ঢাকা ০১:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আপত্তি থাকলে আগেই বলুন, বিল পাশের পর বলছেন আমি কিছু বুঝিলাম না:জামায়াত আমিরকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপির উচিত বিতর্কিত কর্মকাণ্ডগুলো ৬ মাসের মধ্যেই শেষ করে ফেলা: সামান্থা খুলনায় ছেলের লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যু এসএসসির খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা শত্রুতামূলক আচরণ না করলে হরমুজ দিয়ে মার্কিন জাহাজ চলতে পারবে: ইরান লেবাননে কোনো যুদ্ধবিরতি চলছে না, হামলা অব্যাহত থাকবে: নেতানিয়াহু বাংলা নববর্ষ উদযাপন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার ডিএমপির উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার করবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের চেতনার বহিঃপ্রকাশ: অ্যাটর্নি জেনারেল ১৬ বছরের দুর্নীতি-লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী

সেই শতবর্ষী মায়ের দায়িত্ব নিলেন এমপি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার নড়াইল ইউনিয়নের বাঘমার গ্রামের শতবর্ষী সেই মায়ের দায়িত্ব নিলেন ময়মনসিংহ-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) জুয়েল আরেং।

গতকাল শনিবার ‘মা থাকেন মাটিতে, মেয়ে আধাপাকা বাড়িতে’ শিরোনামে ছাড়াও বিভিন্ন গণমাধ্যমে শতবর্ষী সেই মায়ের দুর্দশা নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়। সেই খবর দেখে রাতেই সংসদ সদস্য জুয়েল আরেং একটি প্রতিনিধিদলকে বৃদ্ধার সঙ্গে দেখা করতে পাঠান। এ সময় শুকনো কিছু খাবারসহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্রও দিয়ে আসেন তাঁরা।

প্রতিনিধিদলের একজন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মাসুদ করিম জানান, সেই অন্ধকার কুঠরি থেকে শতবর্ষী ওই মাকে উদ্ধার করে ভালো পরিবেশে জায়গা করে দেওয়া হয়েছে। রোববার সকালে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।

মাসুদ রাতে বলেন, ‘আমাদের এমপি মহোদয় গণমাধ্যম ও ফেসবুকে খবরটি জানার পর আমাকে ফোন করে অসহায় ওই নারীর খোঁজখবর নিতে বলেন। বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে সাতজনের একটি দল ওই নারীর বাড়িতে যাই। তাঁকে শুকনো খাবার চিড়া, মুড়ি, বিস্কুট, মোমবাতি, দেশলাই ও মশার কয়েল দেওয়া হয়েছে। এ সময় তাঁর মেয়ে আকলিমা ও মেয়ে জামাতা নূরুল আমিন উপস্থিত ছিলেন। রাতের জন্য একটি ভালো ঘরে তাঁকে শোবার ব্যবস্থা করে মেয়েজামাইয়ের জিম্মায় রেখে আমরা চলে আসি। রোববার সকালে তাঁকে নেওয়া হবে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে।’

মাসুদ আরো বলেন, ‘ওই নারীর মানবেতর জীবনচিত্র দেখে আমরা বিস্মিত হয়েছি, এমপি সাহেবকে বিষয়টি অবগত করেছি। উনি প্রাথমিকভাবে সব দায়িত্ব নেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।’

তবে সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বিষয়টি জানানোর পরেও তিনি ওই নারীর কোনো খোঁজখবর না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন করেন মাসুদ।

হালুয়াঘাট উপজেলার নড়াইল ইউনিয়নের বাঘমা গ্রামের বৃদ্ধা সালমা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করলেও স্বজনরা তাঁর কোনো খোঁজখবর নেন না বলে জানা গেছে। জঙ্গলের মধ্যে করে দেওয়া একটি স্যাঁতসেঁতে, অন্ধকার ঘরে অনাদর আর অবহেলায় দিনের পর দিন পার করছেন শতবর্ষী এই মা।

প্রতিবেশীরা জানান, বৃদ্ধা সালমার দুই মেয়ের জামাই তাঁর সব সম্পদ আত্মসাৎ করেছেন। মেয়ে আকলিমার স্বামী নূরুল আমিন তাঁর টিনশেডের আধাপাকা ঘর থেকে ৫০ গজ দূরে ঝোপঝাড়ের পাশে ভাঙা টিনশেডের ঘরে রেখেছেন। পরিবারের কেউ প্রতিদিন কোনো একবেলায় বৃদ্ধার জন্য খাবার রেখে যায়।

