ঢাকা ০৯:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মোমবাতির আলোয় এসএসসি পরীক্ষা, বিপাকে শিক্ষার্থীরা ফজলুর রহমান মুক্তিযুদ্ধে নিজের অবদান বলতে গিয়ে অন্যের অবদানকে হাতুড়িপেটা করেছেন :শফিকুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে গণঅভ্যুত্থানের তুলনা করা অন্যায় : ফজলুর রহমান ভারতীয় ভিসা-সংক্রান্ত বিষয়ে দ্রুতই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধী দলের অনেকেই আমাকে ‘ফজা পাগলা’ বলে ডাকে: সংসদে ফজলুর রহমান কোদাল দিয়ে কুপিয়েই দাদি-ফুফুসহ ৩ জনকে হত্যা করে আকাশ থানায় মামলা করতে গিয়ে হয়রানি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জ্বালানি লোডিং শুরু, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ে বাংলাদেশ ভুটানের সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ বাণিজ্যমন্ত্রীর রাজধানীতে বিদেশি নাগরিককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

এজলাসে হামলা মামলায় বোমা মিজানসহ ৩ জঙ্গির সাজা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

এক যুগ আগে চট্টগ্রাম আদালত ভবনে দুই বিচারকের এজলাসে বোমা হামলার ঘটনায় করা দুই মামলায় পলাতক জেএমবি নেতা ‘বোমা মিজানসহ’ তিন জঙ্গিকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মোহাম্মদ সাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণা করেন।

জেএমবির ‘বোমা কারিগর’ জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমা মিজান ছাড়া দণ্ডিত বাকি দুই আসামি হলেন- জেএমবি চট্টগ্রাম অঞ্চলের কমান্ডার জাবেদ ইকবাল ও শাহাদাত আলী। তারা দুজন রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত কৌঁসুলি সাইফুন নাহার খালেক বলেন, হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দুই মামলায় তিন আসামির প্রত্যেককে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে রায়ে।

“দুই মামলার সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে। প্রত্যেক মামলায় আসামিদের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সাজা ভোগ করতে হবে।”

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালের ৩ অক্টোবর চট্টগ্রাম আদালত ভবনে দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা জজ আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন এবং মহানগর হাকিম আকরাম হোসেনের এজলাসে জঙ্গিরা বোমা ছুড়ে মারে। ওই বোমা তারা বইয়ের ভেতর লুকিয়ে নিয়ে আদালতে ঢোকে।

হামলার সময় বিচারক আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন ও আকরাম হোসেন এজলাসেই ছিলেন। তবে বোমাগুলো বিস্ফোরিত না হওয়ায় কেউ হতাহত হননি।

হামলার পরপরই পুলিশ ও আইনজীবীরা ধাওয়া করে আবদুল মালেক লাল্টু ও শাহাদাত আলী নামে দুই জঙ্গিকে ধরে ফেলেন। তাদের মধ্যে লাল্টুর পকেটে থাকা চিরকুটে লেখা ছিল- “মানব রচিত আইনে বিচারকারী ও গ্রহণকারীর বিরুদ্ধে প্রথম দফা টেস্ট অ্যাকশন।”

পুলিশ ওইদিনই নগরীর কোতোয়ালি থানায় দুটি হত্যাচেষ্টার মামলা করে। জেএমবি নেতা জাবেদ ইকবাল, আবদুল মালেক লাল্টু, শাহাদাত আলী, বোমা মিজান, শায়খ আবদুর রহমান ও আতাউর রহমান সানিকে সেখানে আসামি করা হয়।

মামলার বিচার চলাকালেই লাল্টুর মৃত্যু হয়। অন্য মামলায় শায়খ আবদুর রহমান ও আতাউর রহমান সানির ফাঁসি কার্যকর করা হয়। তাই এ দুটি মামলা থেকে তাদের নাম বাদ দেয়া হয়। ২০০৭ সালের ২৫ জুলাই দুই মামলায় অভিযোগ গঠনের পর ২০০৮ সালের ২৭ জানুয়ারি শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। একটি মামলায় ১৮ এবং অন্য মামলায় ২২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বুধবার রায় দেওয়া হল।

