ঢাকা ০৮:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আপত্তি থাকলে আগেই বলুন, বিল পাশের পর বলছেন আমি কিছু বুঝিলাম না:জামায়াত আমিরকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপির উচিত বিতর্কিত কর্মকাণ্ডগুলো ৬ মাসের মধ্যেই শেষ করে ফেলা: সামান্থা খুলনায় ছেলের লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যু এসএসসির খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা শত্রুতামূলক আচরণ না করলে হরমুজ দিয়ে মার্কিন জাহাজ চলতে পারবে: ইরান লেবাননে কোনো যুদ্ধবিরতি চলছে না, হামলা অব্যাহত থাকবে: নেতানিয়াহু বাংলা নববর্ষ উদযাপন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার ডিএমপির উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার করবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের চেতনার বহিঃপ্রকাশ: অ্যাটর্নি জেনারেল ১৬ বছরের দুর্নীতি-লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী

বৃদ্ধা মাকে বাড়ি থেকে তাড়াতে দুই ছেলের অমানবিক নির্যাতন!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে দুই ছেলের বিরুদ্ধে বৃদ্ধা মাকে মেরে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করছেন এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সিরাজদিখান উপজেলার জৈনসার ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

বৃদ্ধা মা রোকেয়া বেগমকে (৬৫) মারধরের অভিযোগ তার দুই বড় ও সেজু ছেলে খায়রুল ইসলাম মঞ্জনু এবং মজিবুর তালুকদারের বিরুদ্ধে। একাধিকবার শারীরিক ও প্রতিনিয়ত মানসিকভাবে মাকে নির্যাতন করছেন তারা।

সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের মৃত হাজী মো. ফজল তালুকদারের ৬ ছেলে ও ৫ মেয়ে। এর মধ্যে বিগত ৪০ দিন আগে তাদের বাবা মারা গেলে বাবার বসতঘরটি দখলে মরিয়া হয়ে উঠে অভিযুক্ত দুই ভাই খায়রুল ও মজিবুর। তাই প্রতিনিয়ত নানা ইস্যু তৈরি করে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করছেন তাদের মা রোকেয়া বেগমকে। তারই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার (৪ মে) পার্শ্ববর্তী পুকুরের মাছ ধরার ইস্যু নিয়ে খায়রুল ইসলাম ও মজিবুর তাদের মাকে মারধর করে। এসময় ছোট দুই ভাই শামীম ও মুন্না মাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাদেরকে মারধর করে রক্তাক্ত জখম করেন তারা।

এ ঘটনায় রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে সিরাজদিখান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এছাড়াও অভিযুক্ত দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে বোনদের ১২ ভরি স্বর্ণ ধার নিয়ে না দেয়ার অভিযোগও রয়েছে।

নির্যাতিতা বৃদ্ধা রোকেয়া বেগম বলেন, আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে খায়রুল ইসলাম মজনু ও মজিবুর আমার বসতঘরটি দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা নানা ইস্যু তৈরি করে আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে যাচ্ছে। এর আগে দুই ছেলের নির্যাতন সইতে না পেরে থানায় জিডি করেছি। এখন আমি ও আমার অপর ছেলে-মেয়েদের নিয়ে শঙ্কিত।

তবে মাকে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত দুই ছেলে খায়রুল ও মজিবুর। তারা বলেন, মাকে নয় কথা কাটাকাটি হয়ে চার ভাইয়ের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে।

বিষয়টি শুনেছি দাবি করে স্থানীয় পঞ্চায়েত কমিটির মালেক গোরাপী বলেন, বিষয়টি নিয়ে জৈনসারের ইউপি চেয়ারম্যান বিচারের দায়িত্ব নিয়েছেন।

এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে জানিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মীর শহিদুল ইসলাম বলেন, চার ভাইয়ের মধ্যে মারামারি
থামাতে গিয়ে তাদের মায়ের গায়ে হয়তো আঘাত লেগেছে। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ: এডিবি

বৃদ্ধা মাকে বাড়ি থেকে তাড়াতে দুই ছেলের অমানবিক নির্যাতন!

আপডেট সময় ০৫:০৩:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ মে ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে দুই ছেলের বিরুদ্ধে বৃদ্ধা মাকে মেরে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করছেন এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সিরাজদিখান উপজেলার জৈনসার ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

বৃদ্ধা মা রোকেয়া বেগমকে (৬৫) মারধরের অভিযোগ তার দুই বড় ও সেজু ছেলে খায়রুল ইসলাম মঞ্জনু এবং মজিবুর তালুকদারের বিরুদ্ধে। একাধিকবার শারীরিক ও প্রতিনিয়ত মানসিকভাবে মাকে নির্যাতন করছেন তারা।

সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের মৃত হাজী মো. ফজল তালুকদারের ৬ ছেলে ও ৫ মেয়ে। এর মধ্যে বিগত ৪০ দিন আগে তাদের বাবা মারা গেলে বাবার বসতঘরটি দখলে মরিয়া হয়ে উঠে অভিযুক্ত দুই ভাই খায়রুল ও মজিবুর। তাই প্রতিনিয়ত নানা ইস্যু তৈরি করে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করছেন তাদের মা রোকেয়া বেগমকে। তারই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার (৪ মে) পার্শ্ববর্তী পুকুরের মাছ ধরার ইস্যু নিয়ে খায়রুল ইসলাম ও মজিবুর তাদের মাকে মারধর করে। এসময় ছোট দুই ভাই শামীম ও মুন্না মাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাদেরকে মারধর করে রক্তাক্ত জখম করেন তারা।

এ ঘটনায় রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে সিরাজদিখান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এছাড়াও অভিযুক্ত দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে বোনদের ১২ ভরি স্বর্ণ ধার নিয়ে না দেয়ার অভিযোগও রয়েছে।

নির্যাতিতা বৃদ্ধা রোকেয়া বেগম বলেন, আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে খায়রুল ইসলাম মজনু ও মজিবুর আমার বসতঘরটি দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা নানা ইস্যু তৈরি করে আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে যাচ্ছে। এর আগে দুই ছেলের নির্যাতন সইতে না পেরে থানায় জিডি করেছি। এখন আমি ও আমার অপর ছেলে-মেয়েদের নিয়ে শঙ্কিত।

তবে মাকে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত দুই ছেলে খায়রুল ও মজিবুর। তারা বলেন, মাকে নয় কথা কাটাকাটি হয়ে চার ভাইয়ের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে।

বিষয়টি শুনেছি দাবি করে স্থানীয় পঞ্চায়েত কমিটির মালেক গোরাপী বলেন, বিষয়টি নিয়ে জৈনসারের ইউপি চেয়ারম্যান বিচারের দায়িত্ব নিয়েছেন।

এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে জানিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মীর শহিদুল ইসলাম বলেন, চার ভাইয়ের মধ্যে মারামারি
থামাতে গিয়ে তাদের মায়ের গায়ে হয়তো আঘাত লেগেছে। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।