ঢাকা ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রস্তাবিত বাজেট ব্যবসাবান্ধব: বিজিএমইএ অল্পতেই ধৈর্য হারালে দায়িত্ব কীভাবে পালন করবেন: ডা. শফিকুর রহমান ‘ব্রেন ড্রেন’ থেকে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’ করতে চায় সরকার: মাহদী আমিন ধর্মান্তরিত হয়ে প্রবাসীকে বিয়ে, ছয় মাস পর তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যু দেশের অর্থনীতি গভীর চাপে রয়েছে : নাহিদ ইসলাম শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মেধাবী প্রকৌশলীদের বিদেশমুখী প্রবণতা কমাতে অনুকূল কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে: আইনমন্ত্রী আদ-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে, কিন্তু লাইসেন্স বাতিল করেছি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজনৈতিকভাবে দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে : জোনায়েদ সাকী নৌ ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেফতার ১০

প্রেমিকাকে হত্যার দায়ে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশির ফাঁসি

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:  

প্রেমিকাকে হত্যার দায়ে বাংলাদেশি এক কর্মীকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে সিঙ্গাপুরের আদালত। সোমবার ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত ওই বাংলাদেশির নাম আহমেদ সেলিম। ৩১ বছর বয়সের সেলিম সিঙ্গাপুরে রং মিস্ত্রির কাজ করতেন।

সেলিমের প্রেমিকা নুরহিদায়াতি ওয়ারতোনু সুরাতা ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। তিনি সিঙ্গাপুরে গৃহকর্মীর কাজ করতেন। ২০১২ সাল থেকে তারা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। কিন্তু ২০১৮ সালে সেলিম জানতে পারেন তার প্রেমিকার অন্য এক পুরুষের সঙ্গেও প্রেমের সম্পর্ক আছে। বিষয়টি জানতে পেরে রাগের মাথায় সিঙ্গাপুরের একটি হোটেলে নুরহিদায়াতিকে ডেকে নিয়ে গলা টিপে হত্যা করেন সেলিম।

সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার দেশটির জুডিসিয়াল কমিশনার মাবিস সিওন সেলিমের ফাঁসির আদেশ দেন। আদালতে বিচারক ফাঁসির রায় ঘোষণার সময় কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাননি সেলিম। এর আগে এই ঘটনায় ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর সেলিমকে আটক করে দেশটির পুলিশ। আদালতে বিচার চলাকালীন সময়ে বেশ কয়েকবার ক্রন্দনরত অবস্থায় সেলিম বলেছিলেন তিনি নুরহিদায়াতিকে খুব বেশি ভালোবাসতেন এবং তার ধোঁকাবাজির কারণে তিনি খুব রেগে গিয়েছিলেন।

সেলিমের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগপত্রটি বলছে, ২০১২ সালের মে থেকে সেলিম আর গৃহকর্মী নুরহিদায়াতির মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে তাদের বিয়ে হবার কথা ছিল। এমনকি ২০১৭ সালে একটি অনুষ্ঠানে নুরহিদায়াতিকে বিয়ের রিং পরিয়ে দিয়েছিলেন সেলিম।

কিন্তু পরবর্তীতে ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে আরেক বাংলাদেশি কর্মী শামীম শামিজুর রহমানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান নুরহিদায়াতি। শামীমের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি পরবর্তীতে নুরহিদায়াতিও স্বীকার করেন।

প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝামেলা চলাকালীন সময়ে সেলিমের জন্য বাংলাদেশে বিয়ে ঠিক করেন তার মা-বাবা। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেই বিয়ে হবার কথা ছিল্।

বিষয়টি জানতে পেরে ২০১৮ সালের ৯ ডিসেম্বর নুরহিদায়াতি সেলিমকে ফোন করে বলেন, তিনি নতুন একজনের সঙ্গে সম্পর্ক শুরু করেছেন। তিনি চাইলে বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে পরিবারের ঠিক করা মেয়ের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারেন।

