ঢাকা ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘বাংলাদেশে একটা বড় খুন হয়েছিল, কাকে দিয়ে করিয়েছিলেন সবটাই জানি’:মমতা ব্যানার্জি রামিসা হত্যা মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছাত্রশিবিরকে তরুণ সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে: ডা. শফিকুর রহমান সন্তানেরা যুগ্মসচিব-বুয়েট শিক্ষক, তবুও একা ঘরে মরতে হলো বৃদ্ধ মাকে ‘ইরান সরকারের ভিত্তি নড়ে গেছে, এটি ভেঙে পড়তে বাধ্য’ খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত ঈদের দিন স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৮৭৭ বর্তমান সরকার সব মানুষের ধর্মের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী: মঈন খান জাতীয় ঐক্য ও দেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্কুলশিক্ষার্থীকে অপহরণ করে ধর্ষণ চেষ্টা, ৪০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জয়পুরহাটে ৬ষ্ঠ শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণ চেষ্টার দ্বিতীয় মামলায় আসামি মফিজুল ইসলামকে (৩৬) ৪০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন জয়পুরহাটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া এ মামলার দুটি পৃথক ধারায় তাকে দেড় লাখ জরিমানা, অনাদায়ে আরও দেড় বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. রোস্তম আলী এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মফিজুল ইসলাম জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার তেলাবদুল মুন্সিপাড়া গ্রামের আওলাদ হোসেনের ছেলে।

এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর জয়পুরহাটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের একই বিচারক অপর একটি শিশু অপহরণের মামলায় মফিজুল ইসলামকে ২৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছিলেন।

এ নিয়ে আসামি মফিজুল ইসলামকে শিশু অপহরণের দুটি মামলায় মোট ৬৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। দণ্ডপ্রাপ্ত মফিজুল ইসলাম বর্তমানে জয়পুরহাট জেলা কারাগারে রয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর জয়পুরহাট শহরের পুলিশ লাইন্স স্কুলে যাওয়ার পথে মফিজুল ইসলাম ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে জয়পুরহাট সদর উপজেলার করিমনগর এলাকার একটি বাঁশ ঝাড়ে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। পরে ওই ছাত্রী সেখান থেকে পালিয়ে এসে তার অভিভাবকদের কাছে ঘটনা বলে দেন।

জয়পুরহাট পৌরসভার সিসি টিভি ক্যামেরায় ফুটেজ দেখে অভিযুক্তকে শনাক্ত করার পর ২৩ সেপ্টেম্বর ওই শিক্ষার্থীর বাবা জয়পুরহাট থানায় মামলা দায়ের করেন। আসামি মফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল এ রায় প্রদান করেন।

আগের অপহরণ মামলায় সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত মফিজুল ইসলাম ২০১৯ সালের ২২ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জয়পুরহাট শহরের বাবুপাড়া গ্রামের ৪র্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে জয়পুরহাট কালেক্টরেট বিদ্যানিকেতন স্কুলে যাবার পথে ফুঁসলিয়ে অপহরণ করে সদর উপজেলার আউশগাড়া এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে শিশুটি চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে মফিজুল ইসলামকে আটক করে শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং পরে পুলিশের হাতে তাদের সোপর্দ করে। এই ঘটনায় শিশুর বাবা বাদী হয়ে জয়পুরহাট থানায় মামলা করেন।

এসব বিষয়ে জয়পুরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট ফিরোজা চৌধুরী বলেন, অপহরণ ও ধর্ষণ চেষ্টার মামলার দুটি পৃথক ধারায় আসামি মফিজুল ইসলামকে বিচারক ৪০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। অপহরণের ঘটনায় ৩০ বছরের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ড এবং ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬মাসের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে আসামিকে এ মামলায় মোট ৪১ বছর ৬ মাস কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

‘বাংলাদেশে একটা বড় খুন হয়েছিল, কাকে দিয়ে করিয়েছিলেন সবটাই জানি’:মমতা ব্যানার্জি

স্কুলশিক্ষার্থীকে অপহরণ করে ধর্ষণ চেষ্টা, ৪০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

আপডেট সময় ১১:৩১:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জয়পুরহাটে ৬ষ্ঠ শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণ চেষ্টার দ্বিতীয় মামলায় আসামি মফিজুল ইসলামকে (৩৬) ৪০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন জয়পুরহাটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া এ মামলার দুটি পৃথক ধারায় তাকে দেড় লাখ জরিমানা, অনাদায়ে আরও দেড় বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. রোস্তম আলী এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মফিজুল ইসলাম জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার তেলাবদুল মুন্সিপাড়া গ্রামের আওলাদ হোসেনের ছেলে।

এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর জয়পুরহাটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের একই বিচারক অপর একটি শিশু অপহরণের মামলায় মফিজুল ইসলামকে ২৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছিলেন।

এ নিয়ে আসামি মফিজুল ইসলামকে শিশু অপহরণের দুটি মামলায় মোট ৬৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। দণ্ডপ্রাপ্ত মফিজুল ইসলাম বর্তমানে জয়পুরহাট জেলা কারাগারে রয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর জয়পুরহাট শহরের পুলিশ লাইন্স স্কুলে যাওয়ার পথে মফিজুল ইসলাম ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে জয়পুরহাট সদর উপজেলার করিমনগর এলাকার একটি বাঁশ ঝাড়ে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। পরে ওই ছাত্রী সেখান থেকে পালিয়ে এসে তার অভিভাবকদের কাছে ঘটনা বলে দেন।

জয়পুরহাট পৌরসভার সিসি টিভি ক্যামেরায় ফুটেজ দেখে অভিযুক্তকে শনাক্ত করার পর ২৩ সেপ্টেম্বর ওই শিক্ষার্থীর বাবা জয়পুরহাট থানায় মামলা দায়ের করেন। আসামি মফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল এ রায় প্রদান করেন।

আগের অপহরণ মামলায় সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত মফিজুল ইসলাম ২০১৯ সালের ২২ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জয়পুরহাট শহরের বাবুপাড়া গ্রামের ৪র্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে জয়পুরহাট কালেক্টরেট বিদ্যানিকেতন স্কুলে যাবার পথে ফুঁসলিয়ে অপহরণ করে সদর উপজেলার আউশগাড়া এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে শিশুটি চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে মফিজুল ইসলামকে আটক করে শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং পরে পুলিশের হাতে তাদের সোপর্দ করে। এই ঘটনায় শিশুর বাবা বাদী হয়ে জয়পুরহাট থানায় মামলা করেন।

এসব বিষয়ে জয়পুরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট ফিরোজা চৌধুরী বলেন, অপহরণ ও ধর্ষণ চেষ্টার মামলার দুটি পৃথক ধারায় আসামি মফিজুল ইসলামকে বিচারক ৪০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। অপহরণের ঘটনায় ৩০ বছরের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ড এবং ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬মাসের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে আসামিকে এ মামলায় মোট ৪১ বছর ৬ মাস কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।