ঢাকা ১০:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

প্রেমের ফাঁদে ফেলে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ, আটকে রেখে ২ লাখ টাকা দাবি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে প্রেমের অভিনয় করে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে এবং আটকে রেখে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে। একপর্যায়ে দাবিকৃত টাকা না পেয়ে ওই কলেজছাত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়।

গত শনিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে তাকে উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ওই কলেজছাত্রী বাদী হয়ে তিন জনকে অভিযুক্ত করে গত রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে ইন্দুরকানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।

ভুক্তভোগী ওই কলেজছাত্রীর বাড়ি জেলার ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ভিটাবাড়িয়া গ্রামে। সে চলতি বছরে এইচএসসি পাস করে পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজে স্নাতক শ্রেণীতে ভর্তি ইচ্ছুক।

মামলা ও ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্যমতে জানা গেছে, ইন্দুরকানী উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের কলারন গ্রামের মৃত মাসুম খানের ছেলে সোহেল খান ওই কলেজছাত্রীকে প্রেম নিবেদন করে। এতে ওই কলেজছাত্রী রাজী না হলে বিভিন্ন সময় কান্নাকাটি করে তার সঙ্গে প্রেম করতে বাধ্য করে। একপর্যায়ে সোহেল তাকে জোর করে ঢাকায় নিয়ে যায় ও সেখানে তাকে ধর্ষণ করে। পরে তাকে ইন্দুরকানী নিয়ে এসে বিয়ের অজুহাত দেখিয়ে জোর করে কাগজে স্বাক্ষর নেয়। পরে স্থানীয় প্রভাবশালী আরিফুর রহমান টুটুল ও মাকছুদুল উপজেলার পেছনে সোহেলের খালু আবুল কালামের বাসায় তাকে আটকে রাখে। এ সময় বিভিন্ন সময় তাকে ধর্ষণ করা হয়। এসময় তার বাবার কাছে ফোন করে মেয়েকে নিয়ে যেতে হলে দুই লাখ টাকা লাগবে বলে জানায় তারা। পরে টাকা না পেয়ে গত শনিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রেমিক সোহেল, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা টুটুল, মাকছুদুলসহ চার/পাঁচ জনে তাকে মারধর করে স্থানীয় শেখ ফজলুল হক মনি সেতুর যাত্রী ছাউনীতে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে।

ওই কলেজছাত্রীর পরিবারের সদস্যদের দাবি, ওই কলেজছাত্রীকে নির্যাতন ও জোর করে বিয়ে দেওয়ার মূল নায়ক টুটুল ও মাকসুদুল স্থানীয় প্রভাবশালী। তাই একটি বিশেষ মহলের চাপের মুখে তাদের আসামি করা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা টুটুলের সঙ্গে কথা হলে ওই কলেজছাত্রীকে মারধর করা বা টাকা চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বাংলানিউজকে তিনি বলেন, সোহেল তাকে বিয়ে করতে চায়নি। আমি উদ্যোগ নিয়ে ওই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি ও তার খালুর ঘরে তুলে দিয়েছি। কি কারণে কাদের পরামর্শে ওই মেয়ে আমার নামে এমন অভিযোগ দিচ্ছে তা আমার জানা নেই।

এ ব্যাপারে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ভুক্তভোগী ওই কলেজছাত্রীর কথা মতে তিন জনকে আসামি করা হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে কাউকে সুবিধা দিতে নাম বাদ দেওয়া হয়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

প্রেমের ফাঁদে ফেলে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ, আটকে রেখে ২ লাখ টাকা দাবি

আপডেট সময় ১০:০৫:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে প্রেমের অভিনয় করে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে এবং আটকে রেখে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে। একপর্যায়ে দাবিকৃত টাকা না পেয়ে ওই কলেজছাত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়।

গত শনিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে তাকে উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ওই কলেজছাত্রী বাদী হয়ে তিন জনকে অভিযুক্ত করে গত রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে ইন্দুরকানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।

ভুক্তভোগী ওই কলেজছাত্রীর বাড়ি জেলার ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ভিটাবাড়িয়া গ্রামে। সে চলতি বছরে এইচএসসি পাস করে পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজে স্নাতক শ্রেণীতে ভর্তি ইচ্ছুক।

মামলা ও ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্যমতে জানা গেছে, ইন্দুরকানী উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের কলারন গ্রামের মৃত মাসুম খানের ছেলে সোহেল খান ওই কলেজছাত্রীকে প্রেম নিবেদন করে। এতে ওই কলেজছাত্রী রাজী না হলে বিভিন্ন সময় কান্নাকাটি করে তার সঙ্গে প্রেম করতে বাধ্য করে। একপর্যায়ে সোহেল তাকে জোর করে ঢাকায় নিয়ে যায় ও সেখানে তাকে ধর্ষণ করে। পরে তাকে ইন্দুরকানী নিয়ে এসে বিয়ের অজুহাত দেখিয়ে জোর করে কাগজে স্বাক্ষর নেয়। পরে স্থানীয় প্রভাবশালী আরিফুর রহমান টুটুল ও মাকছুদুল উপজেলার পেছনে সোহেলের খালু আবুল কালামের বাসায় তাকে আটকে রাখে। এ সময় বিভিন্ন সময় তাকে ধর্ষণ করা হয়। এসময় তার বাবার কাছে ফোন করে মেয়েকে নিয়ে যেতে হলে দুই লাখ টাকা লাগবে বলে জানায় তারা। পরে টাকা না পেয়ে গত শনিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রেমিক সোহেল, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা টুটুল, মাকছুদুলসহ চার/পাঁচ জনে তাকে মারধর করে স্থানীয় শেখ ফজলুল হক মনি সেতুর যাত্রী ছাউনীতে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে।

ওই কলেজছাত্রীর পরিবারের সদস্যদের দাবি, ওই কলেজছাত্রীকে নির্যাতন ও জোর করে বিয়ে দেওয়ার মূল নায়ক টুটুল ও মাকসুদুল স্থানীয় প্রভাবশালী। তাই একটি বিশেষ মহলের চাপের মুখে তাদের আসামি করা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা টুটুলের সঙ্গে কথা হলে ওই কলেজছাত্রীকে মারধর করা বা টাকা চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বাংলানিউজকে তিনি বলেন, সোহেল তাকে বিয়ে করতে চায়নি। আমি উদ্যোগ নিয়ে ওই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি ও তার খালুর ঘরে তুলে দিয়েছি। কি কারণে কাদের পরামর্শে ওই মেয়ে আমার নামে এমন অভিযোগ দিচ্ছে তা আমার জানা নেই।

এ ব্যাপারে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ভুক্তভোগী ওই কলেজছাত্রীর কথা মতে তিন জনকে আসামি করা হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে কাউকে সুবিধা দিতে নাম বাদ দেওয়া হয়নি।