ঢাকা ০৩:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি জামায়াতের ঘরে ঘরে ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে চাই: তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে ভূমিকম্প অনুভূত ঐক্যবদ্ধভাবে সম্বৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই : জনপ্রশাসন উপদেষ্টা পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুরের সঙ্গে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক গাজীপুরে যাত্রীবাহী বাসে ভয়াবহ আগুন মিরপুরে মেট্রো স্টেশনের পাশের ভবনে আগুন নারিন্দায় এসি’র সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ সংলাপের মাধ্যমে পাকিস্তান-আফগানিস্তানকে বিরোধ মেটানোর আহ্বান ইরানের তরুণীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা, বিএনপির নেতাসহ গ্রেফতার ৫

চুরির মিথ্যা অভিযোগে শিশু শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধর

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বরগুনায় চুরির মিথ্যা অভিযোগ তুলে শাওন (১১) নামে তৃতীয় শ্রেণীর এক শিশু শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাদশা নামের এক দোকানি তাকে মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোববার বিকেলে বরগুনা সদর উপজেলার কলাতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শিশু শিক্ষার্থী শাওন বরগুনা সদর ইউনিয়নের পার্বতী গ্রামের শামীম হাওলাদারের ছেলে।

জানা যায়, রোববার বিকেলে শাওন পাশের গ্রাম কলাতলায় ঘুরতে গিয়ে বাদশা মল্লিকের মুদি দোকানের সামনে বসে। ওই সময় দোকানদার বাদশা দোকানের মধ্য ঘুমাচ্ছিলেন। ঘুম থেকে জেগে শাওনকে দোকানের সামনে বসে থাকতে দেখে টাকা ও খাবার চুরির অভিযোগে তাকে বেধড়ক মারধর শুরু করে।

তখন শাওন বার বার চিৎকার করে তার কি দোষ ও তাকে কেন মারা হচ্ছে জানতে চেয়ে কান্না করলেও থামেনি সেই দোকানী। বাদশা রাগে উত্তেজিত হয়ে শাওনকে স্টীলের টর্চ লাইট দিয়ে পিটায় এবং লাথি মেরে আহত করে।

পরে আহত অবস্থায় শিশু শাওন দোকানের সামনে পরে থাকলে শিশুটির পরিবার এসে তাকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়।

শাওনের চাচা সারোয়ার হোসেন মিন্টু জানান, বিকেল ৫টার দিকে টিভি দেখতে বসে শাওন। একটু পরে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় বাইরে ঘুরতে বের হয়ে পাশের কলাতলা এলাকায় যায়। এ সময় মুদি দোকানদার বাদশা মল্লিকের দোকানে সামনে বসে শাওন। দোকানদার বাদশা ওই সময় দোকানে ঘুমে ছিল। দোকানদার বাদশা হঠাৎ ঘুম থেকে জেগে শাওনকে দোকানের সামনে বসা দেখে মারার জন্য তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

এ সময় বাদশা স্টিলের লম্বা টর্চ লাইট দিয়ে শাওনকে বেধড়ক মারধর করে। এক পর্যায় শাওনের পেটে একাধিক লাথি মারে এবং গলায় পা দিয়ে চেপে ধরে। এতে শাওন গুরুতর আহত হয়।

একটি ১১ বছরের শিশুকে কোনো ঘটনা ছাড়াই বা কিছু না জেনেই নিষ্ঠুর ও নির্মম ভাবে মারতে পারে সে কোন মানুষ হতে পারে না বলেও জানান তিনি। নির্যাতনকারী দোকানদার বাদশার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তারা।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত বাদশা মল্লিকের সাথে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে এম তারিকুল ইসলাম বলেন, মারধরের খবর শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির মা অভিযোগ দিয়েছে। বাদশাকে আটক করার জন্য আপ্রান চেস্টা চালানো হচ্ছে কিন্তু বাদশা পালাতক রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

চুরির মিথ্যা অভিযোগে শিশু শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধর

আপডেট সময় ০৬:০৬:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অক্টোবর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বরগুনায় চুরির মিথ্যা অভিযোগ তুলে শাওন (১১) নামে তৃতীয় শ্রেণীর এক শিশু শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাদশা নামের এক দোকানি তাকে মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোববার বিকেলে বরগুনা সদর উপজেলার কলাতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শিশু শিক্ষার্থী শাওন বরগুনা সদর ইউনিয়নের পার্বতী গ্রামের শামীম হাওলাদারের ছেলে।

জানা যায়, রোববার বিকেলে শাওন পাশের গ্রাম কলাতলায় ঘুরতে গিয়ে বাদশা মল্লিকের মুদি দোকানের সামনে বসে। ওই সময় দোকানদার বাদশা দোকানের মধ্য ঘুমাচ্ছিলেন। ঘুম থেকে জেগে শাওনকে দোকানের সামনে বসে থাকতে দেখে টাকা ও খাবার চুরির অভিযোগে তাকে বেধড়ক মারধর শুরু করে।

তখন শাওন বার বার চিৎকার করে তার কি দোষ ও তাকে কেন মারা হচ্ছে জানতে চেয়ে কান্না করলেও থামেনি সেই দোকানী। বাদশা রাগে উত্তেজিত হয়ে শাওনকে স্টীলের টর্চ লাইট দিয়ে পিটায় এবং লাথি মেরে আহত করে।

পরে আহত অবস্থায় শিশু শাওন দোকানের সামনে পরে থাকলে শিশুটির পরিবার এসে তাকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়।

শাওনের চাচা সারোয়ার হোসেন মিন্টু জানান, বিকেল ৫টার দিকে টিভি দেখতে বসে শাওন। একটু পরে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় বাইরে ঘুরতে বের হয়ে পাশের কলাতলা এলাকায় যায়। এ সময় মুদি দোকানদার বাদশা মল্লিকের দোকানে সামনে বসে শাওন। দোকানদার বাদশা ওই সময় দোকানে ঘুমে ছিল। দোকানদার বাদশা হঠাৎ ঘুম থেকে জেগে শাওনকে দোকানের সামনে বসা দেখে মারার জন্য তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

এ সময় বাদশা স্টিলের লম্বা টর্চ লাইট দিয়ে শাওনকে বেধড়ক মারধর করে। এক পর্যায় শাওনের পেটে একাধিক লাথি মারে এবং গলায় পা দিয়ে চেপে ধরে। এতে শাওন গুরুতর আহত হয়।

একটি ১১ বছরের শিশুকে কোনো ঘটনা ছাড়াই বা কিছু না জেনেই নিষ্ঠুর ও নির্মম ভাবে মারতে পারে সে কোন মানুষ হতে পারে না বলেও জানান তিনি। নির্যাতনকারী দোকানদার বাদশার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তারা।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত বাদশা মল্লিকের সাথে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে এম তারিকুল ইসলাম বলেন, মারধরের খবর শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির মা অভিযোগ দিয়েছে। বাদশাকে আটক করার জন্য আপ্রান চেস্টা চালানো হচ্ছে কিন্তু বাদশা পালাতক রয়েছে।