ঢাকা ১১:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আমার বাবাকে মিথ্যা মামলায় হত্যা করা হয়, সে কারণেই আমি আজ সংসদে ১৮ মাস যে আরামে ছিলেন, সে আরাম এখন হচ্ছে না: বিরোধী দলকে প্রতিমন্ত্রী জামায়াতের এমপিকে মসজিদে হত্যাচেষ্টা, সংসদে চাইলেন নিরাপত্তা গাইবান্ধায় বজ্রপাতে শিশুসহ ৫ জনের মৃত্যু দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কার্যক্রম চলছে : সেতুমন্ত্রী সচিবালয়ে ২১ তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেয়নি একনেক আত্মঘাতী হামলায় মালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিহত এসি রুমে বসে জনগণের সমস্যা বোঝা যায় না: সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল করে সংসদে বিল পাস বাসা থেকে ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, চিরকুটে পাওয়া গেল শিক্ষকের নাম

বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক; স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি পেতে মাদরাসা শিক্ষকের বাড়িতে অনশন

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তিন বছর ধরে কক্সবাজারের টেকনাফের এক দিনমজুরের মেয়ের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে গড়ে তোলেন মাদরাসা শিক্ষক নুরুল মোস্তফা। ভুক্তভোগী ওই নারী স্ত্রীর স্বীকৃতি পেতে গত ৭ দিন ধরে মাদরাসা শিক্ষককের বাসার সামনে অনশন করছেন। তবে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে লাখ টাকার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছেন মাদরাসা শিক্ষক ও তার পরিবার।

নুরুল মোস্তফা আলী আকবর পাড়ার মৃত হাবিব উল্লাহর ছেলে। এ ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানায় ওই নারীর মা বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন

মঙ্গলবার অনশনে থাকা অবস্থায় হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদে সালিশ করে সমাধানে যেতে পারেনি উভয় পক্ষ।
জানা যায়, ৩ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত হ্নীলা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের আলী আকবর পাড়ায় নুরুল মোস্তাফার বাড়ি স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে অনশনে রয়েছেন ভুক্তভোগী মেয়েটি।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নুরুল মোস্তফা স্থানীয় গাউছিয়া নুরানী মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন। সেই সুবাধে জনৈক আমান উল্লাহর গৃহ শিক্ষক ছিলেন। আমান উল্লাহ ও তার স্ত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। ওই বাড়িতেই গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন সেই নারী। সেখানেই নুরুল মোস্তফার সঙ্গে গৃহপরিচারিকার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ নিয়ে শপথ করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীকে শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করে। এইভাবেই দিন যেতে থাকে। আশপাশের লোকজন মাদরাসা শিক্ষককে নিয়মিত রাতবিরাতে যাওয়া-আসা করতে দেখলেই দূরত্ব বাড়ান তিনি। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে বিয়ের জন্য চাপ দেয় ওই নারী।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করলে মোস্তফা ৩ আগস্ট রাতে আমাকে তার বাড়িতে নিয়ে আসেন। তারপর উঠানে রেখে পালিয়ে যায়। তার অনুপস্থিতিতে তারা বাবা-মা আমাকে মারধর করেন। তাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু আমি এখান থেকে যাইনি।

তিনি আরও বলেন, আমাকে এখান থেকে তাড়াতে মোস্তফার পরিবার আমাকে ৫০ হাজার টাকা দেয়ার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু আমি টাকা নিব না। আমি তাকেই বিয়ে করব। তাকে বিয়ে করতে না পারলে আমি আত্মহত্যা করব।

হ্নীলা নাইক্ষ্যংখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশ-প্রহরী নুরুল আবছার বলেন, ওই মাদরাসা শিক্ষককে রাতের আঁধারে কয়েকদিন ওই মেয়ের বাড়িতে যাতায়াত করতে দেখেছি।

হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ বলেন, মঙ্গলবার মেয়ে ও ছেলের পরিবার নিয়ে সমাধানের জন্য বসেছিলাম। ছেলে সব অভিযোগ অস্বীকার করছে। কিন্তু মেয়ের কাছে কিছু প্রমাণ রয়েছে সম্পর্কের। আমি ছেলে পক্ষকে ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছি। এর মধ্যে বিয়েতে রাজি না হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছি।

