আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
মানিকগঞ্জের ঘিওরে চাকরি করার কারণেই স্ত্রীকে গলাকেটে হত্যা করেছেন স্বামী। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মো. রাসেল মোল্লা ওরফে রূপককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
নিহত সুমি আক্তার মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর থানার কাকজোর গ্রামের মো. রহম আলীর মেয়ে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে সিআইডির সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডি এলআইসি শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তাধর।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ২১ জুলাই সকাল ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে ঘিওর থানার শোলধারা গ্রামে স্বামী রূপকের ঘর থেকে সুমি আক্তারের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পরের দিন নিহত সুমির বাবা রহম আলী বাদী হয়ে ঘিওর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন (মামলা নম্বর-১২/৬৯)।
বিয়ের আড়াই মাসের মধ্যে দাম্পত্য কলহের কারণে নববধূ হত্যার ঘটনায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে সিআইডি ছায়া তদন্ত করে সুমি আক্তারের স্বামী মো. রাসেল মোল্লা ওরফে রূপকের সংশ্লিষ্টতা পায়। এর পর সিআইডি ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে রূপককে গ্রেপ্তার করে।
রূপকের বরাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে মুক্তাধর বলেন, ‘তিনি মানিকগঞ্জের জজ আদালতের একজন আইনজীবীর সহকারী হিসেবে প্রায় নয় বছর ধরে কাজ করে আসছিলেন। চলতি বছরের ১৫ মে সুমি আক্তারের সঙ্গে তার পারিবারিকভাবেই বিয়ে হয়। বিয়ের আগে সুমি আক্তার এসডিআই নামের একটি বেসরকারি সংস্থায় বানিয়াজুড়ি ই্উনিয়নের মাঠকর্মী হিসেবে চাকরি করতেন। বিয়ের আগে কথা ছিল, বিয়ের পরেও সুমি আক্তার চাকরি করবেন। কিন্তু পরে রূপক ও তার পরিবারের সদস্যদের মত পাল্টে যায়। সুমি আক্তারকে চাকরি ছাড়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন তার স্বামী। তখন সুমি আক্তার তার স্বামীকে বলেন, চাকরি ছাড়ার কথা ইতোমধ্যে অফিসকে জানিয়েছি, অফিসও একজন বিকল্পকর্মী খুঁজছে। কর্মী খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত তাকে চাকরি না ছাড়ার জন্য অনুরোধ করেছে। চাকরি করা ছাড়াও শ্বশুর বাড়ির লোকজন অন্যান্য কারণেও সুমি আক্তারকে শারীরিক ও মানুষিকভাবে অত্যাচার করতেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ পুলিশ সুপার বলেন, ‘গত ২১ জুলাই সকাল ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে সুমি আক্তারের সঙ্গে তার স্বামীর কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে রূপক সুমিকে কিল-ঘুষি এবং লাথি মারতে থাকে। পরে রূপকের মা রওশন আরা বেগম এসে তাকে থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু এতে রূপক আরো বেশি উত্তেজিত হয়ে ঘরে থাকা ধারারো দা দিয়ে সুমির গলায় কোপ দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এতেই তার মৃত্যু হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মো. রাসেল মোল্লা ওরফে রূপক মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর থানার শোলধারা গ্রামের মৃত আবদুর রশিদের ছেলে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























