ঢাকা ০৫:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ভাঙ্গায় মাদকবিরোধী সভাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় মাদকবিরোধী সভাকে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে একই গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

রোববার (২৮ জুন) সকাল থেকে উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মহেশ্বরদী এলাকার এক পক্ষের নেতৃত্ব দেন ছিরু মিয়া, কালাম কাজী, জাহিদ শেখ, মিরাজ মাতুব্বর ও বাকি মাতুব্বর। অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন খোকন মিয়া চেয়ারম্যান, মোকসেদ খালাসী, ইলিয়াস মাতুব্বর ও বাদল মাতুব্বর।

শুক্রবার হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী গ্রামের কালাম কাজীর বাড়িতে একটি মাদকবিরোধী সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে শনিবার হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদে দ্বিতীয় সভা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। একটি পক্ষের দাবি, মাদককারবারিরা মিটিংয়ের নামে দল ভারী করছে। অন্য পক্ষের দাবি, মাদকবিরোধী মিটিংয়ে কেনো মাদকের জড়িত লোকেরাই হাজির হয়েছে—এ নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। এর জেরে শনিবার সন্ধ্যায় সভা শেষে ছিরু মিয়ার পক্ষের লোকজন প্রতিপক্ষের সমর্থক দেলোয়ারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে মারধর ও বাড়িঘর ভাঙচুর করেন।

এর প্রেক্ষিতে রোববার সকালে পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় খোকন মিয়া চেয়ারম্যানের পক্ষের লোকজন ছিরু মিয়ার পক্ষকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র, ঢাল, সরকি, টেঁটা, তলোয়ার এবং ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। গুরুতর আহত আকতার মাতুব্বর, রিয়াদ মাতুব্বর ও মামুন মাতুব্বরকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোকন মিয়া বলেন, মাদকবিরোধী সভায় অংশ নেওয়ায় দেলোয়ার মাতুব্বরের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে, ছিরু মিয়া দাবি করেন, মাদকবিরোধী সভার নামে খোকন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে মাদককারবারিদের একত্রিত করা হয়েছে। এ কারণেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

ভাঙ্গা থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

ভাঙ্গায় মাদকবিরোধী সভাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ২০

আপডেট সময় ০২:৩০:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় মাদকবিরোধী সভাকে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে একই গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

রোববার (২৮ জুন) সকাল থেকে উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মহেশ্বরদী এলাকার এক পক্ষের নেতৃত্ব দেন ছিরু মিয়া, কালাম কাজী, জাহিদ শেখ, মিরাজ মাতুব্বর ও বাকি মাতুব্বর। অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন খোকন মিয়া চেয়ারম্যান, মোকসেদ খালাসী, ইলিয়াস মাতুব্বর ও বাদল মাতুব্বর।

শুক্রবার হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী গ্রামের কালাম কাজীর বাড়িতে একটি মাদকবিরোধী সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে শনিবার হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদে দ্বিতীয় সভা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। একটি পক্ষের দাবি, মাদককারবারিরা মিটিংয়ের নামে দল ভারী করছে। অন্য পক্ষের দাবি, মাদকবিরোধী মিটিংয়ে কেনো মাদকের জড়িত লোকেরাই হাজির হয়েছে—এ নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। এর জেরে শনিবার সন্ধ্যায় সভা শেষে ছিরু মিয়ার পক্ষের লোকজন প্রতিপক্ষের সমর্থক দেলোয়ারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে মারধর ও বাড়িঘর ভাঙচুর করেন।

এর প্রেক্ষিতে রোববার সকালে পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় খোকন মিয়া চেয়ারম্যানের পক্ষের লোকজন ছিরু মিয়ার পক্ষকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র, ঢাল, সরকি, টেঁটা, তলোয়ার এবং ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। গুরুতর আহত আকতার মাতুব্বর, রিয়াদ মাতুব্বর ও মামুন মাতুব্বরকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোকন মিয়া বলেন, মাদকবিরোধী সভায় অংশ নেওয়ায় দেলোয়ার মাতুব্বরের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে, ছিরু মিয়া দাবি করেন, মাদকবিরোধী সভার নামে খোকন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে মাদককারবারিদের একত্রিত করা হয়েছে। এ কারণেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

ভাঙ্গা থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।