ঢাকা ১২:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানিতে ভিয়েতনামের কাছে দ্বিতীয় স্থান হারিয়েছে বাংলাদেশ: বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সেনাসদর নির্বাচনি পর্ষদ-২০২৬’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে কেমিক্যাল কারখানায় আগুন, ফায়ার ফাইটারসহ আহত ৫ দেশে আরও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ৪ মাসেই অন্তর্বর্তী সরকারের ১১৭ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করেছে সরকার: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বাহাত্তরের সংবিধান থেকেই ফ্যাসিবাদের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল: ড. দিলারা চৌধুরী দলীয় পদধারীদের নিয়োগ দিলে গণতন্ত্র অবশিষ্ট থাকে না: আখতার হোসেন তিন সীমান্তে ২২ জনকে পুশইন চেষ্টা নস্যাৎ বিজিবির ভালো কাজ না করলে সমর্থনের প্রয়োজন নেই: সারজিস দেশের প্রথম কমিউনিটিভিত্তিক এগ্রো ট্যুরিজম প্রকল্পে ১০০০ ফাউন্ডারের হাতে জমির দলিল

খেলাপি না করতে আরও সময় চায় এফবিসিসিআই

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ব্যাংক খাতে ঋণ পরিশোধের মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে এ দাবি জানানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, করোনা মহামারিতে অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এখনো ভয়াবহ অবস্থা পার করছেন। তাই ২৫ শতাংশ পরিশোধের শর্ত শিথিল করে ঋণ শ্রেণীকরণ সুবিধার মেয়াদ আগামী বছরের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি জানানো হয়।

চিঠিতে শর্ত শিথিলের প্রস্তাবে বলা হয়, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও অন্যান্য শিল্প এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের বকেয়া ঋণের পরিমাণ দশ কোটি টাকা বা তার কম হলে পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রদেয় কিস্তিগুলোর কোনো প্রকার ডাউন পেমেন্ট না দিলেও মেয়াদোত্তীর্ণ হিসাবে শ্রেণিকরণ না করে ঋণ হিসাবটি পুনঃতফসিলকৃত বলে গণ্য করা। ১০ কোটি টাকার অধিক কিন্তু ৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ২ শতাংশ পরিশোধ করা হলে এ ঋণখেলাপি (বিরূপমানের শ্রেণিকরণ) না করা। ৫০০ কোটি টাকার অধিক ঋণ ১ শতাংশ পরিশোধের শর্ত রেখে কাউকে খেলাপি না করার অনুরোধ জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে কোভিড পুনরায় বিস্তার লাভ করায় লকডাউন ঘোষণা করা হচ্ছে। কোভিডের নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়ার অশঙ্কায় দেখা দেয়ার প্রভাবে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপরও পড়ছে। অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে চালু না হওয়ায় শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর তাদের ঋণের কিস্তি সময়মতো পরিশোধ করতে পারছে না।

জানা গেছে, করোনা মহামারিতে সৃষ্ট অর্থনীতির সংকট মোকাবিলায় ২০২০ সালজুড়ে ঋণের কিস্তির এক টাকা শোধ না করলেও গ্রাহককে খেলাপি করতে পারেনি ব্যাংক। ফলে কাগজে-কলমে কমেছিল খেলাপি ঋণ। খাতার হিসাবে ৮৮ হাজার ৭৩৪ কোটি ৬ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ নিয়ে শুরু হয় ২০২১ সাল। এ বছর নতুন করে আগের মতো সব সুযোগ দেওয়া হয়নি। তবে অনেক ক্ষেত্রে ঢালাও সুবিধা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিভিন্ন শিথিলতার আওতায় চলতি বছর একজন গ্রাহকের যে পরিমাণ ঋণ পরিশোধ করার কথা, চলতি ডিসেম্বরের মধ্যে তার ২৫ শতাংশ পরিশোধ করলেও তাকে আর খেলাপি করা যাবে না। এরপরও খেলাপি ঋণ বাড়ছে। প্রথম ছয় মাসে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ৯৯ হাজার ২০৫ কোটি টাকায়। এখন তা লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে ব্যাংকিং খাতের ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ১৫০ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের ৮ দশমিক ১২ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১২ হাজার ৪১৬ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংককে যত দ্রুত সম্ভব ঋণ শ্রেণিকরণ সুবিধার মেয়াদ বৃদ্ধি সংক্রান্ত ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন। রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে আয়োজিত এফবিসিসিআইর বার্ষিক সাধারণ সভায় রোববার তিনি এ আহ্বান জানান। এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ঋণ শ্রেণিকরণের মেয়াদ বাড়ালে ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি আসবে এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার দ্রুত সম্ভব হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানিতে ভিয়েতনামের কাছে দ্বিতীয় স্থান হারিয়েছে বাংলাদেশ: বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি

