ঢাকা ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ

করোনায় রাজস্ব খাত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে যথাযথ মনিটরিংয়ের নির্দেশ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধানকে যথাযথ মনিটরিং করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কাস্টমস ও ট্যাক্সেস আপিলাত ট্রাইব্যুনালের মামলাগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে। নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ বা অন্য কোনো কারণে সময়সীমা বর্ধিত করা যাবে না। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের মাসিক সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তথ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রাহমাতুল মুনিম বলেন, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সবাইকে আরও আন্তরিক হতে হবে। রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এনবিআরের সব সদস্য, কমিশনার অব কাস্টমস, কর কমিশনারদের যথাযথ মনিটরিং করতে হবে। প্রতি মাসে রাজস্ব আহরণের তথ্য সমন্বয় সভায় অবহিত করতে তিনি এনবিআর গবেষণা ও পরিসংখ্যান বিভাগের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেন।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও আওতাধীন দপ্তরের সভায় রাজস্ব আহরণ পরিস্থিতি, কাস্টমস, এক্সসাইস ও ভ্যাট এবং ট্যাক্সেস আপিলাত ট্রাইব্যুনালের মামলাগুলোর সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ-নয় মাসে ১ লাখ ৭৮ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে। এ সময় আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৯ মাসে আদায় কমছে ৪৯ হাজার ৫০১ কোটি টাকা বা ২১ দশমিক ৭৩ শতাংশ। তবে এ আদায়ের হার গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৩১ শতাংশ বেশি।

জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়। নয় মাসে যে রাজস্ব আদায় হয়েছে সে হিসাবে বাকি তিন মাস অর্থাৎ জুনের মধ্যে অবশিষ্ট ১ লাখ ৫১ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা আদায় করতে হবে। যা এনবিআরের কাছে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও কঠোরভাবে মনিটরিং করতে সভায় বলা হয়। তবে রাজস্ব আহরণ কমে যাওয়ার কারণ হিসাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, পুরো অর্থবছরে করোনাভাইরাস মহামারিতে ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি মন্থর ছিল। এ কারণে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা প্রথম নয় মাসে অর্জিত হয়নি।

সভায় কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনালের মামলার চিত্র তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, এপ্রিলে এ আদালতে ৩২টি মামলা হয়েছে। একই সময়ে ৮২টির নিষ্পত্তি হয়েছে। মামলা নিষ্পত্তির এমন ধারা অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি আইন অনুযায়ী মামলাগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি এবং কোভিড-১৯সহ কোনো অবস্থাতেই মামলা নিষ্পত্তিতে নতুন করে সময় বৃদ্ধি করা যাবে।

সভায় বলা হয়, ট্যাক্সেস আপিলাত ট্রাইব্যুনালে এপ্রিলের শুরুতে অনিষ্পত্তিকৃত মামলা ছিল ১ হাজার ৩১৬টি। এর মধ্যে শুধু এপ্রিলে মামলা হয়েছে আরও ৩১৪টি। একই সময়ে ২১৯টি মামলার নিষ্পত্তি হয়। এ বিষয়ে বলা হয়, মামলার নিষ্পত্তির হার সন্তোষজনক। আগামীতে এ নিষ্পত্তির ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। এজন্য কোনো অবস্থাতেই মামলার নিষ্পত্তির সময়সীমা বর্ধিত করা যাবে না। সভায় আরও কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এগুলো হলো-জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের স্টোর ব্যবস্থাপনা সিস্টেম আগামী ২০২১ সালের জুনের মধ্যে সংযোজন করতে হবে। এছাড়া কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনালের শূন্য পদে দ্রুত লোকবল নিয়োগ করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে রোববার একটি সেমিনারে রাজস্ব আদায় বাড়ানো প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, এনবিআরকে আরও শক্তিশালী করতে পারলে রাজস্ব আদায় বাড়বে। ভ্যাট সংগ্রহের ক্ষেত্রে বেশি বেশি অটোমেশন মেশিন স্থাপন করতে হবে। এক্ষেত্রে এনবিআর লক্ষ্য দিতে পারছে না। এ পর্যন্ত মাত্র তিন হাজার মেশিন দেওয়া হয়েছে। একটি মার্কেটের ১০টি দোকানে মেশিন থাকলেও ৯০টিতে থাকে না। এ কারণে বাকি দোকানগুলো থেকে কীভাবে ভ্যাট আদায় হচ্ছে তা স্পষ্ট নয়। তিনি আরও বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে মেশিন স্থাপন না করে খাতভিত্তিক যেমন সুপার শপ, মিষ্টির দোকান, জুয়েলারি দোকান অনুযায়ী ভ্যাট আদায় মেশিন স্থাপন করতে পারলে রাজস্ব আহরণ বাড়বে।

 

