আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় ৬ লাখ টাকা যৌতুক নিয়ে অনশনরত প্রেমিকাকে (২০) বিয়ে করেন শরিফুল ইসলাম রায়হান (২৫)। সোমবার দুপুরে এ বিয়ের কিছু সময় পর দ্বিতীয় বিয়ে করতে চার মাইক্রোবাস বোঝাই বরযাত্রী নিয়ে খুলনার উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
শরিফুল ইসলাম রায়হান উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের জামিরতা বাজারপাড়া গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে। এ ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে শাহজাদপুর উপজেলার গালা ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লাভলী খাতুন দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অনশনরত প্রেমিকা রাণীকে মারপিট করে রায়হানের বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এরপর রায়হানের সঙ্গে রাণীর বিয়ে বানচালের চেষ্টা করেও সে ব্যর্থ হয়। পরে দ্বিতীয় বিয়ের বরযাত্রী হয়ে খুলনার উদ্দেশে রওনা হয়। এ ঘটনায় এলাকাবাসী আওয়ামী লীগ নেত্রী লাভলীকে দল থেকে বহিষ্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পোরজনা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড সদস্য ওসমান গণি, শুভ বেপারি ও মনিরুল বেপারি জানান, সোমবার শরিফুল ইসলাম রায়হানের সঙ্গে খুলনা জেলার এক মেয়ের বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন হয়। রায়হানের বাড়িতে শুরু হয় বিয়ের উৎসব।
এর মধ্যে রোববার রাতে বিয়ের দাবিতে রায়হানের বাড়িতে উঠে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেন তার প্রেমিকা। রায়হানের বাড়ির লোকজন তাকে মারপিট করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে মারপিটের ঘটনাও ঘটে।
অপরদিকে রাতভর চলে দেন-দরবার। এ দেন-দরবার চলে সোমবার দুপুর পর্যন্ত। অবশেষে ৬ লাখ টাকা যৌতুক মিটিয়ে ৯ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে রায়হানের সাথে রাণীর কাবিন সম্পন্ন হয়। পোরজনা ইউনিয়নের কাজী মো. রিপন এ কাবিন সম্পন্ন করেন।
এর কিছুক্ষণ পর রায়হান নববধূ রাণীকে তার বাড়িতে রেখেই চারটি মাইক্রোবাসযোগে দ্বিতীয় বিয়ে করতে খুলনার উদ্দেশে রওনা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে নববধূ রাণী খাতুন বলেন, ১ বছর আগে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনে রায়হান ও আমি দুজন একসঙ্গে কাজ করার সুবাদে আমাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই জের ধরে গত ৮ ফেব্রুয়ারি রায়হান আমাকে খাগড়াছড়ি বেড়াতে নিয়ে যায়। সেখানে রায়হান আমাদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে হোটেলে নিয়ে রাতযাপন করে।
তিনি বলেন, একসঙ্গে থাকার সুবাদে রায়হান বিয়ের আশ্বাসে একাধিকবার আমার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক ঘটায়। খাগড়াছড়ি থেকে ফিরে এসে সে বাড়িতে চলে আসে। মোবাইলে কথা হলে সে জানায় দ্রুত ফিরে গিয়ে আমাকে বিয়ে করবে। পরে আমি লোকমুখে জানতে পারি যে খুলনার এক মেয়েকে সে এদিন বিয়ে করছে। আমি ছুটে এসে রায়হানের সঙ্গে দেখা করি। এ সময় সে আমাদের সম্পর্ক অস্বীকার করে। এমনকি আমাকে বিয়ে করতেও অস্বীকার করে।
তিনি আরও বলেন, আমি নিরুপায় হয়ে বিয়ের দাবিতে রায়হানের বাড়িতে এসে অবস্থান নেই। পরে গ্রামের মাতুব্বরদের মধ্যস্থতায় আমাদের বিয়ের কাবিন সম্পন্ন হওয়ার পর রায়হান দ্বিতীয় বিয়ে করতে বরযাত্রী নিয়ে খুলনার উদ্দেশে রওনা হয়।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার এসআই আসাদুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ বিষয়ে থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শাহজাদপুর উপজেলার গালা ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লাভলী খাতুন বলেন, আমি কাউকে মারপিট করিনি। দুই পক্ষের মারামারি ঠেকাতে গিয়ে আমিও মার খেয়েছি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























