আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বগুড়ার গাবতলীতে চাতাল শ্রমিক ইব্রাহীম হোসেনকে (২১) গলা কেটে হত্যারহস্য উন্মোচিত হয়েছে। মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিতেই তাকে কৌশলে শেরপুর থেকে ডেকে গাবতলীর নিশিন্দারা গ্রামে পরিত্যক্ত ইটভাটায় নিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় গ্রেফতার তার বন্ধু জাহিদ হাসান মামুন (১৯) বুধবার দুপুরে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসমা মাহমুদের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। আদালত তাকে বগুড়া জেলহাজতে পাঠিয়েছেন। ছিনিয়ে নেওয়া অ্যাপাচি মোটরসাইকেলটি তার হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে নিহতের মামা সামসুল বারী গাবতলী থানায় মামুনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। বিকালে গাবতলী থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম এ তথ্য দিয়েছেন।
পুলিশ, এজাহার সূত্র ও স্বজনরা জানান, নিহত ইব্রাহীম হোসেন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার খামারগাতি গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে। তিনি বগুড়ার শেরপুরের মির্জাপুরে মামা সামসুল বারীর চাতালে শ্রমিক হিসেবে করতেন। ইব্রাহীম ব্যবসায়িক কাজে তার মামার অ্যাপাচি মোটরসাইকেল ব্যবহার করতেন।
চাতাল এলাকার হানিফ সোনারের ছেলে বখাটে জাহিদ হাসান মামুনসহ কয়েকজনের সাথে তার বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। মামুন ও তার সঙ্গীরা ইব্রাহীমের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুসারে গত সোমবার সন্ধ্যায় কৌশলে তাকে গাবতলী উপজেলার নিশিন্দারা গ্রামে একটি পরিত্যক্ত ইটভাটায় ডেকে আনা হয়।
সেখানে সবাই মিলে মদপান করেন। মধ্যরাতে তারা হত্যার উদ্দেশ্যে ইব্রাহীমের গলায় ব্লেড দিয়ে আঘাত করেন। মামুন মারা গেছেন ভেবে তারা মোটরসাইকেল ও তার মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান। এরপর রক্তাক্ত ইব্রাহীম জীবন বাঁচাতে ভাটা থেকে উঠে দৌড়ে পাশের একটি মুদি দোকানের সামনে গিয়ে পড়ে যান।
স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে গাবতলী থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তিনি মারা যান।
এদিকে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে মঙ্গলবার সকালে মামুনকে বগুড়া শহরের নাটাইপাড়ার ভাড়া বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ইব্রাহীমকে হত্যার পরিকল্পনা, হত্যা ও অন্যান্য বিষয় স্বীকার করেন। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুসারে ছিনিয়ে নেওয়া মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।
গাবতলী থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম জানান, মামুনকে বুধবার দুপুরে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসমা মাহমুদের আদালতে হাজির করলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিতেই তিনি ইব্রাহীমকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেন বলে জানিয়েছেন। পরে তাকে বগুড়া জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া অপর আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























