আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:
কাজটা এমনিতেই কঠিন ছিল। ইন্দোরের হোলকার স্টেডিয়ামে ভারতকে এখনো কেউ হারাতে পারেনি। তাই তৃতীয় ম্যাচেই সিরিজ হার এড়াতে আজ কঠিন পরীক্ষা দিতেই হতো অস্ট্রেলিয়াকে। কিন্তু মিডল অর্ডারের দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিং ‘পরীক্ষা’টা আরও কঠিন করে তুলল। সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ২৯৩ রান তুলেছে অস্ট্রেলিয়া।
২৯৩ স্কোর হিসেবে মন্দ নয়। কিন্তু এরপরেও ‘মাত্র’ শব্দটা ব্যবহার করতে বাধ্য করছেন অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যানরাই। যেখানে ৩৬ ওভারেই মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে ২০০ ছুঁয়ে ফেলল স্মিথ-ফিঞ্চরা, সেখানে বাকি ওভারগুলোতে রানের বন্যা বইয়ে দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেখানে অস্ট্রেলিয়া কিনা থামল ২৯৩-এ!
সিরিজে প্রথমবারের মতো খেলতে নামা অ্যারন ফিঞ্চ সেঞ্চুরি পেলেন। তাঁকে সঙ্গ দেওয়ার কাজ করছিলেন অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ। কিন্তু কুলদীপ যাদবের বলে নিজের ষষ্ঠ ছক্কা হাঁকাতে গিয়েই ঝামেলা করে ফেললেন ফিঞ্চ। কেদার যাদবের হাতে ধরা পড়লেন ১২৪ রানে। ১২৫ বলের ইনিংসে ৫ ছক্কার সঙ্গে ১২টা চার ছিল এই ওপেনারের।
১৫৪ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটিটা ভাঙতেই অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস যেন তাসের ঘর! ওই কুলদীপকে ছক্কা মারতে গিয়ে ফিরলেন স্মিথ। তাঁর পরের বলেই গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ‘দৃষ্টিকটু’ভাবে স্টাম্পড হলেন যুজবেন্দ্র চাহালের বলে। ৩৮তম ওভার শেষেও সাড়ে তিন শ রানের স্বপ্ন দেখতে থাকা অস্ট্রেলিয়া ১ উইকেটে ২২৪ রান থেকে কিছুক্ষণের মধ্যেই ২৪৩/৪; জসপ্রীত বুমরার বলে ট্রাভিস হেড বোল্ড হয়ে সেটাকে বানিয়ে দিলেন ২৬০/৫।
সাড়ে তিন শ তো দূরের কথা, অস্ট্রেলিয়া তখন পুরো ৫০ ওভার খেলে আসতে পারবে কি না, শঙ্কাটা তখন এমনই। ভাগ্যিস, মার্কাস স্টয়নিচ দাঁড়িয়ে গেলেন, তাই ৫০ ওভার শেষ করে আসতে পেরেছে সফরকারী দল। কিন্তু অতিপ্রয়োজনীয় ঝড়টা তুলতে পারেননি এই অলরাউন্ডার। এর মাঝেই পিটার হ্যান্ডসকম্ব ফিরেছেন মনীশ পাণ্ডের দুর্দান্ত এক ক্যাচের শিকার হয়ে। সীমানা দড়ির সে ক্যাচ ছক্কা হলেও হয়তো তিন শ পেরোনোর একটা সম্ভাবনা জাগাতে পারত অস্ট্রেলিয়া।
হোলকার স্টেডিয়ামের একটি তথ্য অবশ্য সাহস দিতে পারে অস্ট্রেলিয়াকে। এ মাঠে ৪ ওয়ানডের তিনটিতেই জিতেছে আগে ব্যাট করা দল। এ মাঠে রান তাড়া করে জেতার ঘটনাটি সেই ২০০৬ সালের। সেবার ইংল্যান্ডের ২৮৮ রান ৭ উইকেট হাতে রেখে পার করেছিল স্বাগতিক দল। ভারতকে তাই আজ নিজেদের রেকর্ডই নতুন করে গড়তে হবে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
| অস্ট্রেলিয়া | ২৯৩/৭ |
| ব্যাটিং | ওয়ার্নার ৪২, ফিঞ্চ ১২৪, স্মিথ ৬৩, ম্যাক্সওয়েল ৫, হেড ৪, স্টয়নিচ ২৭*, হ্যান্ডসকম্ব ৩, অ্যাগার ৯* |
| বোলিং | ভুবনেশ্বর ০/৫২, বুমরা ২/৫২, চাহাল ১/৫৪, পান্ডিয়া ১/৫৮, কুলদীপ ২/৭৫ |
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























