ঢাকা ০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

১ টন আবর্জনা সরিয়ে ৭০ ফুট গভীর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর লাশ উদ্ধার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সড়কের নিচে একটা নালা, প্রায় ১০ ফুট প্রশস্ত। গভীরতা ৭০ ফুট। রয়েছে আবর্জনা। এই নালায় পড়ে যান সেহেরীন সাদিয়া (২০), যিনি চট্টগ্রামে অবস্থিত আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। তার বাসা নগরের হালিশহরের বড়পোল এলাকায়। বাবার নাম মোহাম্মদ আলী।

ওই নালাটি চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদের মাজার গেট এলাকায়, যেখান থেকে সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর সাদিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

এর আগে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই এলাকায় নালায় পড়ে যান সাদিয়া। ডুবুরি টিম প্রথমে নালায় নেমে তল্লাশি করে। কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। এরপর ক্রেন নিয়ে যাওয়া হয়। ক্রেন দিয়ে আবর্জনা অপসারণ শুরু হয়। একপর্যায়ে সিটি করপোরেশনের আরেকটি ক্রেনও ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজে যোগ দেয়। ততক্ষণে ওই সড়ক এবং আশপাশের এলাকায় কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় তরুণরাও আবর্জনা অপসারণে যোগ দেন।

ফায়ার সার্ভিসের বরাত দিয়ে নগরের ডবলমুরিং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাসুদ রানা জানান, সাদিয়া চশমা কিনে মামার সঙ্গে বাসায় ফিরছিলেন। ভাগনিকে উদ্ধারের জন্য মামা সঙ্গে সঙ্গে নালায় লাফ দেন। কিন্তু ব্যর্থ হন।

পরে নালার বিভিন্ন অংশে খোঁজাখুঁজি করেন ডুবুরি দলের সদস্য ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। ৪ ঘণ্টা পর নিখোঁজ হওয়ার স্থান থেকে ৩০ গজ দূরে ওই নালা থেকে নিহত ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঘটনাস্থলে যাওয়া ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক ফারুক হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সড়কের নিচে একটা নালা, প্রায় ১০ ফুট প্রশস্ত। আবার এর ভেতরে আরেকটা নালা পাওয়া যায়, সেটাও ৮ থেকে ১০ ফুট প্রশস্ত। সম্ভবত ৫০-৬০ বছর আগে সড়ক উঁচু করার সময় অপরিকল্পিতভাবে সেই নালা রেখেই আরেকটি নালা করা হয়। আগের সেই নালা ময়লা-আবর্জনায় পরিপূর্ণ। কমপক্ষে সেখানে ৩ টন আবর্জনা জমে আছে। অনেক চেষ্টা করেও ডুবুরি সেখানে যেতে পারেনি। সেটা আবার টার্ন নিয়েছে কর্ণফুলী নদীর দিকে দক্ষিণে। এরপর দুই ক্রেন মিলে আমরা সেই নালার স্ল্যাব উঠিয়ে ১ টনের মতো আবর্জনা-মাটি অপসারণ করি। তখন আগের সেই নালার মধ্যে, কমপক্ষে সড়ক থেকে ৭০ ফুট গভীরে হবে, সেখানে আবর্জনায় আটকে আছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৪ ঘণ্টা চেষ্টার পর আমরা লাশ উদ্ধার করি।’

উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট বৃষ্টির মধ্যে চট্টগ্রাম নগরীর মুরাদপুরে নালায় পড়ে নিখোঁজ হন সালেহ আহমদ নামে এক সবজি বিক্রেতা। এক মাসেও তার খোঁজ মেলেনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১ টন আবর্জনা সরিয়ে ৭০ ফুট গভীর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর লাশ উদ্ধার

আপডেট সময় ০৯:১৩:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সড়কের নিচে একটা নালা, প্রায় ১০ ফুট প্রশস্ত। গভীরতা ৭০ ফুট। রয়েছে আবর্জনা। এই নালায় পড়ে যান সেহেরীন সাদিয়া (২০), যিনি চট্টগ্রামে অবস্থিত আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। তার বাসা নগরের হালিশহরের বড়পোল এলাকায়। বাবার নাম মোহাম্মদ আলী।

ওই নালাটি চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদের মাজার গেট এলাকায়, যেখান থেকে সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর সাদিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

এর আগে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই এলাকায় নালায় পড়ে যান সাদিয়া। ডুবুরি টিম প্রথমে নালায় নেমে তল্লাশি করে। কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। এরপর ক্রেন নিয়ে যাওয়া হয়। ক্রেন দিয়ে আবর্জনা অপসারণ শুরু হয়। একপর্যায়ে সিটি করপোরেশনের আরেকটি ক্রেনও ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজে যোগ দেয়। ততক্ষণে ওই সড়ক এবং আশপাশের এলাকায় কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় তরুণরাও আবর্জনা অপসারণে যোগ দেন।

ফায়ার সার্ভিসের বরাত দিয়ে নগরের ডবলমুরিং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাসুদ রানা জানান, সাদিয়া চশমা কিনে মামার সঙ্গে বাসায় ফিরছিলেন। ভাগনিকে উদ্ধারের জন্য মামা সঙ্গে সঙ্গে নালায় লাফ দেন। কিন্তু ব্যর্থ হন।

পরে নালার বিভিন্ন অংশে খোঁজাখুঁজি করেন ডুবুরি দলের সদস্য ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। ৪ ঘণ্টা পর নিখোঁজ হওয়ার স্থান থেকে ৩০ গজ দূরে ওই নালা থেকে নিহত ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঘটনাস্থলে যাওয়া ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক ফারুক হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সড়কের নিচে একটা নালা, প্রায় ১০ ফুট প্রশস্ত। আবার এর ভেতরে আরেকটা নালা পাওয়া যায়, সেটাও ৮ থেকে ১০ ফুট প্রশস্ত। সম্ভবত ৫০-৬০ বছর আগে সড়ক উঁচু করার সময় অপরিকল্পিতভাবে সেই নালা রেখেই আরেকটি নালা করা হয়। আগের সেই নালা ময়লা-আবর্জনায় পরিপূর্ণ। কমপক্ষে সেখানে ৩ টন আবর্জনা জমে আছে। অনেক চেষ্টা করেও ডুবুরি সেখানে যেতে পারেনি। সেটা আবার টার্ন নিয়েছে কর্ণফুলী নদীর দিকে দক্ষিণে। এরপর দুই ক্রেন মিলে আমরা সেই নালার স্ল্যাব উঠিয়ে ১ টনের মতো আবর্জনা-মাটি অপসারণ করি। তখন আগের সেই নালার মধ্যে, কমপক্ষে সড়ক থেকে ৭০ ফুট গভীরে হবে, সেখানে আবর্জনায় আটকে আছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৪ ঘণ্টা চেষ্টার পর আমরা লাশ উদ্ধার করি।’

উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট বৃষ্টির মধ্যে চট্টগ্রাম নগরীর মুরাদপুরে নালায় পড়ে নিখোঁজ হন সালেহ আহমদ নামে এক সবজি বিক্রেতা। এক মাসেও তার খোঁজ মেলেনি।