ঢাকা ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘যারা কেন্দ্র দখলের চিন্তা করছেন, তারা বাসা থেকে মা-বাবার দোয়া নিয়ে বের হইয়েন’:হাসনাত চট্টগ্রামের স্বপ্ন ভেঙে ফের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স অভিবাসন নীতি মেনে চলতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জাতিসংঘের দেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হলে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে : তারেক রহমান ‘একটি স্বার্থান্বেষী দল ইসলামী আন্দোলনকে ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে’:রেজাউল করিম ছেলে এনসিপির প্রার্থী, বাবা ভোট চাইলেন ধানের শীষে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাবে তরুণ সমাজ বিপদগামী হচ্ছে : মির্জা আব্বাস বাংলাদেশি সন্দেহে ভারতে যুবককে পিটিয়ে হত্যা নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠছে তুরস্ক: এরদোগান জনগণ জেনে গেছে ‘হ্যা’ ভোট দেওয়া হলে দেশে স্বৈরাচার আর ফিরে আসবে না: প্রেস সচিব

প্রযুক্তির ব্যবহারে নারী থাকবে নিরাপদ

আকাশ আইসিটি ডেস্ক : 

দেশজুড়ে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ধর্ষণের ঘটনা; ভারি হচ্ছে খবরের শিরোনাম; নিন্দায় ভাসছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। নারীর প্রতি সহিংসতা, খুন, ধর্ষণ, পারিবারিক ও সামাজিক নিপীড়ন রোধে কোনো উদ্যোগই কাজে আসছে না।

তবে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রাথমিকভাবে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পার্সোনাল সিকিউরিটি ও নিরাপত্তা বাহিনীর অ্যাপস এবং কিছু কল সেন্টার নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে কাজ করছে। বিপদে সেগুলোই কাজে আসতে পারে।

৯৯৯-এর এসওএস অ্যাপ : যে কোনো নারী নির্যাতন বা সহিংসতার শিকার কিংবা বিপদকালীন জরুরি পরিস্থিতিতে মোবাইল ফোন অথবা টিএন্ডটি থেকে ৯৯৯ নম্বরে বিনামূল্যে কল করে পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট সেবা গ্রহণ করতে পারবে। কিছু কিছু জরুরি মুহূর্তে নির্যাতন বা সহিংসতার শিকার কিংবা বিপদগ্রস্ত নারী ৯৯৯ নম্বরে কল করে কথা বলে সেবা গ্রহণ করার মতো পরিস্থিতি থাকে না। সে রকম পরিস্থিতি চিন্তা করে ‘বিডি ৯৯৯’ নামে একটি এসওএস অ্যাপ্লিকেশন চালু করতে যাচ্ছে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯।

এ অ্যাপটি মোবাইলে ইন্সটল করা থাকলে যে কোনো নারী বিপদের মুহূর্তে শুধু এসওএস বাটনে চাপ দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিকটিমের নাম, বয়স, লিঙ্গ, বর্তমান লোকেশনসহ ওই মোবাইলের ১০ সেকেন্ডের লাইভ ভিডিও জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর পুলিশ ডেসপাসারের কাছে চলে যাবে। পুলিশ ডেসপাসার ঘটনাস্থলে নিকটস্থ প্যাট্রল টিম প্রেরণের মাধ্যমে ভিকটিমকে উদ্ধারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

‘জয় মোবাইল অ্যাপ’ : রাস্তাঘাটসহ যে কোনো জায়গায় হুট করে কোনো নির্যাতনের শিকার হলে গোপনে মোবাইল ফোনের পাওয়ার বাটনে পরপর চারবার চাপ দিতে হবে। এরপর মোবাইল ফোন ভাইব্রেট হবে। তারপর পাওয়ার বাটনে আর একবার চাপ (মোট পাঁচবার) দিতে পারলেই তিনি বিপদে পড়েছেন সে সংকেত চলে যাবে ‘জয় মোবাইল অ্যাপে’। নির্যাতনের শিকার বা শিকার হওয়ার আশঙ্কা আছে এমন ব্যক্তি যদি মোবাইল ফোন বের করার মতো অবস্থায় থাকেন, তা হলে অ্যাপের জরুরি বাটন চেপে জিপিএস লোকেশন, ছবি ও অডিও রেকর্ডিং পাঠাতে পারবেন। আর কেউ লিখিত অভিযোগ পাঠাতে চাইলে অ্যাপটির ‘অভিযোগ করুন’ অপশনে গিয়ে অভিযোগের ধরন বাছাই করে বিবরণসহ অভিযোগ করতে পারবেন।

অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘উত্তরণ’ : নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম প্রকল্পের উদ্যোগে সচিবালয়ে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘উত্তরণ’ নামের এ সেবাটি ১ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন করেছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুননেসা ইন্দিরা। এছাড়াও নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ন্যাশনাল হেল্পলাইন সেন্টার (ন্যাশনাল টোল ফ্রি হেল্পলাইন ১০৯), ন্যাশনাল সেন্টার অন জেন্ডার বেইজড ভায়োলেন্স প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