খেলাপি না করতে আরও সময় চায় এফবিসিসিআই

আপডেট সময় ০৫:২৫:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ব্যাংক খাতে ঋণ পরিশোধের মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে এ দাবি জানানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, করোনা মহামারিতে অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এখনো ভয়াবহ অবস্থা পার করছেন। তাই ২৫ শতাংশ পরিশোধের শর্ত শিথিল করে ঋণ শ্রেণীকরণ সুবিধার মেয়াদ আগামী বছরের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি জানানো হয়।

চিঠিতে শর্ত শিথিলের প্রস্তাবে বলা হয়, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও অন্যান্য শিল্প এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের বকেয়া ঋণের পরিমাণ দশ কোটি টাকা বা তার কম হলে পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রদেয় কিস্তিগুলোর কোনো প্রকার ডাউন পেমেন্ট না দিলেও মেয়াদোত্তীর্ণ হিসাবে শ্রেণিকরণ না করে ঋণ হিসাবটি পুনঃতফসিলকৃত বলে গণ্য করা। ১০ কোটি টাকার অধিক কিন্তু ৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ২ শতাংশ পরিশোধ করা হলে এ ঋণখেলাপি (বিরূপমানের শ্রেণিকরণ) না করা। ৫০০ কোটি টাকার অধিক ঋণ ১ শতাংশ পরিশোধের শর্ত রেখে কাউকে খেলাপি না করার অনুরোধ জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে কোভিড পুনরায় বিস্তার লাভ করায় লকডাউন ঘোষণা করা হচ্ছে। কোভিডের নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়ার অশঙ্কায় দেখা দেয়ার প্রভাবে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপরও পড়ছে। অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে চালু না হওয়ায় শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর তাদের ঋণের কিস্তি সময়মতো পরিশোধ করতে পারছে না।

জানা গেছে, করোনা মহামারিতে সৃষ্ট অর্থনীতির সংকট মোকাবিলায় ২০২০ সালজুড়ে ঋণের কিস্তির এক টাকা শোধ না করলেও গ্রাহককে খেলাপি করতে পারেনি ব্যাংক। ফলে কাগজে-কলমে কমেছিল খেলাপি ঋণ। খাতার হিসাবে ৮৮ হাজার ৭৩৪ কোটি ৬ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ নিয়ে শুরু হয় ২০২১ সাল। এ বছর নতুন করে আগের মতো সব সুযোগ দেওয়া হয়নি। তবে অনেক ক্ষেত্রে ঢালাও সুবিধা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিভিন্ন শিথিলতার আওতায় চলতি বছর একজন গ্রাহকের যে পরিমাণ ঋণ পরিশোধ করার কথা, চলতি ডিসেম্বরের মধ্যে তার ২৫ শতাংশ পরিশোধ করলেও তাকে আর খেলাপি করা যাবে না। এরপরও খেলাপি ঋণ বাড়ছে। প্রথম ছয় মাসে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ৯৯ হাজার ২০৫ কোটি টাকায়। এখন তা লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে ব্যাংকিং খাতের ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ১৫০ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের ৮ দশমিক ১২ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১২ হাজার ৪১৬ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংককে যত দ্রুত সম্ভব ঋণ শ্রেণিকরণ সুবিধার মেয়াদ বৃদ্ধি সংক্রান্ত ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন। রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে আয়োজিত এফবিসিসিআইর বার্ষিক সাধারণ সভায় রোববার তিনি এ আহ্বান জানান। এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ঋণ শ্রেণিকরণের মেয়াদ বাড়ালে ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি আসবে এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার দ্রুত সম্ভব হবে।