ঢাকা ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

রোহিঙ্গাদের জীবনচিত্র নিয়ে নির্মাণ হচ্ছে ‘রোহিঙ্গা’

অাকাশ বিনোদন ডেস্ক:

নির্মাণ হচ্ছে রোহিঙ্গা বিষয়ক একটি চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রটির নামও রাখা হয়েছে ‘রোহিঙ্গা’। দেশের প্রথম সারির চলচ্চিত্র পরিচালক সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড ছবিটির পরিচালনা করছেন। ছবির কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংলাপও লিখেছেন তিনি। যৌথভাবে প্রযোজনা করছেন সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড ও শবনম শেহনাজ চৌধুরী।

জানা গেছে, দেশের কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে চলছে ছবিটির শুটিং। ছবির চিত্রনাট্য সম্পর্কে পরিচালক জানিয়েছেন, বার্মা থেকে পালিয়ে বাংলাদেশের সীমান্তে আশ্রয় নিচ্ছে রোহিঙ্গারা। বৈরী আবহাওয়া। বৃষ্টি হচ্ছে। মাথা গোঁজার জন্য নেই এতটুকু আশ্রয়। পানি জমে আছে। কাদা-মাটি। এখানে মানবেতর জীবন যাপন করছে সবাই। বার্মার ক্ষমতাসীন দলের প্রধান অং সান সু চি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন। টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে তা। তিনি বোঝাতে চাচ্ছেন, ওরা বাঙালি সন্ত্রাসী, ওরা বার্মার কেউ না।

এদিকে উখিয়া ক্যাম্পের মানুষগুলোর মুখ মলিন, চেহারায় অনিশ্চয়তার ছাপ। কী হবে তাদের ভবিষ্যৎ’ এরকম চিত্রনাঢ্য নিয়ে এগিয়ে যাবে ছবির গল্প।

গত মঙ্গলবার শুটিং হয়েছে নাফ নদী, শাহপরী দ্বীপ আর টেকনাফে। বুধবার সকাল থেকে শুটিং করেছেন উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। ছবিটির নায়িকা চরিত্র অভিনয় করছেন আরশি। খাটি রোহিঙ্গার অভিনয় করতে তাকে খুব বেগ পেতে হচ্ছে। তারপরও একটি জাতিগোষ্ঠীর দূর্দশা ফুটিয়ে তুলতে তিনি খুব দৃঢ়।

একটি দৃশ্যের শুটিংকালে তিনি চিৎকার করে বলছেন, ‘আঁরা বাঙালি ন। আঁরা জুলুমকারীন। আরা আরাকানি মুসলমান। আঁরা রিফুজি জিন্দগি ন চাই। আঁরার দেশ আঁরারে ফিরাই দ।’

পরিচালক বলেন, ‘এখন এই দৃশ্যটি ধারণ করব। খুব প্রতিকূল পরিস্থিতি। এর মাঝেই আমরা কাজ করছি। ছবিতে আমরা বাস্তব ঘটনাগুলো ফুটিয়ে তুলছি। যাতে ছবিটি দেখে আজ থেকে অনেক বছর পরও দর্শক বুঝতে পারেন। আসলে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কী ঘটেছে এর এক ঐতিহাসিক মূল্য আছে। তাই আমরা সবদিক বিবেচনা করে কাজটি করছি।’

২০১২ সালে যখন বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অনুপ্রবেশ ঘটে, তখন এই ছবির পরিকল্পনা করেন সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড। কাহিনি আর চিত্রনাট্য তৈরি করে ফেলেন। ডায়মন্ড বললেন, ‘ছবির কাজ শুরু করার জন্য অনুকূল পরিবেশের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এবার মনে হলো ছবির কাজ শুরু করার জন্য এখনই উপযুক্ত সময়। আমরা খুব দ্রুত কাজ করছি।’

উখিয়া ক্যাম্পে আরও তিন দিন শুটিং হবে। এরপর বার্মার সেট তৈরি করা হবে। ওখানে বার্মার দৃশ্যগুলো ধারণ করা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরিত্রিয়া সীমান্তে ইথিওপীয় সেনার অগ্রগতি, বাড়ছে নতুন যুদ্ধের শঙ্কা

