া খেলা। এখন যুবদলের জন্যও লিগে পড়ে লম্বা বিরতি। গরম, চিকুনগুনিয়া, অনূর্ধ্ব-২৩ দলের জন্য খেলা বন্ধ ছিল দুই মাসেরও বেশি। ক্লাবগুলো প্রায়ই খেলা পেছানোর বায়না ধরে। সম্প্রতি জাতীয় যুবদলের জন্য খেলা বন্ধ রাখতে ফেডারেশনও বেশ উৎসাহ দেখায়।

কারণ যা-ই থাকুক, এভাবে বিরতির চক্রে পড়ে বেশি সমস্যায় ভোগেন কোচরা। নতুন করে তাঁরা শুরু করেন বিরতির পর। মারুফ যেমন বলছিলেন, ‘২৮ জুলাই লিগ শুরুর পর এরই মধ্যে আমরা ছোট-বড় চার-পাঁচটি বিরতি পেয়েছি। এই বিরতির ব্যাপারটা আগেই জানালে ক্লাব নিজেদের মতো এগোতে পারত। এটা বিরাট এক সমস্যা এখন।’

কোচদের মতে এসব জাতীয় দলের পারফরম্যান্সেও প্রভাব ফেলে। কারণ ফুটবলারদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগুনটাই নিভে যায় ঘন ঘন বিরতিতে। লিগের শীর্ষ দল চট্টগ্রাম আবাহনীর কোচ সাইফুল বারী টিটু বলেন, ‘আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বিরতি বেশি থাকলে খেলোয়াড়দের ছেড়ে দিতে হয়। খরচের একটা ব্যাপার আছে। তবে বিদেশিদের তো আর ছাড়া যায় না। এখানে আর্থিকভাবে ক্লাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বেশি বিরতি থাকলে ফিটনেস নিয়ে আবার নতুনভাবে কাজ করা লাগে।’

ইউরোপের বড় বড় লিগে দলগুলো খেলে একটানা। ২০ দলের লিগে ৩৮টি ম্যাচ। বাংলাদেশে ১২ দলের প্রিমিয়ার লিগে ম্যাচই সাকল্যে ২২টি। পেশাদার লিগে সপ্তাহে একটি করে ম্যাচ। একই সঙ্গে অন্য টুর্নামেন্টের ম্যাচও খেলে দলগুলো। বার্সেলোনা-রিয়াল মাদ্রিদের মতো দল লিগে ৩৮টি ম্যাচের সঙ্গে কোপা ডেল রে, চ্যাম্পিয়নস লিগ মিলিয়ে ৫৪-৫৫ বা তারও বেশি ম্যাচ খেলে মৌসুমে। গত মৌসুমে মেসি একাই খেলেছেন ৫২টি ম্যাচ। বাংলাদেশের ক্লাবগুলো বছরে খেলে ২৮-৩০টি ম্যাচ! সেটিরও ফাঁকে ফাঁকে থাকে লম্বা লম্বা বিরতি।

বাংলাদেশের ফুটবলের স্বার্থে এই অবস্থা বদলানোর পরামর্শ দিয়েছেন আবাহনীর কোচ দ্রাগো মামিচ, ‘ভালো ফুটবলার তৈরি করতে দরকার একটি বাধাহীন ফুটবল মৌসুম।’ বাফুফে ও ক্লাব এটি উপলব্ধি করলেই ফুটবলের মঙ্গল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

লম্বা বিরতিতে মহা ক্ষতি

আপডেট সময় ০৩:৩৫:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ অক্টোবর ২০১৭

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

মারুফুল হক খুব বিরক্ত। সেই কবে ফুটবল মৌসুম শুরু করে এখন পর্যন্ত এগোচ্ছেন কচ্ছপগতিতে। ‘এভাবে একজন কোচের কোনো পরিকল্পনাই আর থাকে না’ বলে বারবার হতাশা ব্যক্ত করেন আরামবাগের এই কোচ। হতাশার কারণ, গত ১৩ মে ফেডারেশন কাপ দিয়ে শুরু হওয়া ফুটবল মৌসুমে এখন পর্যন্ত ১৩৮ দিনে আরামবাগসহ ছোট দলগুলো ম্যাচ খেলেছে মাত্র ১০টি! ফেডারেশন কাপে ২ ম্যাচ, লিগে ৮। তার মানে সাড়ে চার মাসেরও বেশি সময়ে আরামবাগ গড়ে প্রায় ১৪ দিনে একটি ম্যাচ খেলেছে!

