ঢাকা ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি ‘ওবামা আমলের চেয়ে অনেক ভালো হবে’: ট্রাম্প মাটি খুঁড়ে অজ্ঞাত মা ও নবজাতকের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার হেফাজত আমিরের দোয়া নিলেন এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অচিরেই সুখবর আসবে: প্রধানমন্ত্রী ‘পরিবারের সুখ শান্তিকে তছনছ করে দিয়েছি’: মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপি নেত্রী যিশুর মূর্তি ভাঙচুর ইসরাইলি সেনার, বিশ্বজুড়ে তোলপাড় নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ আমি এই মন্ত্রী, এই মন্ত্রণালয়ে যে দুর্নীতি করবে, ২৪ ঘণ্টা থাকতে পারবে না: শিক্ষামন্ত্রী নিজের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে সংসদে উদ্বেগের কথা জানালেন হান্নান মাসুদ

নোয়াখালির ভাসান চরে পাঠানো হবে রোহিঙ্গাদের

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমারের রাখাইনে গণহত্যা নির্যাতন-নিপীড়নের মুখে গত এক মাসে প্রায় ৫ লাখের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এই জনস্রোত এখনও অব্যাহত আছে। কক্সবাজারের উখিয়ায় প্রাথমিকভাবে আশ্রয় দেওয়া হলেও সেখানে জায়গা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। এ কারণেই সরকার সেখান থেকে রোহিঙ্গাদের একটা বড় পরিসরের জায়গায় সরিয়ে নিয়ে তাদের রাখার ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালির হাতিয়ার ভাসান চরে অবকাঠামো তৈরির কাজ চলছে। সেখানেই পাঠানো হবে রোহিঙ্গাদের। অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সমস্যা এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে তৎপরতাও চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। যতদিন রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো সম্ভব না হবে ততদিনের জন্য অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা হচ্ছে। বর্তমানে কক্সবাজারের যে জায়গায় তাদের রাখা হয়েছে সেখানে জায়গার স্বল্পতা রয়েছে, সেই সঙ্গে সেখানে তাদের এক জায়গায় সীমাবদ্ধ রাখাও কঠিন হয়ে পড়বে।

সরকার এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা জানান, মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জনস্রোতের চাপ বহন করতে গিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও সরকারকে চিন্তা করতে হচ্ছে।

ইতোমধ্যেই কক্সবাজার এলাকায় বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে শুরু করেছে। পাহাড় কেটে, গাছপালা কেটে রোহিঙ্গারা থাকার ব্যবস্থা করছেন। এর ফলে বনজঙ্গল ধ্বংস হচ্ছে এবং প্রকৃতির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। অতিরিক্ত জনস্রোত কক্সবাজারে স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। এছাড়া কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের ওপর ইতোমধ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে বলে সরকারের ওই নীতিনির্ধারকরা জানান।

মানবিক কারণে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া হলেও তারা যাতে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সে বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। একটি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখলে তাদেরকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। এতে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দিকটাও অনেকটা নিশ্চিত হবে।

এছাড়া দেশি-বিদেশি বিভিন্ন অপরাধী গোষ্ঠী বিপদে পড়া রোহিঙ্গাদের ব্যবহারের সুযোগ নিতে পারে। এদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং বিভিন্ন ইস্যুতে ব্যবহারের জন্য বিপদগামী করার চেষ্টা হতে পারে। তাদের এক জাগায় রাখা হলে এই সমস্যাগুলো মোকাবেলা করা সম্ভব বলে সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন।

এ ব্যাপারে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, ভাসান চরে রোহিঙ্গাদের রাখার ব্যবস্থা করতে কাজ চলছে। বৃষ্টির কারণে কাজের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে এখন বৃষ্টি কমে যাবে আমরা দ্রুতই জাগায় তৈরির কাজ শেষ করতে পারবো। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এই কাজ হচ্ছে। সেনাবাহিনী এই কাজে আমাদের সার্বিক সহযোগিতা করছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, মানবিক কারণে আমরা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। প্রচুর মানুষ এসেছে, প্রতিনিয়তই আসছে। এদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে হবে। এর জন্য প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিকভাবে সহযোগিতা চেয়েছেন। তারা এখন কক্সবাজারের যেখানে আছে সেখানে জায়গা হচ্ছে না। ফিরিয়ে নেওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। আবার আমাদের দেশের মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাতে বিঘ্নিত না হয় সে দিকটাও দেখতে হবে। তাই তাদের আলাদা জায়গায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হাতিয়ার ওখানে তাদের রাখার জন্য জায়গা তৈরির কাজ চলছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

