ঢাকা ০৬:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

শিশু-নারী পাচারচক্রের হোতা মহিলা গ্রেপ্তার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজধানীর শ্যামপুর এলাকা থেকে শিশু ও নারী পাচারকারী চক্রে জড়িত এক নারীকে আটক করেছে র‌্যাব-১০। আটককৃতের নাম নাজমা সুলতানা ওরফে হাসনাহেনা। তিনি এ চক্রের মূলহোতা বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

এ সময় তার কাছ থেকে পাঁচটি পাসপোর্ট, ১৫০ কপি পাসপোর্টের ফটোকপি, তিনটি আকামা (দুইটি কাতার ও একটি মালোয়েশিয়া), ১৫টি ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স কার্ড ১১টি বিএমইটি কার্ড যার মধ্যে (১০টি নকল), ১৫টি জন্ম সনদ, একটি জাতীয় পরিচয়পত্র ও দুইটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

বৃহস্পতিবার বিকালে র‌্যাব-১০ এর সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে র‌্যাব-১০ এর একটি দল রাজধানীর শ্যামপুর থানার ধোলাইপার যুক্তিবাদি গলি এলাকায় একটি অভিযান চালায়। অভিযানে নাজমা সুলতানা ওরফে হাসনাহেনাকে আটক করা হয়।

র‌্যাব জানায়, বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে পাচার হওয়ার এক নারী মারাত্মক নির্যাতনের শিকার হওয়ার সংবাদ গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়। এরপর র‌্যাব-১০ এর একটি দল অনুসন্ধান ও খোঁজখবর করার পর প্রচারিত সংবাদটির সত্যতা খুঁজে পায়। পরে শ্যামপুরের ধোলাইপার থেকে নাজমা সুলতানাকে আটক করে।

আটক নাজমা সুলতানা ওরফে হাসনাহেনা ২০ বছরের এক নারীকে গৃহকর্মীর কাজের জন্য গত ১৫ জুলাই মধ্যপ্রাচ্যে পাঠান। সেখানে কাজ করা অবস্থায় ওই ভুক্তভোগী নারীর পায়ে, পিঠেসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গরম ইস্ত্রি (আয়রন মেশিন) দিয়ে ছেকা দিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়। গরম ইস্ত্রির (আয়রন মেশিন) ছেকায় ভুক্তভোগী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে গতকাল বুধবার বাংলাদেশে ফিরে আসেন। তিনি অসুস্থ অবস্থায় মিডফোর্ড স্যার সলিমুল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। বর্তমানে তিনি নিজ বাসায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।

আটক নাজমা সুলতানার বরাত দিয়ে র‌্যাব জানায়, তিনি পেশাদার নারী ও শিশু পাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি ও তার স্বামী মো. নাজমুল পরস্পর যোগসাজসে সংঘবদ্ধভাবে পতিতাবৃত্তি ও যৌন কাজে নিয়োজিত করার জন্য বিভিন্ন বয়সের নারী ও শিশুদের প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গৃহকর্মীর নামে পাচার করে আসছিলেন। নাজমা এবং তার স্বামী নাজমুল বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন বয়সের মেয়েদের ৭০-৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন দেশে বিক্রি করতেন। এছাড়াও সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন। পাচারকৃত নারীরা সেখানে গিয়ে বিভিন্নভাবে যৌন ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিলেন বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে শ্যামপুর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

শিশু-নারী পাচারচক্রের হোতা মহিলা গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ১১:২৭:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজধানীর শ্যামপুর এলাকা থেকে শিশু ও নারী পাচারকারী চক্রে জড়িত এক নারীকে আটক করেছে র‌্যাব-১০। আটককৃতের নাম নাজমা সুলতানা ওরফে হাসনাহেনা। তিনি এ চক্রের মূলহোতা বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

এ সময় তার কাছ থেকে পাঁচটি পাসপোর্ট, ১৫০ কপি পাসপোর্টের ফটোকপি, তিনটি আকামা (দুইটি কাতার ও একটি মালোয়েশিয়া), ১৫টি ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স কার্ড ১১টি বিএমইটি কার্ড যার মধ্যে (১০টি নকল), ১৫টি জন্ম সনদ, একটি জাতীয় পরিচয়পত্র ও দুইটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

বৃহস্পতিবার বিকালে র‌্যাব-১০ এর সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে র‌্যাব-১০ এর একটি দল রাজধানীর শ্যামপুর থানার ধোলাইপার যুক্তিবাদি গলি এলাকায় একটি অভিযান চালায়। অভিযানে নাজমা সুলতানা ওরফে হাসনাহেনাকে আটক করা হয়।

র‌্যাব জানায়, বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে পাচার হওয়ার এক নারী মারাত্মক নির্যাতনের শিকার হওয়ার সংবাদ গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়। এরপর র‌্যাব-১০ এর একটি দল অনুসন্ধান ও খোঁজখবর করার পর প্রচারিত সংবাদটির সত্যতা খুঁজে পায়। পরে শ্যামপুরের ধোলাইপার থেকে নাজমা সুলতানাকে আটক করে।

আটক নাজমা সুলতানা ওরফে হাসনাহেনা ২০ বছরের এক নারীকে গৃহকর্মীর কাজের জন্য গত ১৫ জুলাই মধ্যপ্রাচ্যে পাঠান। সেখানে কাজ করা অবস্থায় ওই ভুক্তভোগী নারীর পায়ে, পিঠেসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গরম ইস্ত্রি (আয়রন মেশিন) দিয়ে ছেকা দিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়। গরম ইস্ত্রির (আয়রন মেশিন) ছেকায় ভুক্তভোগী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে গতকাল বুধবার বাংলাদেশে ফিরে আসেন। তিনি অসুস্থ অবস্থায় মিডফোর্ড স্যার সলিমুল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। বর্তমানে তিনি নিজ বাসায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।

আটক নাজমা সুলতানার বরাত দিয়ে র‌্যাব জানায়, তিনি পেশাদার নারী ও শিশু পাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি ও তার স্বামী মো. নাজমুল পরস্পর যোগসাজসে সংঘবদ্ধভাবে পতিতাবৃত্তি ও যৌন কাজে নিয়োজিত করার জন্য বিভিন্ন বয়সের নারী ও শিশুদের প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গৃহকর্মীর নামে পাচার করে আসছিলেন। নাজমা এবং তার স্বামী নাজমুল বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন বয়সের মেয়েদের ৭০-৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন দেশে বিক্রি করতেন। এছাড়াও সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন। পাচারকৃত নারীরা সেখানে গিয়ে বিভিন্নভাবে যৌন ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিলেন বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে শ্যামপুর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।