রোহিঙ্গাদের জীবনচিত্র নিয়ে নির্মাণ হচ্ছে ‘রোহিঙ্গা’

আপডেট সময় ১২:২০:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ বিনোদন ডেস্ক:

নির্মাণ হচ্ছে রোহিঙ্গা বিষয়ক একটি চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রটির নামও রাখা হয়েছে ‘রোহিঙ্গা’। দেশের প্রথম সারির চলচ্চিত্র পরিচালক সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড ছবিটির পরিচালনা করছেন। ছবির কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংলাপও লিখেছেন তিনি। যৌথভাবে প্রযোজনা করছেন সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড ও শবনম শেহনাজ চৌধুরী।

জানা গেছে, দেশের কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে চলছে ছবিটির শুটিং। ছবির চিত্রনাট্য সম্পর্কে পরিচালক জানিয়েছেন, বার্মা থেকে পালিয়ে বাংলাদেশের সীমান্তে আশ্রয় নিচ্ছে রোহিঙ্গারা। বৈরী আবহাওয়া। বৃষ্টি হচ্ছে। মাথা গোঁজার জন্য নেই এতটুকু আশ্রয়। পানি জমে আছে। কাদা-মাটি। এখানে মানবেতর জীবন যাপন করছে সবাই। বার্মার ক্ষমতাসীন দলের প্রধান অং সান সু চি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন। টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে তা। তিনি বোঝাতে চাচ্ছেন, ওরা বাঙালি সন্ত্রাসী, ওরা বার্মার কেউ না।

এদিকে উখিয়া ক্যাম্পের মানুষগুলোর মুখ মলিন, চেহারায় অনিশ্চয়তার ছাপ। কী হবে তাদের ভবিষ্যৎ’ এরকম চিত্রনাঢ্য নিয়ে এগিয়ে যাবে ছবির গল্প।

গত মঙ্গলবার শুটিং হয়েছে নাফ নদী, শাহপরী দ্বীপ আর টেকনাফে। বুধবার সকাল থেকে শুটিং করেছেন উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। ছবিটির নায়িকা চরিত্র অভিনয় করছেন আরশি। খাটি রোহিঙ্গার অভিনয় করতে তাকে খুব বেগ পেতে হচ্ছে। তারপরও একটি জাতিগোষ্ঠীর দূর্দশা ফুটিয়ে তুলতে তিনি খুব দৃঢ়।

একটি দৃশ্যের শুটিংকালে তিনি চিৎকার করে বলছেন, ‘আঁরা বাঙালি ন। আঁরা জুলুমকারীন। আরা আরাকানি মুসলমান। আঁরা রিফুজি জিন্দগি ন চাই। আঁরার দেশ আঁরারে ফিরাই দ।’

পরিচালক বলেন, ‘এখন এই দৃশ্যটি ধারণ করব। খুব প্রতিকূল পরিস্থিতি। এর মাঝেই আমরা কাজ করছি। ছবিতে আমরা বাস্তব ঘটনাগুলো ফুটিয়ে তুলছি। যাতে ছবিটি দেখে আজ থেকে অনেক বছর পরও দর্শক বুঝতে পারেন। আসলে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কী ঘটেছে এর এক ঐতিহাসিক মূল্য আছে। তাই আমরা সবদিক বিবেচনা করে কাজটি করছি।’

২০১২ সালে যখন বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অনুপ্রবেশ ঘটে, তখন এই ছবির পরিকল্পনা করেন সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড। কাহিনি আর চিত্রনাট্য তৈরি করে ফেলেন। ডায়মন্ড বললেন, ‘ছবির কাজ শুরু করার জন্য অনুকূল পরিবেশের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এবার মনে হলো ছবির কাজ শুরু করার জন্য এখনই উপযুক্ত সময়। আমরা খুব দ্রুত কাজ করছি।’

উখিয়া ক্যাম্পে আরও তিন দিন শুটিং হবে। এরপর বার্মার সেট তৈরি করা হবে। ওখানে বার্মার দৃশ্যগুলো ধারণ করা হবে।