নোয়াখালির ভাসান চরে পাঠানো হবে রোহিঙ্গাদের

আপডেট সময় ১০:০৫:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমারের রাখাইনে গণহত্যা নির্যাতন-নিপীড়নের মুখে গত এক মাসে প্রায় ৫ লাখের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এই জনস্রোত এখনও অব্যাহত আছে। কক্সবাজারের উখিয়ায় প্রাথমিকভাবে আশ্রয় দেওয়া হলেও সেখানে জায়গা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। এ কারণেই সরকার সেখান থেকে রোহিঙ্গাদের একটা বড় পরিসরের জায়গায় সরিয়ে নিয়ে তাদের রাখার ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালির হাতিয়ার ভাসান চরে অবকাঠামো তৈরির কাজ চলছে। সেখানেই পাঠানো হবে রোহিঙ্গাদের। অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সমস্যা এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে তৎপরতাও চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। যতদিন রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো সম্ভব না হবে ততদিনের জন্য অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা হচ্ছে। বর্তমানে কক্সবাজারের যে জায়গায় তাদের রাখা হয়েছে সেখানে জায়গার স্বল্পতা রয়েছে, সেই সঙ্গে সেখানে তাদের এক জায়গায় সীমাবদ্ধ রাখাও কঠিন হয়ে পড়বে।

সরকার এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা জানান, মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জনস্রোতের চাপ বহন করতে গিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও সরকারকে চিন্তা করতে হচ্ছে।

ইতোমধ্যেই কক্সবাজার এলাকায় বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে শুরু করেছে। পাহাড় কেটে, গাছপালা কেটে রোহিঙ্গারা থাকার ব্যবস্থা করছেন। এর ফলে বনজঙ্গল ধ্বংস হচ্ছে এবং প্রকৃতির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। অতিরিক্ত জনস্রোত কক্সবাজারে স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। এছাড়া কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের ওপর ইতোমধ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে বলে সরকারের ওই নীতিনির্ধারকরা জানান।

মানবিক কারণে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া হলেও তারা যাতে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সে বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। একটি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখলে তাদেরকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। এতে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দিকটাও অনেকটা নিশ্চিত হবে।

এছাড়া দেশি-বিদেশি বিভিন্ন অপরাধী গোষ্ঠী বিপদে পড়া রোহিঙ্গাদের ব্যবহারের সুযোগ নিতে পারে। এদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং বিভিন্ন ইস্যুতে ব্যবহারের জন্য বিপদগামী করার চেষ্টা হতে পারে। তাদের এক জাগায় রাখা হলে এই সমস্যাগুলো মোকাবেলা করা সম্ভব বলে সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন।

এ ব্যাপারে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, ভাসান চরে রোহিঙ্গাদের রাখার ব্যবস্থা করতে কাজ চলছে। বৃষ্টির কারণে কাজের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে এখন বৃষ্টি কমে যাবে আমরা দ্রুতই জাগায় তৈরির কাজ শেষ করতে পারবো। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এই কাজ হচ্ছে। সেনাবাহিনী এই কাজে আমাদের সার্বিক সহযোগিতা করছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, মানবিক কারণে আমরা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। প্রচুর মানুষ এসেছে, প্রতিনিয়তই আসছে। এদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে হবে। এর জন্য প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিকভাবে সহযোগিতা চেয়েছেন। তারা এখন কক্সবাজারের যেখানে আছে সেখানে জায়গা হচ্ছে না। ফিরিয়ে নেওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। আবার আমাদের দেশের মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাতে বিঘ্নিত না হয় সে দিকটাও দেখতে হবে। তাই তাদের আলাদা জায়গায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হাতিয়ার ওখানে তাদের রাখার জন্য জায়গা তৈরির কাজ চলছে।