ঢাকা ১০:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

আত্মঘাতী হামলায় মালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিহত

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মালিজুড়ে একযোগে চালানো ভয়াবহ হামলায় দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল সাদিও কামারা নিহত হয়েছেন। আল-জাজিরার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, শনিবার (২৫ এপ্রিল) দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী এবং তুয়ারেগ বিদ্রোহীদের চালানো এই হামলায় কামারার মৃত্যু হয়।

শনিবার রাজধানী বামাকো থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত কাটি সামরিক শহরে কামারার বাসভবনে একটি আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলা চালানো হয়। কাটি শহরটিকে মালির অন্যতম নিরাপদ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হলেও আল-কায়েদা সমর্থিত ‘জামায়াত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন’ এবং তুয়ারেগ বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘লিবারেশন ফ্রন্ট অব আজাওয়াদ’-এর যোদ্ধারা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালায়।

২০২০ ও ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারী জান্তা সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন কামারা, যাকে দেশটির ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবেও বিবেচনা করা হতো।

হামলার সময় মালির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আসিনি গোইতা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ায় সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে। তবে এই বিশাল মাপের হামলা এবং শীর্ষ মন্ত্রীর মৃত্যু গোইতা সরকারকে চরম চাপের মুখে ফেলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মালির কর্তৃপক্ষ এই আকস্মিক ও শক্তিশালী সংঘাতের জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না। কেবল কাটি নয়, বরং বামাকো, কাও, কিদাল এবং সেভারে শহরসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একযোগে বন্দুকযুদ্ধ ও বিস্ফোরণ চালানো হয়েছে।

মালির উত্তর ও মধ্যাঞ্চলীয় শহরগুলোতে ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার পরও অনেক জায়গায় ভারী গোলাবর্ষণ ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আফ্রিকান ইউনিয়ন, ওআইসি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব আফ্রিকান অ্যাফেয়ার্স।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী কামারার মৃত্যু মালির সশস্ত্র বাহিনীর জন্য একটি বড় ধরনের বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দেশটির চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

আত্মঘাতী হামলায় মালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিহত

আপডেট সময় ০৬:১৯:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মালিজুড়ে একযোগে চালানো ভয়াবহ হামলায় দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল সাদিও কামারা নিহত হয়েছেন। আল-জাজিরার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, শনিবার (২৫ এপ্রিল) দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী এবং তুয়ারেগ বিদ্রোহীদের চালানো এই হামলায় কামারার মৃত্যু হয়।

শনিবার রাজধানী বামাকো থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত কাটি সামরিক শহরে কামারার বাসভবনে একটি আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলা চালানো হয়। কাটি শহরটিকে মালির অন্যতম নিরাপদ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হলেও আল-কায়েদা সমর্থিত ‘জামায়াত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন’ এবং তুয়ারেগ বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘লিবারেশন ফ্রন্ট অব আজাওয়াদ’-এর যোদ্ধারা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালায়।

২০২০ ও ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারী জান্তা সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন কামারা, যাকে দেশটির ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবেও বিবেচনা করা হতো।

হামলার সময় মালির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আসিনি গোইতা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ায় সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে। তবে এই বিশাল মাপের হামলা এবং শীর্ষ মন্ত্রীর মৃত্যু গোইতা সরকারকে চরম চাপের মুখে ফেলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মালির কর্তৃপক্ষ এই আকস্মিক ও শক্তিশালী সংঘাতের জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না। কেবল কাটি নয়, বরং বামাকো, কাও, কিদাল এবং সেভারে শহরসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একযোগে বন্দুকযুদ্ধ ও বিস্ফোরণ চালানো হয়েছে।

মালির উত্তর ও মধ্যাঞ্চলীয় শহরগুলোতে ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার পরও অনেক জায়গায় ভারী গোলাবর্ষণ ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আফ্রিকান ইউনিয়ন, ওআইসি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব আফ্রিকান অ্যাফেয়ার্স।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী কামারার মৃত্যু মালির সশস্ত্র বাহিনীর জন্য একটি বড় ধরনের বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দেশটির চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল।