ঢাকা ০১:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাড়ির সামনে থেকে নিখোঁজ, দুই দিন পর মরদেহ মিলল পাটখেতে নববধূকে নিয়ে ফেরার পথে মাইক্রোবাস খাদে পড়ে নিহত ২, আহত ১২ শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে হেনস্তা সভ্য রাষ্ট্রের পরিচয় নয়: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কুষ্টিয়ায় আধিপত্য নিয়ে দুজনকে কু‌পিয়ে হত্যা জুলাই শহীদদের স্মরণে এবি পার্টির প্রতীকী কফিন মিছিল দাপুটে জয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ ‘বর্তমান সংসদে গণতান্ত্রিক চর্চার সুযোগ আরও বিস্তৃত হয়েছে’:ডেপুটি স্পিকার কক্সবাজার সৈকতে হঠাৎ টর্নেডো, আতঙ্কিত পর্যটকরা মাদকের চাহিদা ও যোগান উভয়ই নির্মূল করতে হবে: চরমোনাই পীর তিন বছরে সব কৃষক পাবেন কার্ড, এক বছরের মধ্যে ৪৩ লাখ: কৃষিমন্ত্রী

সচিবালয়ে ২১ তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেয়নি একনেক

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সচিবালয়ে ২১ তলার আধুনিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়নি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

রবিবার প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের দ্বিতীয় একনেক সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপিত হলেও শেষ পর্যন্ত তা অনুমোদন করা হয়নি।

এর আগে, গত ৬ এপ্রিল একনেক সভার প্রকল্প তালিকায় থাকলেও সময়ের অভাবে তা ওঠানো যায়নি। এর মানে, দ্বিতীয় দফায়ও প্রকল্পটি পাসে আগ্রহ দেখায়নি একনেক সভা।

জানা যায়, গণপূর্ত অধিদফতর কর্তৃক বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত এই প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬৪৯ কোটি ২৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা। প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য ছিল সচিবালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোর প্রাণকেন্দ্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা।

এ ছাড়া সচিবালয় প্রাঙ্গণে অধিকসংখ্যক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের স্থান সংকুলান, জমির সুষ্ঠু ব্যবহার এবং সরকারি অর্থের যথাযথ উপযোগিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। বর্তমানে সচিবালয়ের বিদ্যমান স্থাপনাগুলো ক্রমাগত বাড়তে থাকা ব্যবহারকারীর চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে বলে পরিকল্পনা বিভাগ থেকে জানানো হয়েছিল।

প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের আওতায় ২১ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল, এতে চারটি বেজমেন্টসহ একটি আধুনিক ফাউন্ডেশন এবং সুপার স্ট্রাকচার অন্তর্ভুক্ত ছিল। অবকাঠামোটির মধ্যে অভ্যন্তরীণ পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন, আধুনিক বিদ্যুতায়ন, গ্যাস সংযোগ এবং ভূগর্ভস্থ জলাধার নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

ভবনটিতে দুটি সাব-স্টেশন, জেনারেটর ব্যবস্থা ও উন্নত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপনের কথা ছিল। একই সঙ্গে যাতায়াতের সুবিধার্থে ছয় সেট প্যাসেঞ্জার লিফট, ছয় সেট ফায়ার লিফট এবং দুই সেট বেড লিফট স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল। নিরাপত্তা ও কাজের পরিবেশ উন্নত করতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, আধুনিক কনফারেন্স সিস্টেম এবং ২০টি সুসজ্জিত কনফারেন্স রুম নির্মাণের প্রস্তাবও ছিল প্রকল্পটিতে।

পরিকল্পনা বিভাগ তাদের পর্যালোচনায় উল্লেখ করেছিল যে, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্র হিসেবে সচিবালয়ে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বিদেশি প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী এবং সাধারণ মানুষের সমাগম ঘটে।

এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সচিবালয়ে অতিরিক্ত ২ লাখ ৮৭ হাজার ৬৩৬ বর্গফুট জায়গা তৈরি হতো, যা বর্তমান চাহিদার ৪২ দশমিক ৩০ শতাংশ পূরণ করতে সক্ষম হতো। তবে বর্তমান অবস্থায় প্রকল্পটি অনুমোদন না পাওয়ায় সচিবালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়টি আপাতত স্থগিত রইল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাড়ির সামনে থেকে নিখোঁজ, দুই দিন পর মরদেহ মিলল পাটখেতে

সচিবালয়ে ২১ তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেয়নি একনেক

আপডেট সময় ০৬:৪৫:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সচিবালয়ে ২১ তলার আধুনিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়নি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

রবিবার প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের দ্বিতীয় একনেক সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপিত হলেও শেষ পর্যন্ত তা অনুমোদন করা হয়নি।

এর আগে, গত ৬ এপ্রিল একনেক সভার প্রকল্প তালিকায় থাকলেও সময়ের অভাবে তা ওঠানো যায়নি। এর মানে, দ্বিতীয় দফায়ও প্রকল্পটি পাসে আগ্রহ দেখায়নি একনেক সভা।

জানা যায়, গণপূর্ত অধিদফতর কর্তৃক বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত এই প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬৪৯ কোটি ২৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা। প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য ছিল সচিবালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোর প্রাণকেন্দ্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা।

এ ছাড়া সচিবালয় প্রাঙ্গণে অধিকসংখ্যক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের স্থান সংকুলান, জমির সুষ্ঠু ব্যবহার এবং সরকারি অর্থের যথাযথ উপযোগিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। বর্তমানে সচিবালয়ের বিদ্যমান স্থাপনাগুলো ক্রমাগত বাড়তে থাকা ব্যবহারকারীর চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে বলে পরিকল্পনা বিভাগ থেকে জানানো হয়েছিল।

প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের আওতায় ২১ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল, এতে চারটি বেজমেন্টসহ একটি আধুনিক ফাউন্ডেশন এবং সুপার স্ট্রাকচার অন্তর্ভুক্ত ছিল। অবকাঠামোটির মধ্যে অভ্যন্তরীণ পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন, আধুনিক বিদ্যুতায়ন, গ্যাস সংযোগ এবং ভূগর্ভস্থ জলাধার নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

ভবনটিতে দুটি সাব-স্টেশন, জেনারেটর ব্যবস্থা ও উন্নত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপনের কথা ছিল। একই সঙ্গে যাতায়াতের সুবিধার্থে ছয় সেট প্যাসেঞ্জার লিফট, ছয় সেট ফায়ার লিফট এবং দুই সেট বেড লিফট স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল। নিরাপত্তা ও কাজের পরিবেশ উন্নত করতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, আধুনিক কনফারেন্স সিস্টেম এবং ২০টি সুসজ্জিত কনফারেন্স রুম নির্মাণের প্রস্তাবও ছিল প্রকল্পটিতে।

পরিকল্পনা বিভাগ তাদের পর্যালোচনায় উল্লেখ করেছিল যে, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্র হিসেবে সচিবালয়ে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বিদেশি প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী এবং সাধারণ মানুষের সমাগম ঘটে।

এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সচিবালয়ে অতিরিক্ত ২ লাখ ৮৭ হাজার ৬৩৬ বর্গফুট জায়গা তৈরি হতো, যা বর্তমান চাহিদার ৪২ দশমিক ৩০ শতাংশ পূরণ করতে সক্ষম হতো। তবে বর্তমান অবস্থায় প্রকল্পটি অনুমোদন না পাওয়ায় সচিবালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়টি আপাতত স্থগিত রইল।