ঢাকা ০৯:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায় পটুয়াখালীতে দুই বান্ধবীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার ধর্ষকের মা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জরুরি নির্দেশনা শিশু পানিতে পড়লেই বাজবে সাইরেন, কল যাবে ফোনে,দাবি ভোলার তরুণ উদ্ভাবকএর আমেরিকার উস্কানিতে ইরানে বিক্ষোভ : মাসুদ পেজেশকিয়ান আমার মনোনয়ন বাতিল করার কোনো কারণ ছিল না: মাহমুদুর রহমান মান্না ব্রিটিশ সরকারকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিলেন ইলন মাস্ক ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনে বাণিজ্যে প্রভাব পড়বে না : শেখ বশিরউদ্দীন

স্কুলশিক্ষার্থীকে অপহরণ করে ধর্ষণ চেষ্টা, ৪০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জয়পুরহাটে ৬ষ্ঠ শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণ চেষ্টার দ্বিতীয় মামলায় আসামি মফিজুল ইসলামকে (৩৬) ৪০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন জয়পুরহাটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া এ মামলার দুটি পৃথক ধারায় তাকে দেড় লাখ জরিমানা, অনাদায়ে আরও দেড় বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. রোস্তম আলী এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মফিজুল ইসলাম জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার তেলাবদুল মুন্সিপাড়া গ্রামের আওলাদ হোসেনের ছেলে।

এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর জয়পুরহাটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের একই বিচারক অপর একটি শিশু অপহরণের মামলায় মফিজুল ইসলামকে ২৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছিলেন।

এ নিয়ে আসামি মফিজুল ইসলামকে শিশু অপহরণের দুটি মামলায় মোট ৬৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। দণ্ডপ্রাপ্ত মফিজুল ইসলাম বর্তমানে জয়পুরহাট জেলা কারাগারে রয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর জয়পুরহাট শহরের পুলিশ লাইন্স স্কুলে যাওয়ার পথে মফিজুল ইসলাম ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে জয়পুরহাট সদর উপজেলার করিমনগর এলাকার একটি বাঁশ ঝাড়ে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। পরে ওই ছাত্রী সেখান থেকে পালিয়ে এসে তার অভিভাবকদের কাছে ঘটনা বলে দেন।

জয়পুরহাট পৌরসভার সিসি টিভি ক্যামেরায় ফুটেজ দেখে অভিযুক্তকে শনাক্ত করার পর ২৩ সেপ্টেম্বর ওই শিক্ষার্থীর বাবা জয়পুরহাট থানায় মামলা দায়ের করেন। আসামি মফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল এ রায় প্রদান করেন।

আগের অপহরণ মামলায় সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত মফিজুল ইসলাম ২০১৯ সালের ২২ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জয়পুরহাট শহরের বাবুপাড়া গ্রামের ৪র্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে জয়পুরহাট কালেক্টরেট বিদ্যানিকেতন স্কুলে যাবার পথে ফুঁসলিয়ে অপহরণ করে সদর উপজেলার আউশগাড়া এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে শিশুটি চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে মফিজুল ইসলামকে আটক করে শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং পরে পুলিশের হাতে তাদের সোপর্দ করে। এই ঘটনায় শিশুর বাবা বাদী হয়ে জয়পুরহাট থানায় মামলা করেন।

এসব বিষয়ে জয়পুরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট ফিরোজা চৌধুরী বলেন, অপহরণ ও ধর্ষণ চেষ্টার মামলার দুটি পৃথক ধারায় আসামি মফিজুল ইসলামকে বিচারক ৪০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। অপহরণের ঘটনায় ৩০ বছরের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ড এবং ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬মাসের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে আসামিকে এ মামলায় মোট ৪১ বছর ৬ মাস কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কলম্বিয়ায় বিমান বিধ্বস্তে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নিহত

স্কুলশিক্ষার্থীকে অপহরণ করে ধর্ষণ চেষ্টা, ৪০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

আপডেট সময় ১১:৩১:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জয়পুরহাটে ৬ষ্ঠ শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণ চেষ্টার দ্বিতীয় মামলায় আসামি মফিজুল ইসলামকে (৩৬) ৪০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন জয়পুরহাটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া এ মামলার দুটি পৃথক ধারায় তাকে দেড় লাখ জরিমানা, অনাদায়ে আরও দেড় বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. রোস্তম আলী এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মফিজুল ইসলাম জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার তেলাবদুল মুন্সিপাড়া গ্রামের আওলাদ হোসেনের ছেলে।

এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর জয়পুরহাটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের একই বিচারক অপর একটি শিশু অপহরণের মামলায় মফিজুল ইসলামকে ২৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছিলেন।

এ নিয়ে আসামি মফিজুল ইসলামকে শিশু অপহরণের দুটি মামলায় মোট ৬৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। দণ্ডপ্রাপ্ত মফিজুল ইসলাম বর্তমানে জয়পুরহাট জেলা কারাগারে রয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর জয়পুরহাট শহরের পুলিশ লাইন্স স্কুলে যাওয়ার পথে মফিজুল ইসলাম ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে জয়পুরহাট সদর উপজেলার করিমনগর এলাকার একটি বাঁশ ঝাড়ে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। পরে ওই ছাত্রী সেখান থেকে পালিয়ে এসে তার অভিভাবকদের কাছে ঘটনা বলে দেন।

জয়পুরহাট পৌরসভার সিসি টিভি ক্যামেরায় ফুটেজ দেখে অভিযুক্তকে শনাক্ত করার পর ২৩ সেপ্টেম্বর ওই শিক্ষার্থীর বাবা জয়পুরহাট থানায় মামলা দায়ের করেন। আসামি মফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল এ রায় প্রদান করেন।

আগের অপহরণ মামলায় সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত মফিজুল ইসলাম ২০১৯ সালের ২২ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জয়পুরহাট শহরের বাবুপাড়া গ্রামের ৪র্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে জয়পুরহাট কালেক্টরেট বিদ্যানিকেতন স্কুলে যাবার পথে ফুঁসলিয়ে অপহরণ করে সদর উপজেলার আউশগাড়া এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে শিশুটি চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে মফিজুল ইসলামকে আটক করে শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং পরে পুলিশের হাতে তাদের সোপর্দ করে। এই ঘটনায় শিশুর বাবা বাদী হয়ে জয়পুরহাট থানায় মামলা করেন।

এসব বিষয়ে জয়পুরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট ফিরোজা চৌধুরী বলেন, অপহরণ ও ধর্ষণ চেষ্টার মামলার দুটি পৃথক ধারায় আসামি মফিজুল ইসলামকে বিচারক ৪০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। অপহরণের ঘটনায় ৩০ বছরের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ড এবং ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬মাসের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে আসামিকে এ মামলায় মোট ৪১ বছর ৬ মাস কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।