ঢাকা ১১:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

পাইলট হওয়ার স্বপ্ন পূরণ ৭৬ বছর বয়সে!

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল পাইলট হয়ে আকাশে উড়ার। সেই স্বপ্ন পূরণ হলো ৭৬ বছর বয়সে এসে। তবে অন্যের নয়, নিজের বানানো বিমানের ককপিটে আকাশে উড়লেন তিনি। তাও ভিন্নভাবে। নিজের বাড়ির বেজমেন্টে বসেই বিশ্ব ভ্রমণ সেরে ফেলতে পারেন তিনি। তার নাম মুহাম্মদ মালহাস। তিনি জর্ডানের বাসিন্দা।

এএফপির কাছে নিজের স্বপ্ন পূরণের গল্প শুনিয়েছেন তিনি। এএফপিকে মুহাম্মদ মালহাস বলেন, ‌‘মানুষ যখন থেকে আকাশে পাখি উড়তে দেখেছে, তখন থেকেই তারা মুক্তভাবে আকাশে উড়ার স্বপ্ন দেখছে।’

কিশোর বেলা থেকেই ঘুড়ি উড়াতে ভীষণ ভালোবাসতেন তিনি। ভাবতেন কীভাবে এক টুকরো কাগজ আকাশের এতো উপরে উড়তে পারে। সেই থেকে তার উড়ার প্রতি ভালোবাসা আর আগ্রহ সৃষ্টি হয়। নিজের বানানোর বোয়িং ৭৩৭-৮০০ বিমানের রেপ্লিকার ককপিটে বসে তিনি এ কথা বলছিলেন।
তিনি আরও বলেন, আমার মনটা আকাশেই পড়ে থাকত। আমার স্বপ্ন ছিল পাইলট হওয়ার। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে তা হয়ে উঠেনি।

১৯৬৯ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনায় স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি। এরপর বাবার সঙ্গে পরিবারের প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি।

তবে মনের এক কোণে পাইলট হওয়ার স্বপ্ন জিইয়ে রেখেছিলেন তিনি। বিমান চালনা, ও এয়ারক্রাফট ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে বিভিন্ন বইপত্র পড়ে বিষয়টি আয়ত্ত্বে আনেন তিনি।

১৯৭৬ সালে তিনি রয়্যাল জর্ডানিয়ান এয়ার একাডেমিতে যোগ দেন। সেখানে তিনি ছোট পাইপার বিমান উড়ানোর প্রশিক্ষণ নেন। দুই বছর পর তিনি বিমানে উড়ানোর লাইসেন্স পান।

প্রায় এক দশক ধরে তিনি জর্ডানিয়ান গ্লাইডিং ক্লাবের সদস্য ছিলেন। ছুটির দিনগুলোতে বিমানও চালাতেন তিনি। তবে ২০০৬ সালে তিনি তার কম্পিউটারে ফ্লাইট সফটওয়ার ডাউনলোড করেন।

এ সময় তার শখ অন্য দিকে মোড় দেয়। স্বপ্ন জাগে ঘরে বসেই বিশ্ব ভ্রমণের। স্থানীয় বাজার থেকে বিভিন্ন জিনিস কিনে তৈরি করে বিমানের ককপিট, যা একদম আসল বিমানের ককপিটের মতোই। আর নিজের তৈরি এই ককপিটে সুইচ চেপেই বিশ্বভ্রমণ সেরে ফেলতে পারেন তিনি।

ককপিটের সামনের স্ক্রিনের উপরে আছে মেঘ এবং আকাশ, নীচে আছে নদী, বন এবং মরুভূমির ছবি । এমনকি বাইরের আবহাওয়া কেমন তাও মালহাস বেছে নিতে পারে।

ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ার বন্ধুদের সহায়তায় ককপিটটি বানাতে তার তিন বছর লেগেছে। এতে খরচ পড়েছে প্রায় ছয় হাজার দিনার।

কখনো কখনো মালহাসের স্ত্রীও তার সঙ্গে ককপিটে যোগ দেন। ঘরে বসে বিশ্বভ্রমণের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমি মনে করি ঘরে বসে বিশ্বজুড়ে উড়ার আনন্দ অনুভব করা সত্যিই আশ্চর্যজনক।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

পাইলট হওয়ার স্বপ্ন পূরণ ৭৬ বছর বয়সে!

