আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
শিক্ষার্থী ও কর্মক্ষেত্রের সংযোগ স্থাপনে বিশ্ববিদ্যালয়কে ধাত্রীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান।
শনিবার বিকাল চারটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর পিস অ্যান্ড লিবার্টির উদ্যোগে আব্দুল মতিন ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে ‘বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা ভাবনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এসব বলেন তিনি।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর পিস অ্যান্ড লিবার্টি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. ফখরুল আলম সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, আলোচক ছিলেন শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মালেক। তাছাড়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন- সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন আর্টস অ্যান্ড সোস্যাল সায়েন্সেস’র পরিচালক অধ্যাপক ড. আবদুল বাছির।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে অধ্যাপক আতিউর রহমান বলেন, শিক্ষার্থী ও কর্মক্ষেত্রে সংযোগ স্থাপনে বিশ্ববিদ্যালয়কে ধাত্রীর ভূমিকা নিতে হলে এর জন্য উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও গবেষণায় বাড়তি মনযোগ দিতে হবে। আর এ জন্য ইন্টার্নশিপ ও ইমার্সন প্রোগ্রাম জোরদার করতে হবে (কৃষি ও এসএমই খাতই আমাদের অর্থনীতির রক্ষাকবচ। তাই গ্রামীণ অর্থনীতি সম্পর্কে যেন গ্র্যাজুয়েটদের সম্যক ধারণা থাকে তা নিশ্চিত করা চাই।) ইনোভেশন ল্যাব স্থাপন করে উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে হবে। এন্টারপ্রেনারশিপ ও লিডারশিপ ডেভেলপমেন্ট সেন্টার গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষকদের আরও বেশি গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করতে বিশেষ গবেষণা তহবিল গড়তে হবে। আমাদের যে একাডেমিকরা প্রবাসে শিক্ষা ও গবেষণায় প্রখ্যাত হয়েছেন তাদের শিক্ষাদান প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে হবে। ই-লার্নিং ক্যাম্পাস গড়ে তোলা দরকার। পাশাপাশি অনলাইন এবং অফলাইন শিক্ষার কার্যকর মিশ্রণ নিশ্চিত করা চাই। পড়ালেখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যেন সামাজিক দায়বোধ থেকে অন্যান্য কার্যক্রমেও যুক্ত হয় যথাযথ পরিবশে নিশ্চিত করা দরকার।
তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু শিক্ষা নিয়ে ছোটবেলা থেকেই ভেবেছেন। নানা আন্দোলনের পাশাপাশি শিক্ষা আন্দোলনেও তিনি যুক্ত ছিলেন। তার সব ভাবনার মূলে ছিলে তরুণ প্রজন্ম। শিক্ষিত তরুণদের কেন্দ্রে রেখেই তিনি রাজনীতিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। বঙ্গবন্ধু জাতীয় ভাষায় কথা বলার গুরুত্ব দিয়েছেন সবসময়। চীনে গিয়ে বঙ্গবন্ধু সেখানকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ইংরেজিতে দক্ষ হওয়ার পরও তার জাতীয় ভাষায় বক্তব্য দিয়েছেন। আর আমরা জাতীয় ভাষায় কথা না বলে ইংরেজি আর উর্দু ভাষায় কথা বলতে পাগল হয়ে যাই। আমাদের উচিত নিজেদের মাতৃভাষায় স্পষ্টভাষী হওয়া।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর সকল কর্মকাণ্ডে লক্ষ্যবস্তু ছিল তরুণ সমাজ। দেশে যেভাবে শিক্ষার বিস্তার ঘটেছে সেভাবে মানের উন্নতি ঘটছে না। জাতীয় পাঠ্যপুস্তক নিয়ে, বাংলা একাডেমি বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এটার জন্য আমরাই দায়ী৷ বঙ্গবন্ধুর ছিল সততা, নিষ্ঠা এবং সাহস- তাই তিনি হয়েছেন জাতির পিতা, বাংলার স্বাধীনতার নায়ক। আর আজকে আমরা সৎ, জ্ঞানী না হয়ে ধূর্ত ও চালাক হচ্ছি, উদার মনের মানুষ না হয়ে বিশিষ্ট হতে চাই। আজ যদি আমরা আত্মসমালোচনা করতে শিখি, বঙ্গবন্ধুর জীবনকে পর্যালোচনা করি, তার শিক্ষা ভাবনা নিয়ে কাজ করি তাহলেই কেবল আগামী প্রজন্ম সঠিক দিক নির্দেশনা পাবে।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. ফখরুল আলম বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে উন্নত করতে হলে আমাদের বঙ্গবন্ধুর কাছেই ফিরে যেতে হবে। তার উন্নত শিক্ষা ভাবনা আমলে নিলে আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যেমনি উপকৃত হবে তেমনি জাতিও সুন্দর পথে এগোবে। বঙ্গবন্ধুর কাছাকাছি যেতে হলে তার লেখা বই পড়তে হবে, এতে তার প্রদান করা নানা নির্দেশনা আমরা পাব। বাংলাদেশে এগিয়ে যাচ্ছে, যদি বঙ্গবন্ধুকে আকড়ে ধরে রাখতে পারি, তাহলে দেশ আরো অনেক দূর এগিয়ে যাবে৷
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