বড় মেয়ে আকলিমা ও তাঁর স্বামী নুরুল আমিন বসবাস করেন পাশের আধাপাকা বাড়িতে। বাড়িতে গিয়ে নুরুল আমিনকে পাওয়া যায়নি। আকলিমার দুই ছেলে ও চার মেয়ে। ছোট মেয়ে হালিমা খাতুন স্বামী হুরমুজ ফকিরের সঙ্গে বসবাস করেন পাশের ধোবাউড়া উপজেলার মুন্সিরহাট গ্রামে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ: এডিবি

সেই শতবর্ষী মায়ের দায়িত্ব নিলেন এমপি

আপডেট সময় ১২:২৬:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার নড়াইল ইউনিয়নের বাঘমার গ্রামের শতবর্ষী সেই মায়ের দায়িত্ব নিলেন ময়মনসিংহ-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) জুয়েল আরেং।

গতকাল শনিবার ‘মা থাকেন মাটিতে, মেয়ে আধাপাকা বাড়িতে’ শিরোনামে ছাড়াও বিভিন্ন গণমাধ্যমে শতবর্ষী সেই মায়ের দুর্দশা নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়। সেই খবর দেখে রাতেই সংসদ সদস্য জুয়েল আরেং একটি প্রতিনিধিদলকে বৃদ্ধার সঙ্গে দেখা করতে পাঠান। এ সময় শুকনো কিছু খাবারসহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্রও দিয়ে আসেন তাঁরা।

প্রতিনিধিদলের একজন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মাসুদ করিম জানান, সেই অন্ধকার কুঠরি থেকে শতবর্ষী ওই মাকে উদ্ধার করে ভালো পরিবেশে জায়গা করে দেওয়া হয়েছে। রোববার সকালে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।

মাসুদ রাতে বলেন, ‘আমাদের এমপি মহোদয় গণমাধ্যম ও ফেসবুকে খবরটি জানার পর আমাকে ফোন করে অসহায় ওই নারীর খোঁজখবর নিতে বলেন। বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে সাতজনের একটি দল ওই নারীর বাড়িতে যাই। তাঁকে শুকনো খাবার চিড়া, মুড়ি, বিস্কুট, মোমবাতি, দেশলাই ও মশার কয়েল দেওয়া হয়েছে। এ সময় তাঁর মেয়ে আকলিমা ও মেয়ে জামাতা নূরুল আমিন উপস্থিত ছিলেন। রাতের জন্য একটি ভালো ঘরে তাঁকে শোবার ব্যবস্থা করে মেয়েজামাইয়ের জিম্মায় রেখে আমরা চলে আসি। রোববার সকালে তাঁকে নেওয়া হবে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে।’

মাসুদ আরো বলেন, ‘ওই নারীর মানবেতর জীবনচিত্র দেখে আমরা বিস্মিত হয়েছি, এমপি সাহেবকে বিষয়টি অবগত করেছি। উনি প্রাথমিকভাবে সব দায়িত্ব নেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।’

তবে সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বিষয়টি জানানোর পরেও তিনি ওই নারীর কোনো খোঁজখবর না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন করেন মাসুদ।

হালুয়াঘাট উপজেলার নড়াইল ইউনিয়নের বাঘমা গ্রামের বৃদ্ধা সালমা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করলেও স্বজনরা তাঁর কোনো খোঁজখবর নেন না বলে জানা গেছে। জঙ্গলের মধ্যে করে দেওয়া একটি স্যাঁতসেঁতে, অন্ধকার ঘরে অনাদর আর অবহেলায় দিনের পর দিন পার করছেন শতবর্ষী এই মা।

প্রতিবেশীরা জানান, বৃদ্ধা সালমার দুই মেয়ের জামাই তাঁর সব সম্পদ আত্মসাৎ করেছেন। মেয়ে আকলিমার স্বামী নূরুল আমিন তাঁর টিনশেডের আধাপাকা ঘর থেকে ৫০ গজ দূরে ঝোপঝাড়ের পাশে ভাঙা টিনশেডের ঘরে রেখেছেন। পরিবারের কেউ প্রতিদিন কোনো একবেলায় বৃদ্ধার জন্য খাবার রেখে যায়।

বড় মেয়ে আকলিমা ও তাঁর স্বামী নুরুল আমিন বসবাস করেন পাশের আধাপাকা বাড়িতে। বাড়িতে গিয়ে নুরুল আমিনকে পাওয়া যায়নি। আকলিমার দুই ছেলে ও চার মেয়ে। ছোট মেয়ে হালিমা খাতুন স্বামী হুরমুজ ফকিরের সঙ্গে বসবাস করেন পাশের ধোবাউড়া উপজেলার মুন্সিরহাট গ্রামে।