ঢাকা ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চাইলে এক দিনেই ইরানকে ধ্বংস করতে পারি: ট্রাম্প জাতীয় সংসদে এক অধিবেশনে এত বেশি বিল পাসের নজির নেই: চিফ হুইপ বিএনপি ‘আত্মঘাতী’ রাজনীতি করছে: মামুনুল হক জুলাই সনদ সরকার ও বিরোধী দলকে মুখোমুখি পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে :পার্থ সনদ বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ার শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধার শান্তি আলোচনা ভেস্তে গেলে ‘প্রত্যেক দেশই ক্ষতিগ্রস্ত’ হবে: শামা ওবায়েদ ইরানকে ‘উপযুক্ত সময়ে’ ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ‘অ্যালেক্স ইমন’ নিহত তুরস্কের কাছে ‘সবচেয়ে সুন্দরী নারী’ চেয়ে উগান্ডার সেনাপ্রধানের হুঁশিয়ারি!

প্রধান শিক্ষক-কলেজছাত্রীর অবৈধ সম্পর্ক, অবশেষে ধর্ষণ মামলা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নীলফামারীর সৈয়দপুরে কামারপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীনের সাথে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের জের ধরে ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার রাতে ধর্ষিতার বাবা আবু ছালেক নিজে সৈয়দপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের পাশাপাশি তার স্ত্রী আসমা বেগমকেও আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগে জানা যায়, কামারপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীনের সাথে সম্পর্ক তৈরি হয় ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রী ও দলুয়া চৌধুরীপাড়া গ্রামের আবু ছালেকের মেয়ের (১৭)। একপর্যায়ে ওই প্রধান শিক্ষক ওই ছাত্রীর বাড়ি যাতায়াত করতে থাকেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ওই ছাত্রীকে প্রধান শিক্ষক বিয়ের আশ্বাস দেন এবং তার লেখাপড়ার যাবতীয় খরচ বহন করেন।

সে অনুযায়ী ওই শিক্ষক তিন মাস থেকে তার যাবতীয় খরচ বহন করেন এবং কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারে ভর্তি করিয়ে দেন। ছাত্রীর পিতা হতদরিদ্র রিক্সাচালক হওয়ায় ছাত্রীটি প্রধান শিক্ষকের কথায় বিশ্বাস করেন। একপর্যায়ে ছাত্রীটি তার বাড়িতেই প্রধান শিক্ষকের লালসার শিকার হন। এছাড়া ওই প্রধান শিক্ষকের বাসায় মাঝে মধ্যে ওই ছাত্রীকে ডেকে স্বামী স্ত্রীর মতো মেলামেশা করতেন।

কয়েক দিন আগে ওই ছাত্রী বিয়ের চাপ দিলে ওই শিক্ষক তালবাহানা শুরু করেন। এমনকি তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এদিকে ঘটনা ধামাচাপা দিতে গত ৯ সেপ্টেম্বর প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী আসমা বেগম, তার বোন ও তার দলের লোকজন দিয়ে ওই ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে এ ঘটনা প্রকাশ না করার জন্য হুমকি প্রদান করেন। প্রকাশ করলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে। তার স্ত্রী হুমকি দেয়ার পর ঘটনাটি প্রকাশ হয়ে গেলে ১১ সেপ্টেম্বর এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা উত্তেজিত হয়ে বিদ্যালয় অবরোধ করে।

এসময় তারা ধর্ষণকারী প্রধান শিক্ষকের বিচার দাবি করে। ঘটনার সময় বিদ্যালয় উপস্থিত হন উপজেলা চেয়ারম্যান মোকছেদুল মোমিন, ভাইস চেয়ারম্যান আজমল হোসেন সরকার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বজলুল রশীদ, উপজেলা ভুমি কমকর্তা, আহমেদ মাহবুব উল ইসলাম, সৈয়দপুর থানা অফিসার্স ইনচার্জ আমিরুল ইসলাম, মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা অফিসারসহ সৈয়দপুর থানার পুলিশ সদস্যরা। উপস্থিত প্রশাসনের লোকজন অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।।

সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত ) তাজউদ্দিন খন্দকার বলেন, মামলা দায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে আজ মঙ্গলবার ভিকটিমের জবাববন্দী গ্রহণে আদালতে এবং ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নীলফামারী হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

চাইলে এক দিনেই ইরানকে ধ্বংস করতে পারি: ট্রাম্প

প্রধান শিক্ষক-কলেজছাত্রীর অবৈধ সম্পর্ক, অবশেষে ধর্ষণ মামলা

আপডেট সময় ০৫:৩৫:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নীলফামারীর সৈয়দপুরে কামারপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীনের সাথে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের জের ধরে ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার রাতে ধর্ষিতার বাবা আবু ছালেক নিজে সৈয়দপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের পাশাপাশি তার স্ত্রী আসমা বেগমকেও আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগে জানা যায়, কামারপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীনের সাথে সম্পর্ক তৈরি হয় ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রী ও দলুয়া চৌধুরীপাড়া গ্রামের আবু ছালেকের মেয়ের (১৭)। একপর্যায়ে ওই প্রধান শিক্ষক ওই ছাত্রীর বাড়ি যাতায়াত করতে থাকেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ওই ছাত্রীকে প্রধান শিক্ষক বিয়ের আশ্বাস দেন এবং তার লেখাপড়ার যাবতীয় খরচ বহন করেন।

সে অনুযায়ী ওই শিক্ষক তিন মাস থেকে তার যাবতীয় খরচ বহন করেন এবং কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারে ভর্তি করিয়ে দেন। ছাত্রীর পিতা হতদরিদ্র রিক্সাচালক হওয়ায় ছাত্রীটি প্রধান শিক্ষকের কথায় বিশ্বাস করেন। একপর্যায়ে ছাত্রীটি তার বাড়িতেই প্রধান শিক্ষকের লালসার শিকার হন। এছাড়া ওই প্রধান শিক্ষকের বাসায় মাঝে মধ্যে ওই ছাত্রীকে ডেকে স্বামী স্ত্রীর মতো মেলামেশা করতেন।

কয়েক দিন আগে ওই ছাত্রী বিয়ের চাপ দিলে ওই শিক্ষক তালবাহানা শুরু করেন। এমনকি তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এদিকে ঘটনা ধামাচাপা দিতে গত ৯ সেপ্টেম্বর প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী আসমা বেগম, তার বোন ও তার দলের লোকজন দিয়ে ওই ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে এ ঘটনা প্রকাশ না করার জন্য হুমকি প্রদান করেন। প্রকাশ করলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে। তার স্ত্রী হুমকি দেয়ার পর ঘটনাটি প্রকাশ হয়ে গেলে ১১ সেপ্টেম্বর এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা উত্তেজিত হয়ে বিদ্যালয় অবরোধ করে।

এসময় তারা ধর্ষণকারী প্রধান শিক্ষকের বিচার দাবি করে। ঘটনার সময় বিদ্যালয় উপস্থিত হন উপজেলা চেয়ারম্যান মোকছেদুল মোমিন, ভাইস চেয়ারম্যান আজমল হোসেন সরকার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বজলুল রশীদ, উপজেলা ভুমি কমকর্তা, আহমেদ মাহবুব উল ইসলাম, সৈয়দপুর থানা অফিসার্স ইনচার্জ আমিরুল ইসলাম, মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা অফিসারসহ সৈয়দপুর থানার পুলিশ সদস্যরা। উপস্থিত প্রশাসনের লোকজন অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।।

সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত ) তাজউদ্দিন খন্দকার বলেন, মামলা দায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে আজ মঙ্গলবার ভিকটিমের জবাববন্দী গ্রহণে আদালতে এবং ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নীলফামারী হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।