ঢাকা ০৭:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী আমাকে ঋণখেলাপি বলে জাতির কাছে ছোট করা হয়েছে: সংসদে এমপি সারোয়ার ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড পাবে দেড় কোটির বেশি পরিবার উন্নত বাংলাদেশ গড়তে দক্ষ যুবসমাজ গড়ে তোলার বিকল্প নেই : রাষ্ট্রপতি জুলাই শহীদদের স্মৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে: আমানউল্লাহ আমান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৩ দাবি শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষা নেওয়া হবে, আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর ‘আমি কে তুমি কে, ফার্মের মুরগি ফার্মের মুরগি’ জানুয়ারিতে এসএসসি ও জুনে এইচএসসি পরীক্ষা বন্যায় ৫৪ জনের বেশিরভাগেরই মৃত্যুর কারণ পাহাড় ধস : দুর্যোগমন্ত্রী

কুষ্টিয়ায় দরবার শরিফে হামলা আগুন, দরবারপ্রধানকে পিটিয়ে হত্যা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দরবার শরিফে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় গণপিটুনিতে আব্দুর রহমান ওরফে শামীম (৬৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দু’জন। শনিবার দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরে দৌলতপুর থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

স্থানীয়রা জানান, শামীম নিজেকে ‘কালান্দার বাবা জাহাঙ্গীর সুরেশ্বরী’র অনুসারী হিসেবে পরিচয় দিতেন। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে পবিত্র কোরআন নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ ওঠে। তারই ধারাবাহিকতায় শনিবার বেলা একটার দিকে শতাধিক মানুষ দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগরে শামীমের দরবার শরিফ ঘেরাও করে। এক পর্যায়ে তারা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও একাধিক কক্ষে আগুন দেয়। এ সময় দরবারের ভেতরে থাকা শামীম ও তার দুই অনুসারী পিটুনির শিকার হন। বেলা ৩টার দিকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে শামীমের মৃত্যু হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, বেলা ৩টার দিকে আহত অবস্থায় তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে শামীমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা তিনটা ২০ মিনিটের দিকে তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, ‘শামীম দীর্ঘদিন ধরে নানা বিতর্কিত কাজ করছিলেন। কিন্তু এবার পবিত্র কোরআন নিয়ে মন্তব্য করায় এলাকাবাসী ফুঁসে ওঠে।’ আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মো. আসলাম হোসেন বলেন, ‘৫-৬ বছর ধরে তার কর্মকাণ্ডে আমরা বিরক্ত ছিলাম। তার আজব সব কর্মকাণ্ড নিয়ে আগেও প্রতিবাদ হয়েছে।’

শামীমের বড় ভাই ফজলুর রহমান বলেন, ‘শামীম বেশ কয়েক বছর ধরে ওই দরবার পরিচালনা করে আসছিলেন। তার কর্মকাণ্ডে এলাকার অনেকে অসন্তুষ্ট ছিল।’ তবে কারা হামলা চালিয়েছেন সে বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি তিনি।

পুলিশ জানায়, বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত কয়েকশ’ মানুষ দরবার শরিফ এলাকা ঘিরে রাখে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নতুন করে যাতে অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে জানিয়ে ওসি বলেন, ‘দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী

কুষ্টিয়ায় দরবার শরিফে হামলা আগুন, দরবারপ্রধানকে পিটিয়ে হত্যা

আপডেট সময় ০৭:০৮:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দরবার শরিফে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় গণপিটুনিতে আব্দুর রহমান ওরফে শামীম (৬৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দু’জন। শনিবার দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরে দৌলতপুর থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

স্থানীয়রা জানান, শামীম নিজেকে ‘কালান্দার বাবা জাহাঙ্গীর সুরেশ্বরী’র অনুসারী হিসেবে পরিচয় দিতেন। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে পবিত্র কোরআন নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ ওঠে। তারই ধারাবাহিকতায় শনিবার বেলা একটার দিকে শতাধিক মানুষ দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগরে শামীমের দরবার শরিফ ঘেরাও করে। এক পর্যায়ে তারা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও একাধিক কক্ষে আগুন দেয়। এ সময় দরবারের ভেতরে থাকা শামীম ও তার দুই অনুসারী পিটুনির শিকার হন। বেলা ৩টার দিকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে শামীমের মৃত্যু হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, বেলা ৩টার দিকে আহত অবস্থায় তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে শামীমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা তিনটা ২০ মিনিটের দিকে তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, ‘শামীম দীর্ঘদিন ধরে নানা বিতর্কিত কাজ করছিলেন। কিন্তু এবার পবিত্র কোরআন নিয়ে মন্তব্য করায় এলাকাবাসী ফুঁসে ওঠে।’ আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মো. আসলাম হোসেন বলেন, ‘৫-৬ বছর ধরে তার কর্মকাণ্ডে আমরা বিরক্ত ছিলাম। তার আজব সব কর্মকাণ্ড নিয়ে আগেও প্রতিবাদ হয়েছে।’

শামীমের বড় ভাই ফজলুর রহমান বলেন, ‘শামীম বেশ কয়েক বছর ধরে ওই দরবার পরিচালনা করে আসছিলেন। তার কর্মকাণ্ডে এলাকার অনেকে অসন্তুষ্ট ছিল।’ তবে কারা হামলা চালিয়েছেন সে বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি তিনি।

পুলিশ জানায়, বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত কয়েকশ’ মানুষ দরবার শরিফ এলাকা ঘিরে রাখে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নতুন করে যাতে অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে জানিয়ে ওসি বলেন, ‘দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’