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

করোনায় রাজস্ব খাত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে যথাযথ মনিটরিংয়ের নির্দেশ

আপডেট সময় ০৬:১৯:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুন ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধানকে যথাযথ মনিটরিং করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কাস্টমস ও ট্যাক্সেস আপিলাত ট্রাইব্যুনালের মামলাগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে। নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ বা অন্য কোনো কারণে সময়সীমা বর্ধিত করা যাবে না। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের মাসিক সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তথ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রাহমাতুল মুনিম বলেন, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সবাইকে আরও আন্তরিক হতে হবে। রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এনবিআরের সব সদস্য, কমিশনার অব কাস্টমস, কর কমিশনারদের যথাযথ মনিটরিং করতে হবে। প্রতি মাসে রাজস্ব আহরণের তথ্য সমন্বয় সভায় অবহিত করতে তিনি এনবিআর গবেষণা ও পরিসংখ্যান বিভাগের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেন।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও আওতাধীন দপ্তরের সভায় রাজস্ব আহরণ পরিস্থিতি, কাস্টমস, এক্সসাইস ও ভ্যাট এবং ট্যাক্সেস আপিলাত ট্রাইব্যুনালের মামলাগুলোর সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ-নয় মাসে ১ লাখ ৭৮ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে। এ সময় আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৯ মাসে আদায় কমছে ৪৯ হাজার ৫০১ কোটি টাকা বা ২১ দশমিক ৭৩ শতাংশ। তবে এ আদায়ের হার গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৩১ শতাংশ বেশি।

জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়। নয় মাসে যে রাজস্ব আদায় হয়েছে সে হিসাবে বাকি তিন মাস অর্থাৎ জুনের মধ্যে অবশিষ্ট ১ লাখ ৫১ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা আদায় করতে হবে। যা এনবিআরের কাছে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও কঠোরভাবে মনিটরিং করতে সভায় বলা হয়। তবে রাজস্ব আহরণ কমে যাওয়ার কারণ হিসাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, পুরো অর্থবছরে করোনাভাইরাস মহামারিতে ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি মন্থর ছিল। এ কারণে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা প্রথম নয় মাসে অর্জিত হয়নি।

সভায় কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনালের মামলার চিত্র তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, এপ্রিলে এ আদালতে ৩২টি মামলা হয়েছে। একই সময়ে ৮২টির নিষ্পত্তি হয়েছে। মামলা নিষ্পত্তির এমন ধারা অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি আইন অনুযায়ী মামলাগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি এবং কোভিড-১৯সহ কোনো অবস্থাতেই মামলা নিষ্পত্তিতে নতুন করে সময় বৃদ্ধি করা যাবে।

সভায় বলা হয়, ট্যাক্সেস আপিলাত ট্রাইব্যুনালে এপ্রিলের শুরুতে অনিষ্পত্তিকৃত মামলা ছিল ১ হাজার ৩১৬টি। এর মধ্যে শুধু এপ্রিলে মামলা হয়েছে আরও ৩১৪টি। একই সময়ে ২১৯টি মামলার নিষ্পত্তি হয়। এ বিষয়ে বলা হয়, মামলার নিষ্পত্তির হার সন্তোষজনক। আগামীতে এ নিষ্পত্তির ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। এজন্য কোনো অবস্থাতেই মামলার নিষ্পত্তির সময়সীমা বর্ধিত করা যাবে না। সভায় আরও কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এগুলো হলো-জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের স্টোর ব্যবস্থাপনা সিস্টেম আগামী ২০২১ সালের জুনের মধ্যে সংযোজন করতে হবে। এছাড়া কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনালের শূন্য পদে দ্রুত লোকবল নিয়োগ করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে রোববার একটি সেমিনারে রাজস্ব আদায় বাড়ানো প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, এনবিআরকে আরও শক্তিশালী করতে পারলে রাজস্ব আদায় বাড়বে। ভ্যাট সংগ্রহের ক্ষেত্রে বেশি বেশি অটোমেশন মেশিন স্থাপন করতে হবে। এক্ষেত্রে এনবিআর লক্ষ্য দিতে পারছে না। এ পর্যন্ত মাত্র তিন হাজার মেশিন দেওয়া হয়েছে। একটি মার্কেটের ১০টি দোকানে মেশিন থাকলেও ৯০টিতে থাকে না। এ কারণে বাকি দোকানগুলো থেকে কীভাবে ভ্যাট আদায় হচ্ছে তা স্পষ্ট নয়। তিনি আরও বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে মেশিন স্থাপন না করে খাতভিত্তিক যেমন সুপার শপ, মিষ্টির দোকান, জুয়েলারি দোকান অনুযায়ী ভ্যাট আদায় মেশিন স্থাপন করতে পারলে রাজস্ব আহরণ বাড়বে।