ঢাকা ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এখন কি বলা যাবে উনি ঋণখেলাপি ছিলেন, আসলাম চৌধুরী প্রসঙ্গে জামায়াত এমপি বাবাকে অপমানের ক্ষোভে ৫ বছরের শিশুকে হত্যা করেন নিহা ‘রিফাইন্ড’ বা অন্য নামেও আওয়ামী লীগ কর্মসূচি করতে পারবে না : তথ্য উপদেষ্টা গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূতি উপলক্ষে জামায়াতের মাসব্যাপী কর্মসূচি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল রাজধানীর তিন সরকারি হাসপাতালে র‍্যাবের অভিযান, আটক ১৩ পাকিস্তানে কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ শিশু নিহত ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনা প্রত্যাহার করল বিরোধী দল ১১ বছর পর রায়, বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

ধারের টাকা না দেওয়ায় স্ত্রীকে হত্যা করে সাইফুল

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে গৃহবধূ ফাইমা বেগম (২৮) হত্যারহস্য উন্মোচিত হয়েছে। স্ত্রীকে দেওয়া দেনমোহর ও ধারের টাকা ফিরিয়ে না দেওয়ায় স্বামী সাইফুল ইসলাম (৩৮) তাকে শয়নঘরে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ বিছানায় ঢেকে রেখে তালা দিয়ে পালিয়ে যায়।

হত্যাকাণ্ডের সাত মাস পর ঢাকার একটি হোটেল থেকে গ্রেফতার স্বামী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুকের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বুধবার বিকালে আদমদীঘি থানার ওসি জালাল উদ্দিন এ তথ্য দিয়েছেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আবদুল ওয়াদুদ ও আদালত সূত্র জানান, সাইফুল ইসলাম আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নের সান্দিড়া ব্যাপারীপাড়ার আরমান আলীর ছেলে। তিনি প্রায় দু’বছর আগে সান্তাহার ইয়ার্ড কলোনির মৃত আইনাল হকের মেয়ে ফাইমা বেগমকে বিয়ে করেন। এটা দুজনেরই দ্বিতীয় বিয়ে।

দাম্পত্য কলহে বিয়ের কিছুদিনের মধ্যে তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। সাইফুল বাধ্য হয়ে তাকে দেনমোহর ও ধারের পাওনা টাকা বুঝিয়ে দেন। ভুল বোঝাবুঝির অবসান হলে তারা আবারও বিয়ে করেন। সাইফুল এরপর থেকে ফেরত দেওয়া দেনমোহর ও ধারের টাকার জন্য ফাইমাকে চাপ দিচ্ছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ তুঙ্গে উঠে।

একপর্যায়ে সাইফুল গত বছরের নভেম্বরের ৮-৯ তারিখ রাতে তাকে গলায় ওড়নার ফাঁস দিয়ে হত্যা করেন। মরদেহ বিছানায় রেখে কম্বল দিয়ে ঢেকে দেন। এরপর ঘরে তালা দিয়ে ঢাকায় পালিয়ে যান। প্রতিবেশীরা ১১ নভেম্বর বন্ধ ঘর থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হলে ফাইমার বড়বোন রোজিনা বেগমকে অবহিত করেন।

তারা তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে বিছানায় ফাইমার ঢেকে রাখা লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে আদমদীঘি থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। নিহতের ভাই ফারুক শেষ আদমদীঘি থানায় ভগ্নিপতি সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

এসআই আবদুল ওয়াদুদ জানান, গোপনে খবর পেয়ে ১৪ জুন রাতে ঢাকার গুলশানের নিউ গুলশান প্লাজার একটি হোটেল থেকে আসামি সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। মঙ্গলবার বিকালে তাকে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুকের আদালতে হাজির করলে সন্ধ্যায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এখন কি বলা যাবে উনি ঋণখেলাপি ছিলেন, আসলাম চৌধুরী প্রসঙ্গে জামায়াত এমপি

ধারের টাকা না দেওয়ায় স্ত্রীকে হত্যা করে সাইফুল

আপডেট সময় ০৭:৫২:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুন ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে গৃহবধূ ফাইমা বেগম (২৮) হত্যারহস্য উন্মোচিত হয়েছে। স্ত্রীকে দেওয়া দেনমোহর ও ধারের টাকা ফিরিয়ে না দেওয়ায় স্বামী সাইফুল ইসলাম (৩৮) তাকে শয়নঘরে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ বিছানায় ঢেকে রেখে তালা দিয়ে পালিয়ে যায়।

হত্যাকাণ্ডের সাত মাস পর ঢাকার একটি হোটেল থেকে গ্রেফতার স্বামী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুকের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বুধবার বিকালে আদমদীঘি থানার ওসি জালাল উদ্দিন এ তথ্য দিয়েছেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আবদুল ওয়াদুদ ও আদালত সূত্র জানান, সাইফুল ইসলাম আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নের সান্দিড়া ব্যাপারীপাড়ার আরমান আলীর ছেলে। তিনি প্রায় দু’বছর আগে সান্তাহার ইয়ার্ড কলোনির মৃত আইনাল হকের মেয়ে ফাইমা বেগমকে বিয়ে করেন। এটা দুজনেরই দ্বিতীয় বিয়ে।

দাম্পত্য কলহে বিয়ের কিছুদিনের মধ্যে তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। সাইফুল বাধ্য হয়ে তাকে দেনমোহর ও ধারের পাওনা টাকা বুঝিয়ে দেন। ভুল বোঝাবুঝির অবসান হলে তারা আবারও বিয়ে করেন। সাইফুল এরপর থেকে ফেরত দেওয়া দেনমোহর ও ধারের টাকার জন্য ফাইমাকে চাপ দিচ্ছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ তুঙ্গে উঠে।

একপর্যায়ে সাইফুল গত বছরের নভেম্বরের ৮-৯ তারিখ রাতে তাকে গলায় ওড়নার ফাঁস দিয়ে হত্যা করেন। মরদেহ বিছানায় রেখে কম্বল দিয়ে ঢেকে দেন। এরপর ঘরে তালা দিয়ে ঢাকায় পালিয়ে যান। প্রতিবেশীরা ১১ নভেম্বর বন্ধ ঘর থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হলে ফাইমার বড়বোন রোজিনা বেগমকে অবহিত করেন।

তারা তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে বিছানায় ফাইমার ঢেকে রাখা লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে আদমদীঘি থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। নিহতের ভাই ফারুক শেষ আদমদীঘি থানায় ভগ্নিপতি সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

এসআই আবদুল ওয়াদুদ জানান, গোপনে খবর পেয়ে ১৪ জুন রাতে ঢাকার গুলশানের নিউ গুলশান প্লাজার একটি হোটেল থেকে আসামি সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। মঙ্গলবার বিকালে তাকে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুকের আদালতে হাজির করলে সন্ধ্যায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।