ঢাকা ১২:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ‘জনমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চিকিৎসকদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন’:মির্জা ফখরুল লন্ডনে প্রকাশ্যে ডাব খাওয়ার সময় তোপের মুখে সাবেক মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে: সার্জিও গর কু‌ড়িগ্রা‌মে এন‌সি‌পির মি‌ছি‌লে হামলা, আহত ১০ আলিফের চোখ ফেরত দিন, আমরা চুপ হয়ে যাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রামপুরায় চলন্ত বাসে উঠতে গিয়ে যাত্রীর মৃত্যু জামালপুরে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ফাঁসি দিয়ে দেন, মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি- ট্রাইব্যুনালে বললেন লতিফ সিদ্দিকী ৬০ লাখ টাকায়ও মেলেনি মুক্তি, আরও ২৭ লাখ দিতে দেরি হওয়ায় হত্যা

মেয়ের চিকিৎসা নিতে গিয়ে হাসপাতালে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার মা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নাটোর জেনারেল হাসপাতালে মেয়ের চিকিৎসা নিতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন মা। গত রোববার রাতে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনায় নাটোর সদর থানায় ভুক্তভোগী নারীর বাবা বাদী হয়ে হাসপাতালের তিন পরিচ্ছন্নতা কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন- হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কর্মী অমিত (২৩), অনিল (২৪) ও প্রাঙ্গণ (২৩)।

জানা যায়, নাটোর সদরের বাসিন্দা ভুক্তভোগী নারীর মেয়ে সর্দি-জ্বর আক্রান্ত হলে চিকিৎসার জন্য গত শুক্রবার নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। গত রোববার রাত ১০টার দিকে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও শহরের আলাইপুর সুইপার কলোনির বাসিন্দা অমিত ওষুধ নেওয়ার কথা বলে শিশুর মাকে ডাকেন। পরে কৌশলে হাসপাতালের ছয়তলার সিঁড়ির ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ বিষয়টি পরিচ্ছন্নতা কর্মী অনিল ও প্রাঙ্গণ গোপনে ভিডিও ধারণ করেন। পরে তারা ওই ভিডিও ভুক্তভোগীকে দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। দীর্ঘ সময় শিশু ওয়ার্ডে না থাকায় শিশুটি কান্নাকাটি করতে থাকে। তখন ওই ওয়ার্ডে দায়িত্বে থাকা নার্সরা হাসপাতালের আনসার সদস্যদের সহযোগিতা নিয়ে ওই নারীকে খুঁজতে থাকেন। পরে হাসপাতালের সিসিটিভির ফুটেজ দেখে ছয়তলার সিঁড়ির ঘর থেকে অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করেন দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা।

মামলায় বলা হয়, অভিযুক্তদের আটকের সময় সেখানে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুবুর রহমান, আনসার সদস্য আল আমিন ও সালাহ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনার সময় দায়িত্বরত এক আনসার সদস্য নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, ‘আটকের সময় জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত তিন পরিচ্ছন্নতা-কর্মীর ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের কথা স্বীকার করেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘মামলায় ঘটনার সময় তার উপস্থিতির যে কথা বলা হয়েছে, তা সঠিক নয়। পরের দিন সকালে হাসপাতালে এসে বিষয়টি শুনেছি। এর আগে পরিচ্ছন্নতা-কর্মীদের সঙ্গে রোগীর লোকজনের লিখিত একটা সমঝোতা হয়। তারপরও পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়।’

নাটোরের সিভিল সার্জন ড. মুহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, ‘ঘটনার পর বিষয়টি কোনো পক্ষই তাকে জানায়নি। তারপরও লোক মুখে বিষয়টি শুনেই ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে বলা হয়।’

নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুনসুর রহমান বলেন, ‘মামলার পরপরই অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

মেয়ের চিকিৎসা নিতে গিয়ে হাসপাতালে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার মা

আপডেট সময় ০৫:১০:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নাটোর জেনারেল হাসপাতালে মেয়ের চিকিৎসা নিতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন মা। গত রোববার রাতে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনায় নাটোর সদর থানায় ভুক্তভোগী নারীর বাবা বাদী হয়ে হাসপাতালের তিন পরিচ্ছন্নতা কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন- হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কর্মী অমিত (২৩), অনিল (২৪) ও প্রাঙ্গণ (২৩)।

জানা যায়, নাটোর সদরের বাসিন্দা ভুক্তভোগী নারীর মেয়ে সর্দি-জ্বর আক্রান্ত হলে চিকিৎসার জন্য গত শুক্রবার নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। গত রোববার রাত ১০টার দিকে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও শহরের আলাইপুর সুইপার কলোনির বাসিন্দা অমিত ওষুধ নেওয়ার কথা বলে শিশুর মাকে ডাকেন। পরে কৌশলে হাসপাতালের ছয়তলার সিঁড়ির ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ বিষয়টি পরিচ্ছন্নতা কর্মী অনিল ও প্রাঙ্গণ গোপনে ভিডিও ধারণ করেন। পরে তারা ওই ভিডিও ভুক্তভোগীকে দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। দীর্ঘ সময় শিশু ওয়ার্ডে না থাকায় শিশুটি কান্নাকাটি করতে থাকে। তখন ওই ওয়ার্ডে দায়িত্বে থাকা নার্সরা হাসপাতালের আনসার সদস্যদের সহযোগিতা নিয়ে ওই নারীকে খুঁজতে থাকেন। পরে হাসপাতালের সিসিটিভির ফুটেজ দেখে ছয়তলার সিঁড়ির ঘর থেকে অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করেন দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা।

মামলায় বলা হয়, অভিযুক্তদের আটকের সময় সেখানে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুবুর রহমান, আনসার সদস্য আল আমিন ও সালাহ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনার সময় দায়িত্বরত এক আনসার সদস্য নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, ‘আটকের সময় জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত তিন পরিচ্ছন্নতা-কর্মীর ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের কথা স্বীকার করেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘মামলায় ঘটনার সময় তার উপস্থিতির যে কথা বলা হয়েছে, তা সঠিক নয়। পরের দিন সকালে হাসপাতালে এসে বিষয়টি শুনেছি। এর আগে পরিচ্ছন্নতা-কর্মীদের সঙ্গে রোগীর লোকজনের লিখিত একটা সমঝোতা হয়। তারপরও পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়।’

নাটোরের সিভিল সার্জন ড. মুহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, ‘ঘটনার পর বিষয়টি কোনো পক্ষই তাকে জানায়নি। তারপরও লোক মুখে বিষয়টি শুনেই ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে বলা হয়।’

নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুনসুর রহমান বলেন, ‘মামলার পরপরই অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।