টেকনাফ থানার ওসি তদন্ত আব্দুল আলীম জানান, মেয়ের পক্ষ থেকে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। ওসি ছুটিতে থাকায় অভিযোগের বিষয়ে জানেন না তিনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক; স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি পেতে মাদরাসা শিক্ষকের বাড়িতে অনশন

আপডেট সময় ০৯:২৮:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ অগাস্ট ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তিন বছর ধরে কক্সবাজারের টেকনাফের এক দিনমজুরের মেয়ের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে গড়ে তোলেন মাদরাসা শিক্ষক নুরুল মোস্তফা। ভুক্তভোগী ওই নারী স্ত্রীর স্বীকৃতি পেতে গত ৭ দিন ধরে মাদরাসা শিক্ষককের বাসার সামনে অনশন করছেন। তবে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে লাখ টাকার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছেন মাদরাসা শিক্ষক ও তার পরিবার।

নুরুল মোস্তফা আলী আকবর পাড়ার মৃত হাবিব উল্লাহর ছেলে। এ ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানায় ওই নারীর মা বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন

মঙ্গলবার অনশনে থাকা অবস্থায় হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদে সালিশ করে সমাধানে যেতে পারেনি উভয় পক্ষ।
জানা যায়, ৩ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত হ্নীলা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের আলী আকবর পাড়ায় নুরুল মোস্তাফার বাড়ি স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে অনশনে রয়েছেন ভুক্তভোগী মেয়েটি।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নুরুল মোস্তফা স্থানীয় গাউছিয়া নুরানী মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন। সেই সুবাধে জনৈক আমান উল্লাহর গৃহ শিক্ষক ছিলেন। আমান উল্লাহ ও তার স্ত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। ওই বাড়িতেই গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন সেই নারী। সেখানেই নুরুল মোস্তফার সঙ্গে গৃহপরিচারিকার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ নিয়ে শপথ করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীকে শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করে। এইভাবেই দিন যেতে থাকে। আশপাশের লোকজন মাদরাসা শিক্ষককে নিয়মিত রাতবিরাতে যাওয়া-আসা করতে দেখলেই দূরত্ব বাড়ান তিনি। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে বিয়ের জন্য চাপ দেয় ওই নারী।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করলে মোস্তফা ৩ আগস্ট রাতে আমাকে তার বাড়িতে নিয়ে আসেন। তারপর উঠানে রেখে পালিয়ে যায়। তার অনুপস্থিতিতে তারা বাবা-মা আমাকে মারধর করেন। তাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু আমি এখান থেকে যাইনি।

তিনি আরও বলেন, আমাকে এখান থেকে তাড়াতে মোস্তফার পরিবার আমাকে ৫০ হাজার টাকা দেয়ার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু আমি টাকা নিব না। আমি তাকেই বিয়ে করব। তাকে বিয়ে করতে না পারলে আমি আত্মহত্যা করব।

হ্নীলা নাইক্ষ্যংখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশ-প্রহরী নুরুল আবছার বলেন, ওই মাদরাসা শিক্ষককে রাতের আঁধারে কয়েকদিন ওই মেয়ের বাড়িতে যাতায়াত করতে দেখেছি।

হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ বলেন, মঙ্গলবার মেয়ে ও ছেলের পরিবার নিয়ে সমাধানের জন্য বসেছিলাম। ছেলে সব অভিযোগ অস্বীকার করছে। কিন্তু মেয়ের কাছে কিছু প্রমাণ রয়েছে সম্পর্কের। আমি ছেলে পক্ষকে ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছি। এর মধ্যে বিয়েতে রাজি না হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছি।

টেকনাফ থানার ওসি তদন্ত আব্দুল আলীম জানান, মেয়ের পক্ষ থেকে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। ওসি ছুটিতে থাকায় অভিযোগের বিষয়ে জানেন না তিনি।