ফেডারেশন কাপের ফাইনালে ওঠা দুই আবাহনী পেয়েছে ৫টি ম্যাচ। এই দুই দলই এখন পর্যন্ত মৌসুমে সর্বোচ্চ ১৩টি করে ম্যাচ খেলেছে। তবে সেটাও এমন কিছুই নয়। বারবার বিরতি পড়াতেই ম্যাচসংখ্যা কম। এতে ফুটবল মৌসুমই আকর্ষণ হারিয়েছে। দলগুলোকে নতুনভাবে শুরু করতে হয় বিরতি শেষে। ফুটবলারদের মনঃসংযোগও নড়ে যায় খেলা থেকে।

এত কথা বলার কারণ, দশম পেশাদার ফুটবল লিগটা তিন সপ্তাহের বিরতি কাটিয়ে আগামীকাল আবার মাঠে গড়াবে। প্রথম দিনে ঢাকা আবাহনী-ব্রাদার্স, চট্টগ্রাম আবাহনী-শেখ জামাল। ১৪ অক্টোবর শেষে আবার একটা লম্বা বিরতি। ১৫ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর মধ্যবর্তী দলবদল। ১৩ নভেম্বর লিগের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হওয়ার কথা। সে পর্যন্ত ছয় মাসে বেশির ভাগ দল ম্যাচ খেলবে মাত্র ১৩টি করে!

তবে এই সময়সূচিও ঠিক থাকবে এমন নিশ্চয়তা নেই। নানা অজুহাতে সকাল-বিকেল খেলা বন্ধ থাকে। আগে জাতীয় দলের খেলার জন্য বন্ধ থাকত ঘরোয়া খেলা। এখন যুবদলের জন্যও লিগে পড়ে লম্বা বিরতি। গরম, চিকুনগুনিয়া, অনূর্ধ্ব-২৩ দলের জন্য খেলা বন্ধ ছিল দুই মাসেরও বেশি। ক্লাবগুলো প্রায়ই খেলা পেছানোর বায়না ধরে। সম্প্রতি জাতীয় যুবদলের জন্য খেলা বন্ধ রাখতে ফেডারেশনও বেশ উৎসাহ দেখায়।

কারণ যা-ই থাকুক, এভাবে বিরতির চক্রে পড়ে বেশি সমস্যায় ভোগেন কোচরা। নতুন করে তাঁরা শুরু করেন বিরতির পর। মারুফ যেমন বলছিলেন, ‘২৮ জুলাই লিগ শুরুর পর এরই মধ্যে আমরা ছোট-বড় চার-পাঁচটি বিরতি পেয়েছি। এই বিরতির ব্যাপারটা আগেই জানালে ক্লাব নিজেদের মতো এগোতে পারত। এটা বিরাট এক সমস্যা এখন।’

কোচদের মতে এসব জাতীয় দলের পারফরম্যান্সেও প্রভাব ফেলে। কারণ ফুটবলারদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগুনটাই নিভে যায় ঘন ঘন বিরতিতে। লিগের শীর্ষ দল চট্টগ্রাম আবাহনীর কোচ সাইফুল বারী টিটু বলেন, ‘আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বিরতি বেশি থাকলে খেলোয়াড়দের ছেড়ে দিতে হয়। খরচের একটা ব্যাপার আছে। তবে বিদেশিদের তো আর ছাড়া যায় না। এখানে আর্থিকভাবে ক্লাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বেশি বিরতি থাকলে ফিটনেস নিয়ে আবার নতুনভাবে কাজ করা লাগে।’

ইউরোপের বড় বড় লিগে দলগুলো খেলে একটানা। ২০ দলের লিগে ৩৮টি ম্যাচ। বাংলাদেশে ১২ দলের প্রিমিয়ার লিগে ম্যাচই সাকল্যে ২২টি। পেশাদার লিগে সপ্তাহে একটি করে ম্যাচ। একই সঙ্গে অন্য টুর্নামেন্টের ম্যাচও খেলে দলগুলো। বার্সেলোনা-রিয়াল মাদ্রিদের মতো দল লিগে ৩৮টি ম্যাচের সঙ্গে কোপা ডেল রে, চ্যাম্পিয়নস লিগ মিলিয়ে ৫৪-৫৫ বা তারও বেশি ম্যাচ খেলে মৌসুমে। গত মৌসুমে মেসি একাই খেলেছেন ৫২টি ম্যাচ। বাংলাদেশের ক্লাবগুলো বছরে খেলে ২৮-৩০টি ম্যাচ! সেটিরও ফাঁকে ফাঁকে থাকে লম্বা লম্বা বিরতি।

বাংলাদেশের ফুটবলের স্বার্থে এই অবস্থা বদলানোর পরামর্শ দিয়েছেন আবাহনীর কোচ দ্রাগো মামিচ, ‘ভালো ফুটবলার তৈরি করতে দরকার একটি বাধাহীন ফুটবল মৌসুম।’ বাফুফে ও ক্লাব এটি উপলব্ধি করলেই ফুটবলের মঙ্গল।