ঢাকা ০১:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে রেলপথ অবরোধ, ট্রেন চলাচল বন্ধ সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের দুই প্যাকেজ ঘোষণা ভাটারায় গ্যাসলাইন বিস্ফোরণ, একই পরিবারের শিশুসহ দগ্ধ ৩ রাজধানীর ১২০ মোড়ে বসছে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়: প্রধানমন্ত্রী ‘যুগপৎ আন্দোলনের সময় ঘোষিত ৩১ দফা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে’:মির্জা ফখরুল পুষ্টি ও সুস্বাস্থ্যেই গড়ে উঠবে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ: আমিনুল হক বাধ্যতামূলক অবসরে অতিরিক্ত ডিআইজি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে রাশেদ খাঁনের শ্রদ্ধা নিবেদন

পাকিস্তানি ব্যাংকের ১৮৫০ কোটি রুপি দুর্নীতি, অভিযুক্ত ৭ বাংলাদেশি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পাকিস্তানের অন্যতম বাণিজ্যিক ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের (এনবিপি) ঢাকা শাখা থেকে এক হাজার ৮৫০ কোটি রুপি দুর্নীতি হয়েছে। ২০০৩ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত এ দুর্নীতি হয়। এ দুর্নীতিতে জড়িত অভিযোগে সলিমুল্লাহ, প্রদীপ, কাজী নিজামসহ সাত বাংলাদেশিসহ ব্যাংকটির ১৬ শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে পাকিস্তানের দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ব্যুরো-ন্যাব।

শুক্রবার আদালতের নির্দেশের এনবিপির সাবেক প্রেসিডেন্ট সাঈদ আলী রাজা, ঢাকা শাখার মহাব্যবস্থাপক ওয়াসিম খান, কর্মকর্তা তালহা ইয়াকুব, যোবায়ের আহমেদ ও ড. মির্জা আবরার বেগকে গ্রেফতার করেছেন। পাঁচ ব্যাংক কর্মকর্তাকে ন্যাবের হাজতখানায় রাখা হয়েছে। শনিবার তাদের করাচির দুর্নীতিবিরোধী আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

শুক্রবার সিন্ধুর প্রাদেশিক হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আহমেদ আলি এম শেখের নেতৃত্বাধীন দ্বৈত বেঞ্চ এনবিপির সাবেক প্রেসিডেন্টসহ পাঁচ অভিযুক্তের আগাম জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের গ্রেফতারের আদেশ দেন।

এরপর অভিযুক্তরা গ্রেফতার এড়ানোর জন্য আদালতের এজলাশে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে। একই সময়ে ন্যাব কর্মকর্তারা এজলাশের বাইরে অপেক্ষা করতে থাকেন। একপর্যায়ে সাঈদ আলী রাজা ও বাকি চার অভিযুক্ত বের হওয়া মাত্রই তাদের ধরে ফেলে ন্যাব কর্মকর্তা।

এদিকে এনবিপির আরও দুই সাবেক প্রেসিডেন্ট কামার হোসেন এবং কাউসার মালিকের আগাম জামিন মঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট। এর আগে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতিবিরোধী আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।

জানা গেছে, এনবিপির কিছু কর্মকর্তা কোনো ধরনের যথাযথ জামানত ছাড়াই ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ শাখা থেকে ঋণ অনুমোদন করে। এভাবে তারা পাকিস্তানের জাতীয় রাজস্বের ক্ষতি করেছেন এমন অভিযোগ এনে তাদের বিরুদ্ধে গত বছর তদন্ত শুরু করে ন্যাব।

তদন্তে বেরিয়ে আসে, ব্যাংকের বাংলাদেশ লাখা থেকে ২০০৩ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত জামানত ছাড়াই প্রশ্নবিদ্ধ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে ১৮ কোটি ডলার ঋণ দেয়। এ কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে জামানত হিসেবে রাখা সম্পদ বা অন্য কোনো সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে পারেনি ব্যাংকটি।

ফলে ব্যাংকটির অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ ব্যাপক হারে বেড়ে যায়। এই সংকটের বিষয়টি বাংলাদেশ শাখা থেকে এনবিপির কেন্দ্রীয় শাখায় ১৯ বার অবহিত করা হয়। কিন্তু ব্যাংকের শীর্ষ ব্যবস্থাপকরা এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে নিরীক্ষণ সংস্থার (অডিট ফার্ম)প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

শুক্রবার, এনএবির প্রসিকিউটর এসএইচসি বেঞ্চকে জানায় যে সন্দেহভাজনরা এনবিপি বাংলাদেশ অপারেশনে তাদের দুর্নীতির চর্চার মাধ্যমে জাতীয় খাতের ভেতর কোটি কোটি টাকার ক্ষতি করেছে।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালের অডিট রিপোর্টে অনিয়ম দেখা যায় এবং পাকিস্তানের স্টেট ব্যাংকের সাবেক গভর্নরও এনবিপি কর্মকর্তাদের দোষারোপ করে অভিযোগ করেন। শুক্রবার সিন্ধু হাইকোর্টকে ন্যাবের তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা এনবিপির বাংলাদেশ শাখার মাধ্যমে পাকিস্তানের শত শত কোটি রুপি ক্ষতি করেছে।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এনবিপির অনিয়মের বিষয়টি জানাজানি হয়। যাতে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন সাবেক গভর্নর অভিযোগ করেন, এনবিপির কর্মকর্তারা দুর্নীতিতে জড়িত।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা

পাকিস্তানি ব্যাংকের ১৮৫০ কোটি রুপি দুর্নীতি, অভিযুক্ত ৭ বাংলাদেশি

আপডেট সময় ১২:১১:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পাকিস্তানের অন্যতম বাণিজ্যিক ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের (এনবিপি) ঢাকা শাখা থেকে এক হাজার ৮৫০ কোটি রুপি দুর্নীতি হয়েছে। ২০০৩ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত এ দুর্নীতি হয়। এ দুর্নীতিতে জড়িত অভিযোগে সলিমুল্লাহ, প্রদীপ, কাজী নিজামসহ সাত বাংলাদেশিসহ ব্যাংকটির ১৬ শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে পাকিস্তানের দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ব্যুরো-ন্যাব।

শুক্রবার আদালতের নির্দেশের এনবিপির সাবেক প্রেসিডেন্ট সাঈদ আলী রাজা, ঢাকা শাখার মহাব্যবস্থাপক ওয়াসিম খান, কর্মকর্তা তালহা ইয়াকুব, যোবায়ের আহমেদ ও ড. মির্জা আবরার বেগকে গ্রেফতার করেছেন। পাঁচ ব্যাংক কর্মকর্তাকে ন্যাবের হাজতখানায় রাখা হয়েছে। শনিবার তাদের করাচির দুর্নীতিবিরোধী আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

শুক্রবার সিন্ধুর প্রাদেশিক হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আহমেদ আলি এম শেখের নেতৃত্বাধীন দ্বৈত বেঞ্চ এনবিপির সাবেক প্রেসিডেন্টসহ পাঁচ অভিযুক্তের আগাম জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের গ্রেফতারের আদেশ দেন।

এরপর অভিযুক্তরা গ্রেফতার এড়ানোর জন্য আদালতের এজলাশে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে। একই সময়ে ন্যাব কর্মকর্তারা এজলাশের বাইরে অপেক্ষা করতে থাকেন। একপর্যায়ে সাঈদ আলী রাজা ও বাকি চার অভিযুক্ত বের হওয়া মাত্রই তাদের ধরে ফেলে ন্যাব কর্মকর্তা।

এদিকে এনবিপির আরও দুই সাবেক প্রেসিডেন্ট কামার হোসেন এবং কাউসার মালিকের আগাম জামিন মঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট। এর আগে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতিবিরোধী আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।

জানা গেছে, এনবিপির কিছু কর্মকর্তা কোনো ধরনের যথাযথ জামানত ছাড়াই ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ শাখা থেকে ঋণ অনুমোদন করে। এভাবে তারা পাকিস্তানের জাতীয় রাজস্বের ক্ষতি করেছেন এমন অভিযোগ এনে তাদের বিরুদ্ধে গত বছর তদন্ত শুরু করে ন্যাব।

তদন্তে বেরিয়ে আসে, ব্যাংকের বাংলাদেশ লাখা থেকে ২০০৩ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত জামানত ছাড়াই প্রশ্নবিদ্ধ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে ১৮ কোটি ডলার ঋণ দেয়। এ কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে জামানত হিসেবে রাখা সম্পদ বা অন্য কোনো সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে পারেনি ব্যাংকটি।

ফলে ব্যাংকটির অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ ব্যাপক হারে বেড়ে যায়। এই সংকটের বিষয়টি বাংলাদেশ শাখা থেকে এনবিপির কেন্দ্রীয় শাখায় ১৯ বার অবহিত করা হয়। কিন্তু ব্যাংকের শীর্ষ ব্যবস্থাপকরা এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে নিরীক্ষণ সংস্থার (অডিট ফার্ম)প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

শুক্রবার, এনএবির প্রসিকিউটর এসএইচসি বেঞ্চকে জানায় যে সন্দেহভাজনরা এনবিপি বাংলাদেশ অপারেশনে তাদের দুর্নীতির চর্চার মাধ্যমে জাতীয় খাতের ভেতর কোটি কোটি টাকার ক্ষতি করেছে।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালের অডিট রিপোর্টে অনিয়ম দেখা যায় এবং পাকিস্তানের স্টেট ব্যাংকের সাবেক গভর্নরও এনবিপি কর্মকর্তাদের দোষারোপ করে অভিযোগ করেন। শুক্রবার সিন্ধু হাইকোর্টকে ন্যাবের তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা এনবিপির বাংলাদেশ শাখার মাধ্যমে পাকিস্তানের শত শত কোটি রুপি ক্ষতি করেছে।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এনবিপির অনিয়মের বিষয়টি জানাজানি হয়। যাতে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন সাবেক গভর্নর অভিযোগ করেন, এনবিপির কর্মকর্তারা দুর্নীতিতে জড়িত।