ঢাকা ১১:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

খেলাপি ঋণ: রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের লক্ষ্য ৩৮,৮০০ কোটি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

২০২১-২২ অর্থ বছরে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংককে ৩৮ হাজার ৮০০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ আদায় করার লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছে অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

সদ্য সমাপ্ত ২০২০-২১ অর্থবছরে এই লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৮ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

২০২০-২১ অর্থ বছরে খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পরেও সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

চলতি বছরের ৩১ মার্চ শেষে সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা।

মহামারি করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে ২০২০-২১ অর্থ বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তারা।

বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হুসেইন বলেন, মহামারি করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিশোধে ছাড় দেওয়ার ফলে রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ আরও বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ব্যাংকগুলোকে কোনো প্রণোদনা বা শাস্তির ব্যবস্থা করেনি। এগুলো ব্যাংকের বার্ষিক মূল্যায়নের দুর্বল দিক।

২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে বার্ষিক মূল্যায়ন সূচক চালু করা হলেও তা কাগজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থ বছরের জন্য জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায়য়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ হাজার কোটি টাকা, যা ২০২০-২১ অর্থবছরে ছিল ১০ হাজার কোটি টাকা।

বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৫০০ কোটি টাকা কমানো হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থ বছরে ৭ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থ বছরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৫০০ কোটি টাকা।

তবে খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার অপরিবর্তিত রয়েছে সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের। গেলো অর্থবছরের মতই ২০২১-২২ অর্থবছরে সোনালী ব্যাংকের ১০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা, অগ্রণী ব্যাংকের ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা, রূপালী ব্যাংকের ৪ হাজার কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ৭শ’ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, ২০২১ সালের ৩১ মার্চ শেষে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৫ হাজার ৮৫ কোটি টাকা। ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণ ছিল ৮৮ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা।

ব্যাংকিং খাতের ৫৩ হাজার ২৫৮ কোটি টাকার অবলোপনকৃত ঋণ যোগ করলে খেলাপি ঋণের মোট পরিমাণ দাঁড়ায় এক লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা।

নতুন অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অবলোপনকৃত ঋণ আদায়ের জন্যও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

২০২১-২২ অর্থবছরে সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং বেসিক ব্যাংককে আদায় করতে হবে ১৫০ কোটি টাকার অবলোপনকৃত ঋণ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

খেলাপি ঋণ: রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের লক্ষ্য ৩৮,৮০০ কোটি

আপডেট সময় ০৫:০৭:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জুলাই ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

২০২১-২২ অর্থ বছরে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংককে ৩৮ হাজার ৮০০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ আদায় করার লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছে অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

সদ্য সমাপ্ত ২০২০-২১ অর্থবছরে এই লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৮ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

২০২০-২১ অর্থ বছরে খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পরেও সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

চলতি বছরের ৩১ মার্চ শেষে সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা।

মহামারি করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে ২০২০-২১ অর্থ বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তারা।

বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হুসেইন বলেন, মহামারি করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিশোধে ছাড় দেওয়ার ফলে রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ আরও বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ব্যাংকগুলোকে কোনো প্রণোদনা বা শাস্তির ব্যবস্থা করেনি। এগুলো ব্যাংকের বার্ষিক মূল্যায়নের দুর্বল দিক।

২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে বার্ষিক মূল্যায়ন সূচক চালু করা হলেও তা কাগজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থ বছরের জন্য জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায়য়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ হাজার কোটি টাকা, যা ২০২০-২১ অর্থবছরে ছিল ১০ হাজার কোটি টাকা।

বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৫০০ কোটি টাকা কমানো হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থ বছরে ৭ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থ বছরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৫০০ কোটি টাকা।

তবে খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার অপরিবর্তিত রয়েছে সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের। গেলো অর্থবছরের মতই ২০২১-২২ অর্থবছরে সোনালী ব্যাংকের ১০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা, অগ্রণী ব্যাংকের ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা, রূপালী ব্যাংকের ৪ হাজার কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ৭শ’ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, ২০২১ সালের ৩১ মার্চ শেষে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৫ হাজার ৮৫ কোটি টাকা। ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণ ছিল ৮৮ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা।

ব্যাংকিং খাতের ৫৩ হাজার ২৫৮ কোটি টাকার অবলোপনকৃত ঋণ যোগ করলে খেলাপি ঋণের মোট পরিমাণ দাঁড়ায় এক লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা।

নতুন অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অবলোপনকৃত ঋণ আদায়ের জন্যও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

২০২১-২২ অর্থবছরে সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং বেসিক ব্যাংককে আদায় করতে হবে ১৫০ কোটি টাকার অবলোপনকৃত ঋণ।