ঢাকা ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঈদের দিন স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৮৭৭ বর্তমান সরকার সব মানুষের ধর্মের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী: মঈন খান জাতীয় ঐক্য ও দেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঈদের দিন রামিসার পরিবারের সঙ্গে রিজভীর সাক্ষাৎ, জানালেন সমবেদনা ট্রাম্পের হুমকির নিন্দা জানিয়ে ওমানের পাশে থাকার ঘোষণা ইরানের নির্ধারিত ১২ ঘণ্টার আগেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণ সম্ভব : এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী তদন্তের প্রেক্ষিতে আদ্-দ্বীনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেনাসদস্যদের সঙ্গে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন প্রধানমন্ত্রী মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালাল ইরান

যুবককে হাত-পা বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন কাউন্সিলরের

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

স্বর্ণ চুরির অপবাদ দিয়ে মুরাদ হোসেন রনি (৩৫) নামে এক যুবককে হাত-পা বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন করেছেন আওলাদ হোসেন নামে এক কাউন্সিলর।

আওলাদ হোসেন মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর। সোমবার মুন্সীগঞ্জ শহরের দক্ষিণ ইসলামপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মামলা হয় সদর থানায়।

নির্যাতনের শিকার মুরাদের বাবা দক্ষিণ ইসলামপুর এলাকার মোরশেদ হোসেন এ ঘটনায় বাদী হয়ে কাউন্সিলর আওলাদসহ আরও দুজনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অপর অভিযুক্তরা হলেন একই এলাকার মনির হোসেন ও কালাই হোসেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দক্ষিণ ইসলামপুর এলাকার মনির হোসেনের বাড়ি থেকে চার ভরি স্বর্ণ ও ২২ হাজার টাকা চুরি হয়। ওই ঘটনায় সোমবার সকালে চুরির অপবাদে মনিরের প্রতিবেশী রনিকে বাড়ি থেকে ধরে আনেন কাউন্সিলর আওলাদ হোসেনসহ মনির হোসেন ও তার ভাই কালাই। পরে মনিরের বাড়ির উঠানে রনিকে হাত-পা বেঁধে অমানবিক নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করেন আওলাদ। তবে মারধরের পরও চুরির বিষয়ে অস্বীকার করেন রনি। পরে রনির ছোটভাই থানা থেকে পুলিশ নিয়ে আসলে কাউন্সিলর পুলিশের কাছে রনিকে সোপর্দ করেন।

নির্যাতনের শিকার রনি বলেন, সকালে বাসায় এসে কাউন্সিলর আওলাদ জিজ্ঞাসার কথা বলে আমাকে মনিরদের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে আমাকে হাত-পা বেঁধে মারতে থাকে, আর বলে চুরির কথা স্বীকার করতে। আমি তো স্বর্ণ নেই নাই, আমি কেন স্বীকার করব? আমারে শুধু শুধু মারধর করছে, আমি এর বিচার চাই।

মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে কাউন্সিলর আওলাদ হোসেন বলেন, আমি রনিকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে আসিনি। মনিরদের বাড়িতে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছে, এটি জানতে পেরে আমি সেখানে যাই। গিয়ে দেখি অনেক মানুষ সেখানে। পরে ক্রেডিট নেয়ার জন্য তাকে মেরে ছেড়ে দিছি। পুলিশ আসলে চিকিৎসা করানোর কথা বলি। বিষয়টি আমার ভুল হয়েছে। চুরির প্রমাণ পাইনি।

সদর থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক জানান, মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। কালাই ও মনির নামের দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কাউন্সিলর আওলাদ হোসেন পলাতক রয়েছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদের দিন স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক

যুবককে হাত-পা বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন কাউন্সিলরের

আপডেট সময় ১১:২৬:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

স্বর্ণ চুরির অপবাদ দিয়ে মুরাদ হোসেন রনি (৩৫) নামে এক যুবককে হাত-পা বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন করেছেন আওলাদ হোসেন নামে এক কাউন্সিলর।

আওলাদ হোসেন মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর। সোমবার মুন্সীগঞ্জ শহরের দক্ষিণ ইসলামপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মামলা হয় সদর থানায়।

নির্যাতনের শিকার মুরাদের বাবা দক্ষিণ ইসলামপুর এলাকার মোরশেদ হোসেন এ ঘটনায় বাদী হয়ে কাউন্সিলর আওলাদসহ আরও দুজনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অপর অভিযুক্তরা হলেন একই এলাকার মনির হোসেন ও কালাই হোসেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দক্ষিণ ইসলামপুর এলাকার মনির হোসেনের বাড়ি থেকে চার ভরি স্বর্ণ ও ২২ হাজার টাকা চুরি হয়। ওই ঘটনায় সোমবার সকালে চুরির অপবাদে মনিরের প্রতিবেশী রনিকে বাড়ি থেকে ধরে আনেন কাউন্সিলর আওলাদ হোসেনসহ মনির হোসেন ও তার ভাই কালাই। পরে মনিরের বাড়ির উঠানে রনিকে হাত-পা বেঁধে অমানবিক নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করেন আওলাদ। তবে মারধরের পরও চুরির বিষয়ে অস্বীকার করেন রনি। পরে রনির ছোটভাই থানা থেকে পুলিশ নিয়ে আসলে কাউন্সিলর পুলিশের কাছে রনিকে সোপর্দ করেন।

নির্যাতনের শিকার রনি বলেন, সকালে বাসায় এসে কাউন্সিলর আওলাদ জিজ্ঞাসার কথা বলে আমাকে মনিরদের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে আমাকে হাত-পা বেঁধে মারতে থাকে, আর বলে চুরির কথা স্বীকার করতে। আমি তো স্বর্ণ নেই নাই, আমি কেন স্বীকার করব? আমারে শুধু শুধু মারধর করছে, আমি এর বিচার চাই।

মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে কাউন্সিলর আওলাদ হোসেন বলেন, আমি রনিকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে আসিনি। মনিরদের বাড়িতে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছে, এটি জানতে পেরে আমি সেখানে যাই। গিয়ে দেখি অনেক মানুষ সেখানে। পরে ক্রেডিট নেয়ার জন্য তাকে মেরে ছেড়ে দিছি। পুলিশ আসলে চিকিৎসা করানোর কথা বলি। বিষয়টি আমার ভুল হয়েছে। চুরির প্রমাণ পাইনি।

সদর থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক জানান, মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। কালাই ও মনির নামের দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কাউন্সিলর আওলাদ হোসেন পলাতক রয়েছেন।