ঢাকা ০৯:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায় পটুয়াখালীতে দুই বান্ধবীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার ধর্ষকের মা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জরুরি নির্দেশনা শিশু পানিতে পড়লেই বাজবে সাইরেন, কল যাবে ফোনে,দাবি ভোলার তরুণ উদ্ভাবকএর আমেরিকার উস্কানিতে ইরানে বিক্ষোভ : মাসুদ পেজেশকিয়ান আমার মনোনয়ন বাতিল করার কোনো কারণ ছিল না: মাহমুদুর রহমান মান্না ব্রিটিশ সরকারকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিলেন ইলন মাস্ক ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনে বাণিজ্যে প্রভাব পড়বে না : শেখ বশিরউদ্দীন

পুলিশও রেখে এলো ফুটপাতে, মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা বৃদ্ধের!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পাঁচ দিন ধরে সড়কের পাশে ফুটপাতে পড়ে আছে অজ্ঞাতপরিচয় অসুস্থ এক বয়োবৃদ্ধ (৭০)। সম্ভবত রাতের আঁধারে ফুটপাতে তাকে ফেলে রেখে গেছেন স্বজনরা।

‘মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করা’ এই বৃদ্ধের অবস্থা দেখে স্থানীয়রা ফোন দিয়েছিলেন ৯৯৯ নম্বরে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ‘আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই’ দাবি করে বৃদ্ধকে সেখানেই ফেলে রেখে চলে গেছে। যশোর শহরের রেলগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

যশোর শহরের রেলস্টেশনের পাশে রেলগেট ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের প্রাইভেটকার চালক রবিউল ইসলাম জানান, রেলস্টেশন সংলগ্ন এ সড়কে সারাদিনই তারা অবস্থান করেন। পাঁচ দিন আগে সকাল বেলায় এসে দেখেন সড়কের পাশে ফুটপাতে এক বৃদ্ধকে শুইয়ে রাখা হয়েছে। তারা কথা বলতে চেষ্টা করলেও বৃদ্ধ কিছুই বলতে পারছেন না। তারা সামান্য খাবার কিনে দিলে কোনোভাবে খেতে পারেন। বৃদ্ধের নাম-ঠিকানাও জানা যায়নি। শরীরে পচন ধরেছে। মল-মূত্র ত্যাগ করে গায়ে মাখিয়ে ফেলেছেন। চারপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।

এ অবস্থায় বৃদ্ধকে বাঁচাতে রোববার দুপুরে ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করেন আরেক প্রাইভেটকার চালক সাজু হোসেন। এরপর ঘটনাস্থলে যান যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম। কিন্তু তিনি সেখানে গিয়ে আশপাশে থাকা লোকজনদের বলে আসেন- এখানে পুলিশের কিছু করার নেই।

৯৯৯ নাম্বারে ফোন দেওয়া সাজু হোসেন জানান, নাম-পরিচয়হীন বৃদ্ধটিকে কেউ এখানে ফেলে রেখে গেছেন। এ অমানবিক অবস্থা দেখে তিনি ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করেছিলেন। কিন্তু পুলিশ এসেও কিছুই করল না। বৃদ্ধটি এখানে মারা গেলে হয়তো পুলিশ লাশ উদ্ধার করবে।

এ প্রসঙ্গে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, বৃদ্ধটি জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় ফুটপাতে পড়ে আছে। কিন্তু তার কোনো ঠিকানা জানা যায়নি। আবার হাসপাতালে এনে ভর্তি করব, কেউ দায়িত্ব নিতে চায় না।

এখানে ‘আইনগত কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই’ দাবি করে তিনি বলেন, এ জন্যই বৃদ্ধকে সেখানেই রেখে চলে আসতে হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কলম্বিয়ায় বিমান বিধ্বস্তে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নিহত

পুলিশও রেখে এলো ফুটপাতে, মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা বৃদ্ধের!

আপডেট সময় ১১:০৯:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ নভেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পাঁচ দিন ধরে সড়কের পাশে ফুটপাতে পড়ে আছে অজ্ঞাতপরিচয় অসুস্থ এক বয়োবৃদ্ধ (৭০)। সম্ভবত রাতের আঁধারে ফুটপাতে তাকে ফেলে রেখে গেছেন স্বজনরা।

‘মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করা’ এই বৃদ্ধের অবস্থা দেখে স্থানীয়রা ফোন দিয়েছিলেন ৯৯৯ নম্বরে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ‘আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই’ দাবি করে বৃদ্ধকে সেখানেই ফেলে রেখে চলে গেছে। যশোর শহরের রেলগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

যশোর শহরের রেলস্টেশনের পাশে রেলগেট ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের প্রাইভেটকার চালক রবিউল ইসলাম জানান, রেলস্টেশন সংলগ্ন এ সড়কে সারাদিনই তারা অবস্থান করেন। পাঁচ দিন আগে সকাল বেলায় এসে দেখেন সড়কের পাশে ফুটপাতে এক বৃদ্ধকে শুইয়ে রাখা হয়েছে। তারা কথা বলতে চেষ্টা করলেও বৃদ্ধ কিছুই বলতে পারছেন না। তারা সামান্য খাবার কিনে দিলে কোনোভাবে খেতে পারেন। বৃদ্ধের নাম-ঠিকানাও জানা যায়নি। শরীরে পচন ধরেছে। মল-মূত্র ত্যাগ করে গায়ে মাখিয়ে ফেলেছেন। চারপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।

এ অবস্থায় বৃদ্ধকে বাঁচাতে রোববার দুপুরে ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করেন আরেক প্রাইভেটকার চালক সাজু হোসেন। এরপর ঘটনাস্থলে যান যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম। কিন্তু তিনি সেখানে গিয়ে আশপাশে থাকা লোকজনদের বলে আসেন- এখানে পুলিশের কিছু করার নেই।

৯৯৯ নাম্বারে ফোন দেওয়া সাজু হোসেন জানান, নাম-পরিচয়হীন বৃদ্ধটিকে কেউ এখানে ফেলে রেখে গেছেন। এ অমানবিক অবস্থা দেখে তিনি ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করেছিলেন। কিন্তু পুলিশ এসেও কিছুই করল না। বৃদ্ধটি এখানে মারা গেলে হয়তো পুলিশ লাশ উদ্ধার করবে।

এ প্রসঙ্গে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, বৃদ্ধটি জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় ফুটপাতে পড়ে আছে। কিন্তু তার কোনো ঠিকানা জানা যায়নি। আবার হাসপাতালে এনে ভর্তি করব, কেউ দায়িত্ব নিতে চায় না।

এখানে ‘আইনগত কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই’ দাবি করে তিনি বলেন, এ জন্যই বৃদ্ধকে সেখানেই রেখে চলে আসতে হয়েছে।