ঢাকা ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

প্রধান শিক্ষক-কলেজছাত্রীর অবৈধ সম্পর্ক, অবশেষে ধর্ষণ মামলা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নীলফামারীর সৈয়দপুরে কামারপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীনের সাথে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের জের ধরে ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার রাতে ধর্ষিতার বাবা আবু ছালেক নিজে সৈয়দপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের পাশাপাশি তার স্ত্রী আসমা বেগমকেও আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগে জানা যায়, কামারপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীনের সাথে সম্পর্ক তৈরি হয় ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রী ও দলুয়া চৌধুরীপাড়া গ্রামের আবু ছালেকের মেয়ের (১৭)। একপর্যায়ে ওই প্রধান শিক্ষক ওই ছাত্রীর বাড়ি যাতায়াত করতে থাকেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ওই ছাত্রীকে প্রধান শিক্ষক বিয়ের আশ্বাস দেন এবং তার লেখাপড়ার যাবতীয় খরচ বহন করেন।

সে অনুযায়ী ওই শিক্ষক তিন মাস থেকে তার যাবতীয় খরচ বহন করেন এবং কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারে ভর্তি করিয়ে দেন। ছাত্রীর পিতা হতদরিদ্র রিক্সাচালক হওয়ায় ছাত্রীটি প্রধান শিক্ষকের কথায় বিশ্বাস করেন। একপর্যায়ে ছাত্রীটি তার বাড়িতেই প্রধান শিক্ষকের লালসার শিকার হন। এছাড়া ওই প্রধান শিক্ষকের বাসায় মাঝে মধ্যে ওই ছাত্রীকে ডেকে স্বামী স্ত্রীর মতো মেলামেশা করতেন।

কয়েক দিন আগে ওই ছাত্রী বিয়ের চাপ দিলে ওই শিক্ষক তালবাহানা শুরু করেন। এমনকি তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এদিকে ঘটনা ধামাচাপা দিতে গত ৯ সেপ্টেম্বর প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী আসমা বেগম, তার বোন ও তার দলের লোকজন দিয়ে ওই ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে এ ঘটনা প্রকাশ না করার জন্য হুমকি প্রদান করেন। প্রকাশ করলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে। তার স্ত্রী হুমকি দেয়ার পর ঘটনাটি প্রকাশ হয়ে গেলে ১১ সেপ্টেম্বর এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা উত্তেজিত হয়ে বিদ্যালয় অবরোধ করে।

এসময় তারা ধর্ষণকারী প্রধান শিক্ষকের বিচার দাবি করে। ঘটনার সময় বিদ্যালয় উপস্থিত হন উপজেলা চেয়ারম্যান মোকছেদুল মোমিন, ভাইস চেয়ারম্যান আজমল হোসেন সরকার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বজলুল রশীদ, উপজেলা ভুমি কমকর্তা, আহমেদ মাহবুব উল ইসলাম, সৈয়দপুর থানা অফিসার্স ইনচার্জ আমিরুল ইসলাম, মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা অফিসারসহ সৈয়দপুর থানার পুলিশ সদস্যরা। উপস্থিত প্রশাসনের লোকজন অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।।

সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত ) তাজউদ্দিন খন্দকার বলেন, মামলা দায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে আজ মঙ্গলবার ভিকটিমের জবাববন্দী গ্রহণে আদালতে এবং ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নীলফামারী হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

প্রধান শিক্ষক-কলেজছাত্রীর অবৈধ সম্পর্ক, অবশেষে ধর্ষণ মামলা

আপডেট সময় ০৫:৩৫:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নীলফামারীর সৈয়দপুরে কামারপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীনের সাথে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের জের ধরে ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার রাতে ধর্ষিতার বাবা আবু ছালেক নিজে সৈয়দপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের পাশাপাশি তার স্ত্রী আসমা বেগমকেও আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগে জানা যায়, কামারপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীনের সাথে সম্পর্ক তৈরি হয় ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রী ও দলুয়া চৌধুরীপাড়া গ্রামের আবু ছালেকের মেয়ের (১৭)। একপর্যায়ে ওই প্রধান শিক্ষক ওই ছাত্রীর বাড়ি যাতায়াত করতে থাকেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ওই ছাত্রীকে প্রধান শিক্ষক বিয়ের আশ্বাস দেন এবং তার লেখাপড়ার যাবতীয় খরচ বহন করেন।

সে অনুযায়ী ওই শিক্ষক তিন মাস থেকে তার যাবতীয় খরচ বহন করেন এবং কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারে ভর্তি করিয়ে দেন। ছাত্রীর পিতা হতদরিদ্র রিক্সাচালক হওয়ায় ছাত্রীটি প্রধান শিক্ষকের কথায় বিশ্বাস করেন। একপর্যায়ে ছাত্রীটি তার বাড়িতেই প্রধান শিক্ষকের লালসার শিকার হন। এছাড়া ওই প্রধান শিক্ষকের বাসায় মাঝে মধ্যে ওই ছাত্রীকে ডেকে স্বামী স্ত্রীর মতো মেলামেশা করতেন।

কয়েক দিন আগে ওই ছাত্রী বিয়ের চাপ দিলে ওই শিক্ষক তালবাহানা শুরু করেন। এমনকি তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এদিকে ঘটনা ধামাচাপা দিতে গত ৯ সেপ্টেম্বর প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী আসমা বেগম, তার বোন ও তার দলের লোকজন দিয়ে ওই ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে এ ঘটনা প্রকাশ না করার জন্য হুমকি প্রদান করেন। প্রকাশ করলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে। তার স্ত্রী হুমকি দেয়ার পর ঘটনাটি প্রকাশ হয়ে গেলে ১১ সেপ্টেম্বর এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা উত্তেজিত হয়ে বিদ্যালয় অবরোধ করে।

এসময় তারা ধর্ষণকারী প্রধান শিক্ষকের বিচার দাবি করে। ঘটনার সময় বিদ্যালয় উপস্থিত হন উপজেলা চেয়ারম্যান মোকছেদুল মোমিন, ভাইস চেয়ারম্যান আজমল হোসেন সরকার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বজলুল রশীদ, উপজেলা ভুমি কমকর্তা, আহমেদ মাহবুব উল ইসলাম, সৈয়দপুর থানা অফিসার্স ইনচার্জ আমিরুল ইসলাম, মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা অফিসারসহ সৈয়দপুর থানার পুলিশ সদস্যরা। উপস্থিত প্রশাসনের লোকজন অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।।

সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত ) তাজউদ্দিন খন্দকার বলেন, মামলা দায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে আজ মঙ্গলবার ভিকটিমের জবাববন্দী গ্রহণে আদালতে এবং ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নীলফামারী হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।