ঢাকা ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

ছেলের জন্য নিজের আইসিইউ শয্যা ছেড়ে দিয়ে মারা গেলেন মা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনায় (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) চিকিৎসাধীন ছিলেন মা। একই হাসপাতালের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন ছিলেন তার ছেলে। একপর্যায়ে ছেলের অবস্থারও অবনতি ঘটে, প্রয়োজন হয় আইসিইউয়ের।

কিন্তু ছেলের জন্য সারা চট্টগ্রামের কোথাও মেলেনি আইসিইউ শয্যা। মুমূর্ষু অবস্থায় আইসিইউতে শুয়ে থাকা মায়ের কানে খবরটা যেতেই ছটফট করতে থাকেন মা। নিজের শয্যায় ছেলেকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য চিকিৎসকদের ইশারা করেন মা।

চিকিৎসকরা বোঝানোর চেষ্টা করেও মাকে ওই অবস্থান থেকে সরাতে পারেননি। বাধ্য হয়ে মাকে নামিয়ে আইসিইউ বেডে তোলা হয় ছেলেকে। এর এক ঘণ্টার মাথায় করোনার কাছে হার মানেন মা। মায়ের জীবন ত্যাগের মধ্য দিয়ে আইসিইউ শয্যা মিললেও এখন ছেলের প্রাণও যায় যায়। তবে মুমুর্ষু অবস্থায় এখনো বেঁচে আছেন ছেলে।

গত ২৭ জুলাই (মঙ্গলবার) দুপুর ১টায় ছেলের জন্য চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ শয্যা ছাড়েন কানন প্রভাপাল (৬৫) নামের ওই মা। তার বদলে আইসিইউ শয্যায় ওঠেন ছেলে শিমুল পাল (৪৩)। তবে আইসিইউ পেলেও সংকটমুক্ত নন শিমুল পাল। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

হাসপাতালটির আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আহমেদ তানজিমুল ইসলাম বলেন, ‘মা ছেলের জন্য আইসিইউ ছেড়ে দেন। কিছুক্ষণ বাদে মা মারা যান। মায়ের মৃত্যুর পর ছেলের অবস্থার আরও অবনতি হয়। তিনি এখনও আইসিইউ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। তবে খুবই ক্রিটিক্যাল অবস্থায় আছেন।’

কানন প্রভা পাল করোনায় আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে এসেছিলেন ১৫ জুলাই। শুরুতে তিনি আইসোলেশন ওয়ার্ডে ছিলেন। পরে ২২ জুলাই হাসপাতালটির আইসিইউ ওয়ার্ডে নেওয়া হয় তাকে। এর একদিন আগে ২১ জুলাই করোনা আক্রান্ত হয়ে জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশনে আসেন তার ছেলে শিমুল পাল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছেলের জন্য নিজের আইসিইউ শয্যা ছেড়ে দিয়ে মারা গেলেন মা

আপডেট সময় ০১:৩৭:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনায় (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) চিকিৎসাধীন ছিলেন মা। একই হাসপাতালের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন ছিলেন তার ছেলে। একপর্যায়ে ছেলের অবস্থারও অবনতি ঘটে, প্রয়োজন হয় আইসিইউয়ের।

কিন্তু ছেলের জন্য সারা চট্টগ্রামের কোথাও মেলেনি আইসিইউ শয্যা। মুমূর্ষু অবস্থায় আইসিইউতে শুয়ে থাকা মায়ের কানে খবরটা যেতেই ছটফট করতে থাকেন মা। নিজের শয্যায় ছেলেকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য চিকিৎসকদের ইশারা করেন মা।

চিকিৎসকরা বোঝানোর চেষ্টা করেও মাকে ওই অবস্থান থেকে সরাতে পারেননি। বাধ্য হয়ে মাকে নামিয়ে আইসিইউ বেডে তোলা হয় ছেলেকে। এর এক ঘণ্টার মাথায় করোনার কাছে হার মানেন মা। মায়ের জীবন ত্যাগের মধ্য দিয়ে আইসিইউ শয্যা মিললেও এখন ছেলের প্রাণও যায় যায়। তবে মুমুর্ষু অবস্থায় এখনো বেঁচে আছেন ছেলে।

গত ২৭ জুলাই (মঙ্গলবার) দুপুর ১টায় ছেলের জন্য চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ শয্যা ছাড়েন কানন প্রভাপাল (৬৫) নামের ওই মা। তার বদলে আইসিইউ শয্যায় ওঠেন ছেলে শিমুল পাল (৪৩)। তবে আইসিইউ পেলেও সংকটমুক্ত নন শিমুল পাল। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

হাসপাতালটির আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আহমেদ তানজিমুল ইসলাম বলেন, ‘মা ছেলের জন্য আইসিইউ ছেড়ে দেন। কিছুক্ষণ বাদে মা মারা যান। মায়ের মৃত্যুর পর ছেলের অবস্থার আরও অবনতি হয়। তিনি এখনও আইসিইউ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। তবে খুবই ক্রিটিক্যাল অবস্থায় আছেন।’

কানন প্রভা পাল করোনায় আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে এসেছিলেন ১৫ জুলাই। শুরুতে তিনি আইসোলেশন ওয়ার্ডে ছিলেন। পরে ২২ জুলাই হাসপাতালটির আইসিইউ ওয়ার্ডে নেওয়া হয় তাকে। এর একদিন আগে ২১ জুলাই করোনা আক্রান্ত হয়ে জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশনে আসেন তার ছেলে শিমুল পাল।