ঢাকা ০৯:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বারবার প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধিতে বিরক্ত প্রধানমন্ত্রী অন্তর্বর্তী সরকার জাতির সঙ্গে ইনসাফ করতে পারেনি: জামায়াতের আমির পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশকে ৩৮০০ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা দেবে জাপান ঋতুপর্ণার ঘর নির্মাণে অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী আঞ্চলিক অস্থিরতা শেষে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় এমিরেটসের মসজিদ-মন্দির ঘিরে জয়পুরে উত্তেজনা, ৩ হাজার পুলিশ মোতায়েন মেয়ের চিকিৎসা নিতে গিয়ে হাসপাতালে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার মা সংসদকে প্রাণবন্ত ও কার্যকর করতে পিএসদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ : চিফ হুইপ বিনা খরচে ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচার করবে বিটিভি: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

মেয়ের চিকিৎসা নিতে গিয়ে হাসপাতালে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার মা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নাটোর জেনারেল হাসপাতালে মেয়ের চিকিৎসা নিতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন মা। গত রোববার রাতে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনায় নাটোর সদর থানায় ভুক্তভোগী নারীর বাবা বাদী হয়ে হাসপাতালের তিন পরিচ্ছন্নতা কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন- হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কর্মী অমিত (২৩), অনিল (২৪) ও প্রাঙ্গণ (২৩)।

জানা যায়, নাটোর সদরের বাসিন্দা ভুক্তভোগী নারীর মেয়ে সর্দি-জ্বর আক্রান্ত হলে চিকিৎসার জন্য গত শুক্রবার নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। গত রোববার রাত ১০টার দিকে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও শহরের আলাইপুর সুইপার কলোনির বাসিন্দা অমিত ওষুধ নেওয়ার কথা বলে শিশুর মাকে ডাকেন। পরে কৌশলে হাসপাতালের ছয়তলার সিঁড়ির ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ বিষয়টি পরিচ্ছন্নতা কর্মী অনিল ও প্রাঙ্গণ গোপনে ভিডিও ধারণ করেন। পরে তারা ওই ভিডিও ভুক্তভোগীকে দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। দীর্ঘ সময় শিশু ওয়ার্ডে না থাকায় শিশুটি কান্নাকাটি করতে থাকে। তখন ওই ওয়ার্ডে দায়িত্বে থাকা নার্সরা হাসপাতালের আনসার সদস্যদের সহযোগিতা নিয়ে ওই নারীকে খুঁজতে থাকেন। পরে হাসপাতালের সিসিটিভির ফুটেজ দেখে ছয়তলার সিঁড়ির ঘর থেকে অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করেন দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা।

মামলায় বলা হয়, অভিযুক্তদের আটকের সময় সেখানে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুবুর রহমান, আনসার সদস্য আল আমিন ও সালাহ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনার সময় দায়িত্বরত এক আনসার সদস্য নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, ‘আটকের সময় জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত তিন পরিচ্ছন্নতা-কর্মীর ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের কথা স্বীকার করেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘মামলায় ঘটনার সময় তার উপস্থিতির যে কথা বলা হয়েছে, তা সঠিক নয়। পরের দিন সকালে হাসপাতালে এসে বিষয়টি শুনেছি। এর আগে পরিচ্ছন্নতা-কর্মীদের সঙ্গে রোগীর লোকজনের লিখিত একটা সমঝোতা হয়। তারপরও পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়।’

নাটোরের সিভিল সার্জন ড. মুহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, ‘ঘটনার পর বিষয়টি কোনো পক্ষই তাকে জানায়নি। তারপরও লোক মুখে বিষয়টি শুনেই ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে বলা হয়।’

নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুনসুর রহমান বলেন, ‘মামলার পরপরই অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এক্স-রে থেকে রেডিওথেরাপি,আধুনিক ক্যানসার চিকিৎসায় মেডিকেল ফিজিসিস্টের অবদান

মেয়ের চিকিৎসা নিতে গিয়ে হাসপাতালে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার মা

আপডেট সময় ০৫:১০:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নাটোর জেনারেল হাসপাতালে মেয়ের চিকিৎসা নিতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন মা। গত রোববার রাতে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনায় নাটোর সদর থানায় ভুক্তভোগী নারীর বাবা বাদী হয়ে হাসপাতালের তিন পরিচ্ছন্নতা কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন- হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কর্মী অমিত (২৩), অনিল (২৪) ও প্রাঙ্গণ (২৩)।

জানা যায়, নাটোর সদরের বাসিন্দা ভুক্তভোগী নারীর মেয়ে সর্দি-জ্বর আক্রান্ত হলে চিকিৎসার জন্য গত শুক্রবার নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। গত রোববার রাত ১০টার দিকে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও শহরের আলাইপুর সুইপার কলোনির বাসিন্দা অমিত ওষুধ নেওয়ার কথা বলে শিশুর মাকে ডাকেন। পরে কৌশলে হাসপাতালের ছয়তলার সিঁড়ির ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ বিষয়টি পরিচ্ছন্নতা কর্মী অনিল ও প্রাঙ্গণ গোপনে ভিডিও ধারণ করেন। পরে তারা ওই ভিডিও ভুক্তভোগীকে দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। দীর্ঘ সময় শিশু ওয়ার্ডে না থাকায় শিশুটি কান্নাকাটি করতে থাকে। তখন ওই ওয়ার্ডে দায়িত্বে থাকা নার্সরা হাসপাতালের আনসার সদস্যদের সহযোগিতা নিয়ে ওই নারীকে খুঁজতে থাকেন। পরে হাসপাতালের সিসিটিভির ফুটেজ দেখে ছয়তলার সিঁড়ির ঘর থেকে অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করেন দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা।

মামলায় বলা হয়, অভিযুক্তদের আটকের সময় সেখানে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুবুর রহমান, আনসার সদস্য আল আমিন ও সালাহ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনার সময় দায়িত্বরত এক আনসার সদস্য নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, ‘আটকের সময় জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত তিন পরিচ্ছন্নতা-কর্মীর ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের কথা স্বীকার করেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘মামলায় ঘটনার সময় তার উপস্থিতির যে কথা বলা হয়েছে, তা সঠিক নয়। পরের দিন সকালে হাসপাতালে এসে বিষয়টি শুনেছি। এর আগে পরিচ্ছন্নতা-কর্মীদের সঙ্গে রোগীর লোকজনের লিখিত একটা সমঝোতা হয়। তারপরও পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়।’

নাটোরের সিভিল সার্জন ড. মুহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, ‘ঘটনার পর বিষয়টি কোনো পক্ষই তাকে জানায়নি। তারপরও লোক মুখে বিষয়টি শুনেই ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে বলা হয়।’

নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুনসুর রহমান বলেন, ‘মামলার পরপরই অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।