পরবর্তীতে একই বছরের ২৩ ডিসেম্বর ফোনে তাদের মধ্যে চূড়ান্ত বিচ্ছেদ ঘটে। বিচ্ছেদের সাত দিন পর নুরহিদায়াতিকে ৩০ ডিসেম্বর গোল্ডেন ড্রাগন হোটেলে ডেকে নিয়ে আসেন সেলিম। তারপর তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়। শারীরিক সম্পর্কের পর সেলিম তাকে শামীমের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বলেন। কিন্তু নুরহিদায়াতি অসম্মতি জানালে তাকে তৎক্ষণাত গলায় ঘামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে সেলিম।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রস্তাবিত বাজেট ব্যবসাবান্ধব: বিজিএমইএ

প্রেমিকাকে হত্যার দায়ে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশির ফাঁসি

আপডেট সময় ০৫:০১:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২০

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:  

প্রেমিকাকে হত্যার দায়ে বাংলাদেশি এক কর্মীকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে সিঙ্গাপুরের আদালত। সোমবার ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত ওই বাংলাদেশির নাম আহমেদ সেলিম। ৩১ বছর বয়সের সেলিম সিঙ্গাপুরে রং মিস্ত্রির কাজ করতেন।

সেলিমের প্রেমিকা নুরহিদায়াতি ওয়ারতোনু সুরাতা ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। তিনি সিঙ্গাপুরে গৃহকর্মীর কাজ করতেন। ২০১২ সাল থেকে তারা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। কিন্তু ২০১৮ সালে সেলিম জানতে পারেন তার প্রেমিকার অন্য এক পুরুষের সঙ্গেও প্রেমের সম্পর্ক আছে। বিষয়টি জানতে পেরে রাগের মাথায় সিঙ্গাপুরের একটি হোটেলে নুরহিদায়াতিকে ডেকে নিয়ে গলা টিপে হত্যা করেন সেলিম।

সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার দেশটির জুডিসিয়াল কমিশনার মাবিস সিওন সেলিমের ফাঁসির আদেশ দেন। আদালতে বিচারক ফাঁসির রায় ঘোষণার সময় কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাননি সেলিম। এর আগে এই ঘটনায় ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর সেলিমকে আটক করে দেশটির পুলিশ। আদালতে বিচার চলাকালীন সময়ে বেশ কয়েকবার ক্রন্দনরত অবস্থায় সেলিম বলেছিলেন তিনি নুরহিদায়াতিকে খুব বেশি ভালোবাসতেন এবং তার ধোঁকাবাজির কারণে তিনি খুব রেগে গিয়েছিলেন।

সেলিমের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগপত্রটি বলছে, ২০১২ সালের মে থেকে সেলিম আর গৃহকর্মী নুরহিদায়াতির মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে তাদের বিয়ে হবার কথা ছিল। এমনকি ২০১৭ সালে একটি অনুষ্ঠানে নুরহিদায়াতিকে বিয়ের রিং পরিয়ে দিয়েছিলেন সেলিম।

কিন্তু পরবর্তীতে ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে আরেক বাংলাদেশি কর্মী শামীম শামিজুর রহমানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান নুরহিদায়াতি। শামীমের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি পরবর্তীতে নুরহিদায়াতিও স্বীকার করেন।

প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝামেলা চলাকালীন সময়ে সেলিমের জন্য বাংলাদেশে বিয়ে ঠিক করেন তার মা-বাবা। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেই বিয়ে হবার কথা ছিল্।

বিষয়টি জানতে পেরে ২০১৮ সালের ৯ ডিসেম্বর নুরহিদায়াতি সেলিমকে ফোন করে বলেন, তিনি নতুন একজনের সঙ্গে সম্পর্ক শুরু করেছেন। তিনি চাইলে বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে পরিবারের ঠিক করা মেয়ের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারেন।

পরবর্তীতে একই বছরের ২৩ ডিসেম্বর ফোনে তাদের মধ্যে চূড়ান্ত বিচ্ছেদ ঘটে। বিচ্ছেদের সাত দিন পর নুরহিদায়াতিকে ৩০ ডিসেম্বর গোল্ডেন ড্রাগন হোটেলে ডেকে নিয়ে আসেন সেলিম। তারপর তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়। শারীরিক সম্পর্কের পর সেলিম তাকে শামীমের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বলেন। কিন্তু নুরহিদায়াতি অসম্মতি জানালে তাকে তৎক্ষণাত গলায় ঘামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে সেলিম।