ঢাকা ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

অর্থের অভাবে মাটিচাপা দেয়া হল দুর্ঘটনায় নিহত সেই ৬ জনকে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অর্থের অভাবে মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত টাঙ্গাইলের নাগরপুরের একটি হিন্দু পরিবারের ছয় সদস্যকে সৎকার না করে মাটিচাপা দেয়া হয়েছে।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ভাদ্রা গ্রামে নিহতদের নিজ বাড়ির আঙিনায় মাটিচাপা দেয়া হয়েছে।

নিহতরা হলেন- ওই গ্রামের হরে কৃষ্ণ বাদ্যকার (৫৫), তার ছেলে গোবিন্দ বাদ্যকার (২৮), গোবিন্দর স্ত্রী ববিতা বাদ্যকার (২৫), মেয়ে রাধে বাদ্যকার (৪), চাচি খুশি বাদ্যকার (৫২) ও চাচাতো ভাই রাম প্রসাদ বাদ্যকার (৩০)। একই পরিবারের শিশু ও নারীসহ ছয় সদস্য নিহতের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ইউপি সদস্য মো. বেল্লাল সরদার জানান, নিহতের পরিবারে হরে কৃষ্ণ বাদ্যকারের স্ত্রী ঝর্ণা বাদ্যকার এবং নিহত দুই ভাইয়ের স্ত্রী ছাড়া আর কেউ নেই। তারা খুবই দরিদ্র ও অসহায়। একসঙ্গে ৬টি লাশ দাহ করতে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার মতো খরচ হবে। এত টাকা ওই পরিবারের পক্ষ থেকে সংগ্রহ করা সম্ভব নয়।

তাই সবার সিদ্ধান্তে লাশগুলো সকালে মাটিচাপা দেয়া হয়েছে। তবে নিহতের স্বজনরা যদি দাহ করার দাবি জানাতেন তাহলে আমাদের সহযোগিতায় লাশগুলো দাহ করা হতো।

ইউপি চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান খান জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে হরে কৃষ্ণ বাদ্যকারের পরিবারের মাঝে আর্থিক অনুদান দেয়া হবে। এছাড়াও ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন তিনি।

এদিকে শনিবার সকালে লাশগুলো মাটিচাপা দেয়ার ঘণ্টাখানেক পর জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিহতদের বাড়ি পরিদর্শন করে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেছেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আমিনুল ইসলাম, নাগরপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারিন মসরুর প্রমুখ।

এ বিষয়ে নাগরপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারিন মসরুর জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের বাড়িতে গিয়ে হরে কৃষ্ণের পরিবারকে নগদ ২৫ হাজার টাকা, চাচাতো ভাই রাম প্রসাদ বাদ্যকারের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে।

তবে অর্থের অভাবে তাদের মাটিচাপা দেয়ার বিষয়টি তিনি জানেন না। আর এ বিষয়ে তাকে কেউ অবগত করেননি। যদি নিহতের স্বজনরা কেউ তাকে অবগত করতেন তাহলে অবশ্যই প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাশের শেষকৃত্য সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেয়া হতো।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অর্থের অভাবে মাটিচাপা দেয়া হল দুর্ঘটনায় নিহত সেই ৬ জনকে

আপডেট সময় ১০:৪৩:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অর্থের অভাবে মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত টাঙ্গাইলের নাগরপুরের একটি হিন্দু পরিবারের ছয় সদস্যকে সৎকার না করে মাটিচাপা দেয়া হয়েছে।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ভাদ্রা গ্রামে নিহতদের নিজ বাড়ির আঙিনায় মাটিচাপা দেয়া হয়েছে।

নিহতরা হলেন- ওই গ্রামের হরে কৃষ্ণ বাদ্যকার (৫৫), তার ছেলে গোবিন্দ বাদ্যকার (২৮), গোবিন্দর স্ত্রী ববিতা বাদ্যকার (২৫), মেয়ে রাধে বাদ্যকার (৪), চাচি খুশি বাদ্যকার (৫২) ও চাচাতো ভাই রাম প্রসাদ বাদ্যকার (৩০)। একই পরিবারের শিশু ও নারীসহ ছয় সদস্য নিহতের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ইউপি সদস্য মো. বেল্লাল সরদার জানান, নিহতের পরিবারে হরে কৃষ্ণ বাদ্যকারের স্ত্রী ঝর্ণা বাদ্যকার এবং নিহত দুই ভাইয়ের স্ত্রী ছাড়া আর কেউ নেই। তারা খুবই দরিদ্র ও অসহায়। একসঙ্গে ৬টি লাশ দাহ করতে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার মতো খরচ হবে। এত টাকা ওই পরিবারের পক্ষ থেকে সংগ্রহ করা সম্ভব নয়।

তাই সবার সিদ্ধান্তে লাশগুলো সকালে মাটিচাপা দেয়া হয়েছে। তবে নিহতের স্বজনরা যদি দাহ করার দাবি জানাতেন তাহলে আমাদের সহযোগিতায় লাশগুলো দাহ করা হতো।

ইউপি চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান খান জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে হরে কৃষ্ণ বাদ্যকারের পরিবারের মাঝে আর্থিক অনুদান দেয়া হবে। এছাড়াও ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন তিনি।

এদিকে শনিবার সকালে লাশগুলো মাটিচাপা দেয়ার ঘণ্টাখানেক পর জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিহতদের বাড়ি পরিদর্শন করে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেছেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আমিনুল ইসলাম, নাগরপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারিন মসরুর প্রমুখ।

এ বিষয়ে নাগরপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারিন মসরুর জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের বাড়িতে গিয়ে হরে কৃষ্ণের পরিবারকে নগদ ২৫ হাজার টাকা, চাচাতো ভাই রাম প্রসাদ বাদ্যকারের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে।

তবে অর্থের অভাবে তাদের মাটিচাপা দেয়ার বিষয়টি তিনি জানেন না। আর এ বিষয়ে তাকে কেউ অবগত করেননি। যদি নিহতের স্বজনরা কেউ তাকে অবগত করতেন তাহলে অবশ্যই প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাশের শেষকৃত্য সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেয়া হতো।