আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
‘আমাকে আর গরম রডের ছ্যাঁকা দিও না। একটু মা আর বাবাকে দেখবার দেও। আমারে একটু বাঁচতে দাও। আর সহ্য করতে পারছি না। আমি কোনো টেহা চুরি করি নাই। ’
নির্যাতনকারীদের হাতে পায়ে ধরে এভাবেই বাঁচার আকুতি জানিয়েছিল কিশোর মো. আলমগীর হোসেন (১৪)। কিন্তু রক্ষা পায়নি সে। আহত অবস্থায় তার ঠাঁই হয়েছে শ্রীপুর হাসপাতালে।
সোমবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনাটি জানাচ্ছিল আলমগীর।
এর আগে শনিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর কাওরাইদ ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে শারীরিক নির্যাতনের স্বীকার হয় আলমগীর। টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে ঘরের ভেতর আটকে হাত-পা বেঁধে মারধর ও গরম রডের ছ্যাঁকা দেওয়া হয় তাকে। এ ঘটনায় পরদিন রাত ১১টার দিকে ওই এলাকার দুলাল উদ্দীনের দুই ছেলে কাজল মিয়া (৩৫) ও লিটন মিয়ার (২৫) নামে শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আলমগীরের বাবা সুলতান সরকার। তিনি উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের ডুমবাড়িচালা গ্রামের বাসিন্দা। আলমগীর আগে পিকআপের হেলপার ছিল।
৫৩ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ এনে শরীরের বিভিন্ন অংশে গরম রডের ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে আলমগীর জানায়, কাজল মিয়া তাকে বেধড়ক মারধর করে। আর লিটন মিয়া তাকে ছ্যাঁকা দেয়। চোখেও ছ্যাঁকা দিতে চেষ্টা করে। একপর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লে নির্যাতনের মাত্রা কমে আসে। তবে অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে টাকা চুরির কথা স্বীকার করে আলমগীর। পরে তার হাত-পায়ের বাঁধন খুলে দেওয়া হয়।
আলমগীরের বাবা সুলতান সরকার বলেন, ওই দিন বেলা ১১টার দিকে অভিযুক্তরা ফোন করে বলে আপনার ছেলে টাকা চুরি করেছে। এরপর টাকা চুরির কথা স্বীকার করেছে। আমাকে ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে ছেলেকে নিয়ে যেতে বলে। এরপর টাকা ছাড়া অভিযুক্তদের বাড়িতে গেলে তারা ছেলেকে ফিরিয়ে দেবে না বলে জানায়। একপর্যায়ে স্থানীয় কয়েকজনের হাতে পায়ে ধরে টাকা দেওয়ার শর্তে ছেলেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসি। একদিন ভয়ে বাড়িতে ছেলের চিকিৎসা করি। এরপর স্থানীয় ইউপি সদস্যকে ঘটনাটি জানালে তিনি পুলিশকে জানাতে বলেন। আমি এই নির্মমতার বিচার চাই।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মো. কাজল মিয়ার মোবাইল ফোনে কল করলে তিনি বলেন, আলমগীর টাকা চুরির সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছে। এজন্য চড়-থাপ্পড় দিয়েছি। ছ্যাঁকা দিইনি। তাহলে শরীরে এতগুলো ছ্যাঁকার দাগ কীভাবে হলো, জানতে চাইলে তিনি উত্তর না দিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























