ঢাকা ০১:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আমাদের পরবর্তী গণঅভ্যুত্থান জামায়াতের বিরুদ্ধে হবে: গোলাম মাওলা রনি একাত্তরে দেশ চায়নি জামায়াত, ইশতেহারেও ইসলাম নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণতন্ত্রের পক্ষে অবদান রাখা বুদ্ধিজীবীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি:সংসদে হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড একক কেউ নন: বিরোধীদলীয় নেতা হাসিনাকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলাতে পুরো বাংলাদেশ ঐক্যবদ্ধ: নাসীরুদ্দীন ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘোষণা রিজার্ভ বেড়ে কত বিলিয়ন ডলার, জানাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ ও রপ্তানি বৃদ্ধির রোডম্যাপ তুলে ধরেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে কি একদলীয় শাসন কায়েম করবে বিএনপি, প্রশ্ন এটিএম আজহারের বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্কের অভিযোগে মাগুরায় কৃষকদল নেতা গ্রেপ্তার

২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘোষণা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী জ্বালানি নিশ্চিত করতে সোলার পাওয়ারের সব ধরনের যন্ত্রাংশ ও ক্যাপাসিটি ব্যাংকের ওপর থেকে সম্পূর্ণ শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সাথে এই খাত থেকে অর্জিত আয়ের ওপর ২০৩১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি ট্যাক্স হলিডে বা কর অবকাশ সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিদ্যুৎ খাতে বিপুলভাবে উৎসাহিত করবে।

রবিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ মহাপরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন তিনি। মন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরের বাজেটে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের জন্য ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট জাতীয় বাজেটের ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

গত অর্থবছরের ১৬ হাজার ৯৫২ কোটি টাকার তুলনায় এই বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বরাদ্দের সিংহভাগ অর্থাৎ ১৭ হাজার ১৯২ কোটি ৮২ লক্ষ টাকাই রাখা হয়েছে উন্নয়ন ব্যয় হিসেবে। পরিচালন ব্যয় মাত্র ১৫২ কোটি ২২ লক্ষ টাকা হওয়ায় এটি স্পষ্ট যে সরকার বিদ্যুৎ খাতের পরিচালন বা দৈনিক খরচের চেয়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, গবেষণা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের উন্নয়ন কাজের জন্য ১৪ হাজার ৯৩৮ কোটি ৮৭ লক্ষ টাকা এবং জ্বালানি বিভাগের জন্য ২ হাজার ২৫৪ কোটি ১৬ লক্ষ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া একটি বিধ্বস্ত বিদ্যুৎ খাত পেয়েছিল। বিগত ১৫ বছরে এই খাতকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের প্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার বিশাল বকেয়া রেখে যাওয়া হয়েছে। এর বাইরেও বিগত সরকার এমন সব বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুক্তি করে গেছে যেখানে সোভরেইন গ্যারান্টি বা রাষ্ট্রীয় নিশ্চয়তা দেওয়া ছিল। এই একপেশে চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনা করতে গেলে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি ভাঙার বা ক্যাশ করার হুমকি দেওয়া হয়। এমন একটি বৈরী ও জটিল পরিস্থিতির মধ্যেও সরকার বেসরকারি খাতের সাথে আলোচনা করে একটি পারস্পরিক লাভজনক বা ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতির মাধ্যমে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চালু রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আমাদের পরবর্তী গণঅভ্যুত্থান জামায়াতের বিরুদ্ধে হবে: গোলাম মাওলা রনি

২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘোষণা

আপডেট সময় ০৯:৩০:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী জ্বালানি নিশ্চিত করতে সোলার পাওয়ারের সব ধরনের যন্ত্রাংশ ও ক্যাপাসিটি ব্যাংকের ওপর থেকে সম্পূর্ণ শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সাথে এই খাত থেকে অর্জিত আয়ের ওপর ২০৩১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি ট্যাক্স হলিডে বা কর অবকাশ সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিদ্যুৎ খাতে বিপুলভাবে উৎসাহিত করবে।

রবিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ মহাপরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন তিনি। মন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরের বাজেটে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের জন্য ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট জাতীয় বাজেটের ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

গত অর্থবছরের ১৬ হাজার ৯৫২ কোটি টাকার তুলনায় এই বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বরাদ্দের সিংহভাগ অর্থাৎ ১৭ হাজার ১৯২ কোটি ৮২ লক্ষ টাকাই রাখা হয়েছে উন্নয়ন ব্যয় হিসেবে। পরিচালন ব্যয় মাত্র ১৫২ কোটি ২২ লক্ষ টাকা হওয়ায় এটি স্পষ্ট যে সরকার বিদ্যুৎ খাতের পরিচালন বা দৈনিক খরচের চেয়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, গবেষণা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের উন্নয়ন কাজের জন্য ১৪ হাজার ৯৩৮ কোটি ৮৭ লক্ষ টাকা এবং জ্বালানি বিভাগের জন্য ২ হাজার ২৫৪ কোটি ১৬ লক্ষ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া একটি বিধ্বস্ত বিদ্যুৎ খাত পেয়েছিল। বিগত ১৫ বছরে এই খাতকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের প্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার বিশাল বকেয়া রেখে যাওয়া হয়েছে। এর বাইরেও বিগত সরকার এমন সব বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুক্তি করে গেছে যেখানে সোভরেইন গ্যারান্টি বা রাষ্ট্রীয় নিশ্চয়তা দেওয়া ছিল। এই একপেশে চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনা করতে গেলে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি ভাঙার বা ক্যাশ করার হুমকি দেওয়া হয়। এমন একটি বৈরী ও জটিল পরিস্থিতির মধ্যেও সরকার বেসরকারি খাতের সাথে আলোচনা করে একটি পারস্পরিক লাভজনক বা ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতির মাধ্যমে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চালু রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।