এ মামলার আসামিরা সবাই এক সময় কারাগারে থাকলেও ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রিজন ভ্যানে হামলা চালিয়ে এক পুলিশকে হত্যা করে মিজানসহ তিন জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেয় তাদের সহযোগীরা। মিজান বর্তমানে ভারতে রয়েছেন বলে পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা। বাকি দুই আসামি জাবেদ ইকবাল ও শাহাদাত আলীকে রায়ের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

টাকা উত্তোলনে বোনের কঙ্কাল নিয়ে ব্যাংকে হাজির ভাই

এজলাসে হামলা মামলায় বোমা মিজানসহ ৩ জঙ্গির সাজা

আপডেট সময় ১০:৩২:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

এক যুগ আগে চট্টগ্রাম আদালত ভবনে দুই বিচারকের এজলাসে বোমা হামলার ঘটনায় করা দুই মামলায় পলাতক জেএমবি নেতা ‘বোমা মিজানসহ’ তিন জঙ্গিকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মোহাম্মদ সাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণা করেন।

জেএমবির ‘বোমা কারিগর’ জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমা মিজান ছাড়া দণ্ডিত বাকি দুই আসামি হলেন- জেএমবি চট্টগ্রাম অঞ্চলের কমান্ডার জাবেদ ইকবাল ও শাহাদাত আলী। তারা দুজন রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত কৌঁসুলি সাইফুন নাহার খালেক বলেন, হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দুই মামলায় তিন আসামির প্রত্যেককে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে রায়ে।

“দুই মামলার সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে। প্রত্যেক মামলায় আসামিদের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সাজা ভোগ করতে হবে।”

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালের ৩ অক্টোবর চট্টগ্রাম আদালত ভবনে দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা জজ আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন এবং মহানগর হাকিম আকরাম হোসেনের এজলাসে জঙ্গিরা বোমা ছুড়ে মারে। ওই বোমা তারা বইয়ের ভেতর লুকিয়ে নিয়ে আদালতে ঢোকে।

হামলার সময় বিচারক আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন ও আকরাম হোসেন এজলাসেই ছিলেন। তবে বোমাগুলো বিস্ফোরিত না হওয়ায় কেউ হতাহত হননি।

হামলার পরপরই পুলিশ ও আইনজীবীরা ধাওয়া করে আবদুল মালেক লাল্টু ও শাহাদাত আলী নামে দুই জঙ্গিকে ধরে ফেলেন। তাদের মধ্যে লাল্টুর পকেটে থাকা চিরকুটে লেখা ছিল- “মানব রচিত আইনে বিচারকারী ও গ্রহণকারীর বিরুদ্ধে প্রথম দফা টেস্ট অ্যাকশন।”

পুলিশ ওইদিনই নগরীর কোতোয়ালি থানায় দুটি হত্যাচেষ্টার মামলা করে। জেএমবি নেতা জাবেদ ইকবাল, আবদুল মালেক লাল্টু, শাহাদাত আলী, বোমা মিজান, শায়খ আবদুর রহমান ও আতাউর রহমান সানিকে সেখানে আসামি করা হয়।

মামলার বিচার চলাকালেই লাল্টুর মৃত্যু হয়। অন্য মামলায় শায়খ আবদুর রহমান ও আতাউর রহমান সানির ফাঁসি কার্যকর করা হয়। তাই এ দুটি মামলা থেকে তাদের নাম বাদ দেয়া হয়। ২০০৭ সালের ২৫ জুলাই দুই মামলায় অভিযোগ গঠনের পর ২০০৮ সালের ২৭ জানুয়ারি শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। একটি মামলায় ১৮ এবং অন্য মামলায় ২২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বুধবার রায় দেওয়া হল।

এ মামলার আসামিরা সবাই এক সময় কারাগারে থাকলেও ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রিজন ভ্যানে হামলা চালিয়ে এক পুলিশকে হত্যা করে মিজানসহ তিন জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেয় তাদের সহযোগীরা। মিজান বর্তমানে ভারতে রয়েছেন বলে পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা। বাকি দুই আসামি জাবেদ ইকবাল ও শাহাদাত আলীকে রায়ের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।