ঢাকা ০১:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আমাদের পরবর্তী গণঅভ্যুত্থান জামায়াতের বিরুদ্ধে হবে: গোলাম মাওলা রনি একাত্তরে দেশ চায়নি জামায়াত, ইশতেহারেও ইসলাম নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণতন্ত্রের পক্ষে অবদান রাখা বুদ্ধিজীবীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি:সংসদে হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড একক কেউ নন: বিরোধীদলীয় নেতা হাসিনাকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলাতে পুরো বাংলাদেশ ঐক্যবদ্ধ: নাসীরুদ্দীন ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘোষণা রিজার্ভ বেড়ে কত বিলিয়ন ডলার, জানাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ ও রপ্তানি বৃদ্ধির রোডম্যাপ তুলে ধরেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে কি একদলীয় শাসন কায়েম করবে বিএনপি, প্রশ্ন এটিএম আজহারের বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্কের অভিযোগে মাগুরায় কৃষকদল নেতা গ্রেপ্তার

গণতন্ত্রের পক্ষে অবদান রাখা বুদ্ধিজীবীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি:সংসদে হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

গত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে গণতন্ত্রের পক্ষে ভূমিকা রাখা বুদ্ধিজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন সরকারি দলের হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান।

তিনি বলেন, যারা দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন করেছেন, নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন কিংবা গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলেছেন, তাদের অনেকেই আজও অবহেলিত, আমারা তাদের ভাগ করে ফেলেছি। তাদের জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

রোববার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, গত ১৭ বছরে অনেক বুদ্ধিজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলেছেন, বিবৃতি দিয়েছেন, টেলিভিশন টকশো ও সেমিনারে অংশ নিয়েছেন। কিন্তু তাদের অনেকেই আজ সংসদে নেই। তাদের অবদান স্মরণ করা এবং সরকারের পক্ষ থেকে তাদের কাছে টেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

হুইপ বলেন, আমি একটি কথা বলতে চাই আমার বারবার এ কথাটুকু মনে পড়ে যেহেতু আন্দোলন সংগ্রামে আপনাদের সঙ্গে ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে ছিলাম। আওয়ামী বুদ্ধিজীবীরা কোথায়, আপনারা কি মনে করেন উনারা চলে গেছে? উনারা কিন্তু উনাদের মনোজগতে এখনও আছে। কিন্তু আমাদেরকে যারা সাহায্য করেছিলেন এই এত লিমিটেশনেরর মধ্যে যারা টেলিভিশনে কথা বলেছেন, বিবৃতি দিয়েছেন, বক্তৃতা করেছেন, সেমিনারে এসেছেন, সেমিনারে আসতে ভয় পেতেন। কিন্তু উনাদেরকে ভাগ করে ফেলছি আমরা। আমি চাই, উনাদেরকে আমরা ডাকি। আমাদের লিডার অব দ্য হাউজের কাছে নিয়ে আসি। এক কাপ চা খেলে উনারা খুশি হবেন। সেই ব্যবস্থা আমাদের সিনিয়র লিডাররা করবেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে অসংখ্য নেতাকর্মী নির্যাতন, কারাবাস ও নানা ধরনের ক্ষতির শিকার হয়েছেন। তাদের জন্য পৃথক প্রকল্প বা পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ করা উচিত। তাহলেই জুলাইয়ের গণ-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন হবে।

সরকারি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করতে হলে সবাইকে সততা, ন্যায়বিচার ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা যাবে না, যাতে সরকার বা বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।

জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো অপশক্তি বাংলাদেশকে দুর্বল করতে পারবে না।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, বর্তমান সংসদে এমন অনেক সদস্য রয়েছেন, যারা অতীতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ বা দীর্ঘ কারাবাসের মুখোমুখি হয়েছেন। এটি দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আমাদের পরবর্তী গণঅভ্যুত্থান জামায়াতের বিরুদ্ধে হবে: গোলাম মাওলা রনি

গণতন্ত্রের পক্ষে অবদান রাখা বুদ্ধিজীবীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি:সংসদে হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান

আপডেট সময় ১০:৪৫:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

গত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে গণতন্ত্রের পক্ষে ভূমিকা রাখা বুদ্ধিজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন সরকারি দলের হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান।

তিনি বলেন, যারা দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন করেছেন, নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন কিংবা গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলেছেন, তাদের অনেকেই আজও অবহেলিত, আমারা তাদের ভাগ করে ফেলেছি। তাদের জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

রোববার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, গত ১৭ বছরে অনেক বুদ্ধিজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলেছেন, বিবৃতি দিয়েছেন, টেলিভিশন টকশো ও সেমিনারে অংশ নিয়েছেন। কিন্তু তাদের অনেকেই আজ সংসদে নেই। তাদের অবদান স্মরণ করা এবং সরকারের পক্ষ থেকে তাদের কাছে টেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

হুইপ বলেন, আমি একটি কথা বলতে চাই আমার বারবার এ কথাটুকু মনে পড়ে যেহেতু আন্দোলন সংগ্রামে আপনাদের সঙ্গে ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে ছিলাম। আওয়ামী বুদ্ধিজীবীরা কোথায়, আপনারা কি মনে করেন উনারা চলে গেছে? উনারা কিন্তু উনাদের মনোজগতে এখনও আছে। কিন্তু আমাদেরকে যারা সাহায্য করেছিলেন এই এত লিমিটেশনেরর মধ্যে যারা টেলিভিশনে কথা বলেছেন, বিবৃতি দিয়েছেন, বক্তৃতা করেছেন, সেমিনারে এসেছেন, সেমিনারে আসতে ভয় পেতেন। কিন্তু উনাদেরকে ভাগ করে ফেলছি আমরা। আমি চাই, উনাদেরকে আমরা ডাকি। আমাদের লিডার অব দ্য হাউজের কাছে নিয়ে আসি। এক কাপ চা খেলে উনারা খুশি হবেন। সেই ব্যবস্থা আমাদের সিনিয়র লিডাররা করবেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে অসংখ্য নেতাকর্মী নির্যাতন, কারাবাস ও নানা ধরনের ক্ষতির শিকার হয়েছেন। তাদের জন্য পৃথক প্রকল্প বা পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ করা উচিত। তাহলেই জুলাইয়ের গণ-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন হবে।

সরকারি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করতে হলে সবাইকে সততা, ন্যায়বিচার ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা যাবে না, যাতে সরকার বা বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।

জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো অপশক্তি বাংলাদেশকে দুর্বল করতে পারবে না।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, বর্তমান সংসদে এমন অনেক সদস্য রয়েছেন, যারা অতীতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ বা দীর্ঘ কারাবাসের মুখোমুখি হয়েছেন। এটি দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।