আপডেট সময় ১১:৫১:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২১

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল পাইলট হয়ে আকাশে উড়ার। সেই স্বপ্ন পূরণ হলো ৭৬ বছর বয়সে এসে। তবে অন্যের নয়, নিজের বানানো বিমানের ককপিটে আকাশে উড়লেন তিনি। তাও ভিন্নভাবে। নিজের বাড়ির বেজমেন্টে বসেই বিশ্ব ভ্রমণ সেরে ফেলতে পারেন তিনি। তার নাম মুহাম্মদ মালহাস। তিনি জর্ডানের বাসিন্দা।

এএফপির কাছে নিজের স্বপ্ন পূরণের গল্প শুনিয়েছেন তিনি। এএফপিকে মুহাম্মদ মালহাস বলেন, ‌‘মানুষ যখন থেকে আকাশে পাখি উড়তে দেখেছে, তখন থেকেই তারা মুক্তভাবে আকাশে উড়ার স্বপ্ন দেখছে।’

কিশোর বেলা থেকেই ঘুড়ি উড়াতে ভীষণ ভালোবাসতেন তিনি। ভাবতেন কীভাবে এক টুকরো কাগজ আকাশের এতো উপরে উড়তে পারে। সেই থেকে তার উড়ার প্রতি ভালোবাসা আর আগ্রহ সৃষ্টি হয়। নিজের বানানোর বোয়িং ৭৩৭-৮০০ বিমানের রেপ্লিকার ককপিটে বসে তিনি এ কথা বলছিলেন।
তিনি আরও বলেন, আমার মনটা আকাশেই পড়ে থাকত। আমার স্বপ্ন ছিল পাইলট হওয়ার। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে তা হয়ে উঠেনি।

১৯৬৯ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনায় স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি। এরপর বাবার সঙ্গে পরিবারের প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি।

তবে মনের এক কোণে পাইলট হওয়ার স্বপ্ন জিইয়ে রেখেছিলেন তিনি। বিমান চালনা, ও এয়ারক্রাফট ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে বিভিন্ন বইপত্র পড়ে বিষয়টি আয়ত্ত্বে আনেন তিনি।

১৯৭৬ সালে তিনি রয়্যাল জর্ডানিয়ান এয়ার একাডেমিতে যোগ দেন। সেখানে তিনি ছোট পাইপার বিমান উড়ানোর প্রশিক্ষণ নেন। দুই বছর পর তিনি বিমানে উড়ানোর লাইসেন্স পান।

প্রায় এক দশক ধরে তিনি জর্ডানিয়ান গ্লাইডিং ক্লাবের সদস্য ছিলেন। ছুটির দিনগুলোতে বিমানও চালাতেন তিনি। তবে ২০০৬ সালে তিনি তার কম্পিউটারে ফ্লাইট সফটওয়ার ডাউনলোড করেন।

এ সময় তার শখ অন্য দিকে মোড় দেয়। স্বপ্ন জাগে ঘরে বসেই বিশ্ব ভ্রমণের। স্থানীয় বাজার থেকে বিভিন্ন জিনিস কিনে তৈরি করে বিমানের ককপিট, যা একদম আসল বিমানের ককপিটের মতোই। আর নিজের তৈরি এই ককপিটে সুইচ চেপেই বিশ্বভ্রমণ সেরে ফেলতে পারেন তিনি।

ককপিটের সামনের স্ক্রিনের উপরে আছে মেঘ এবং আকাশ, নীচে আছে নদী, বন এবং মরুভূমির ছবি । এমনকি বাইরের আবহাওয়া কেমন তাও মালহাস বেছে নিতে পারে।

ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ার বন্ধুদের সহায়তায় ককপিটটি বানাতে তার তিন বছর লেগেছে। এতে খরচ পড়েছে প্রায় ছয় হাজার দিনার।

কখনো কখনো মালহাসের স্ত্রীও তার সঙ্গে ককপিটে যোগ দেন। ঘরে বসে বিশ্বভ্রমণের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমি মনে করি ঘরে বসে বিশ্বজুড়ে উড়ার আনন্দ অনুভব করা সত্যিই আশ্চর্যজনক।