আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
নববধূ জাহিদা আক্তার শিলামনি (২০) হত্যার অভিযোগে তার শ্বশুর ও শাশুড়িকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। শুক্রবার রংপুরের বদরগঞ্জে ওই নববধূকে শ্বাসরোধে হত্যার পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে লাশ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে নিহতের স্বজনদের কাছ থেকে।
লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ। নিহতের শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এ ঘটনার পর শ্বশুরবাড়ির লোকজন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেলেও পুলিশ নববধূর শ্বশুর ও শাশুড়িকে আটক করে থানায় নিয়ে।
শুক্রবার সকালের দিকে ঘটনাটি ঘটে উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের সোনারপাড়া গ্রামে। শিলামনি পার্শ্ববর্তী পীরগঞ্জ উপজেলার শাহ আব্দুর রউফ সরকারি কলেজের অনার্স বাংলা বিষয়ের শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবার বাড়ি পার্শ্ববর্তী মিঠাপুকুর উপজেলার বড়বালা ইউনিয়নের কেশকপুর গ্রামে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় আড়াই মাস আগে পারিবারিকভাবে সোনারপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম খোকা মেম্বারের পুত্র নাসিম সোনারের সঙ্গে শিলামনির বিয়ে হয়। বাবার বাড়ি থেকে বিয়েতে ৪ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু হতদরিদ্র বাবা অলঙ্কার তৈরি করে দিতে দেরি করেন।
এ নিয়ে প্রায়ই শিলামনিকে গালাগালসহ মানসিকভাবে নির্যাতন চালায় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। নিহতের পরিবারের ধারণা ওই বিরোধের জেরে শুক্রবার সকালে শিলামনিকে হত্যার পর তার লাশ ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলিয়ে দেয়া হয়। পরে বিষয়টি প্রতিবেশীদের মধ্যে জানাজানি হলে স্বামী নাসিম সোনারসহ বাড়ির লোকজন ঘরে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা সাহাবুল ইসলাম মণ্ডল বাদী হয়ে বদরগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেছেন।
নিহতের চাচা আতাউর রহমান বলেন, বিয়েতে ৪ ভরি ওজনের অলঙ্কার দেয়ার কথা ছিল। টাকা ম্যানেজ করে মেয়ের বাবা অলঙ্কার তৈরি করেন। কিন্তু সেটি দিতে দেরি হওয়ায় মেয়েকে প্রায়ই অকথ্য ভাষায় গালাগাল দিত। এ ঘটনার জেরে পরিকল্পিতভাবে আমার ভাতিজিকে হত্যার পর লাশ ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে ঘরের তীরের সঙ্গে ঝোলানো হয়। আশপাশের লোকজনের মুখে খবর পেয়ে আমরা ছুটে এসে দেখি খাটের ওপর লাশ ঝুলছিল। তার শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানান তিনি।
বদরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফ আলী বলেন, ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় নিহতের পরিবারের পক্ষে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) মারুফ হোসেন জানান, নিহতের শ্বশুর খোকা মেম্বার ও শাশুড়ি শাহনাজ বেগমকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার পর স্বামী পালিয়ে গেছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে স্বামী নববধূকে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রেখেছিল। ময়নাতদন্তের পর বিষয়টি পরিষ্কার করা যাবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 