ডিএমপি ও র‌্যাবের অ্যাপ : বাংলাদেশে ২০১৪ সালের ১৪ জানুয়ারি ‘ডিএমপি’ নামে একটি অ্যাপ চালু করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। অ্যাপটি উদ্বোধন করার সময় জানানো হয়, অ্যাপটি থেকে ডিএমপির নারী-সহায়তা বিভাগের বিভিন্ন সেবা পাওয়ার জন্য ‘নারী বাটন’টি চাপলেই নানা সহায়তা পাওয়া যাবে। হঠাৎ রাস্তায় ঘটা কোনো দুর্ঘটনায় ডিএমপির হটলাইনে জানানোর জন্য এতে রয়েছে একটি ‘কুইক কন্টাক্ট বাটন’ যা ব্যবহার করে সহজেই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে যে কোনো তথ্য দেয়া যাবে সরাসরি ফোনে বা ইমেইলে।

‘সিস্টার’ অ্যাপ : ২০১৯ সালের নভেম্বরে বাজারে আসে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার পার্সোনাল সেফটি অ্যাপ- সিস্টার। স্প্যানিশ এ অ্যাপে মোবাইল কন্টাক্টস থেকে সবচেয়ে বিশ্বস্ত ১০ জনকে বাছাই করে লিস্টেড করে রাখা যায়। কোনো কারণে অনিরাপদবোধ করলে সঙ্গে সঙ্গে লাইভ লোকেশন অন করলেই ব্যবহারকারীর অবস্থান দেখতে পাবেন সেই ১০ জন। একই সঙ্গে নিকটস্থ পুলিশ স্টেশনের ঠিকানা ও ফোন নম্বর ভেসে উঠবে।

‘ওমেন সেফটি’ অ্যাপ : এ সেফটি অ্যাপের বিশেষ দিকটি হল, এটিতে ব্যবহারকারী যতগুলো ইচ্ছা পরিচিত নম্বরকে অভিভাবকের তালিকায় রাখতে পারেন। বিপদের সময় একটি স্পর্শেই ব্যবহারকারীর জিপিআরএস (লোকেশন) লিংক চলে যাবে তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের কাছে। এছাড়া পুলিশ স্টেশনের ঠিকানা তো থাকছেই।

দেশে তথ্যপ্রযুক্তি ও কল সেন্টারের মাধ্যমে নারী নির্যাতন রোধে নানা পদক্ষেপ রয়েছে। এ বিষয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর অ্যাডিশনাল ডিআইজি তবারক উল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, আমরা প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে নারীদের আধুনিকতম সেবা স্বল্প সময়ে দেয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট সেবা উদ্বোধন

প্রযুক্তির ব্যবহারে নারী থাকবে নিরাপদ

আপডেট সময় ০৯:৫৫:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২০

আকাশ আইসিটি ডেস্ক : 

দেশজুড়ে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ধর্ষণের ঘটনা; ভারি হচ্ছে খবরের শিরোনাম; নিন্দায় ভাসছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। নারীর প্রতি সহিংসতা, খুন, ধর্ষণ, পারিবারিক ও সামাজিক নিপীড়ন রোধে কোনো উদ্যোগই কাজে আসছে না।

তবে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রাথমিকভাবে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পার্সোনাল সিকিউরিটি ও নিরাপত্তা বাহিনীর অ্যাপস এবং কিছু কল সেন্টার নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে কাজ করছে। বিপদে সেগুলোই কাজে আসতে পারে।

৯৯৯-এর এসওএস অ্যাপ : যে কোনো নারী নির্যাতন বা সহিংসতার শিকার কিংবা বিপদকালীন জরুরি পরিস্থিতিতে মোবাইল ফোন অথবা টিএন্ডটি থেকে ৯৯৯ নম্বরে বিনামূল্যে কল করে পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট সেবা গ্রহণ করতে পারবে। কিছু কিছু জরুরি মুহূর্তে নির্যাতন বা সহিংসতার শিকার কিংবা বিপদগ্রস্ত নারী ৯৯৯ নম্বরে কল করে কথা বলে সেবা গ্রহণ করার মতো পরিস্থিতি থাকে না। সে রকম পরিস্থিতি চিন্তা করে ‘বিডি ৯৯৯’ নামে একটি এসওএস অ্যাপ্লিকেশন চালু করতে যাচ্ছে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯।

এ অ্যাপটি মোবাইলে ইন্সটল করা থাকলে যে কোনো নারী বিপদের মুহূর্তে শুধু এসওএস বাটনে চাপ দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিকটিমের নাম, বয়স, লিঙ্গ, বর্তমান লোকেশনসহ ওই মোবাইলের ১০ সেকেন্ডের লাইভ ভিডিও জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর পুলিশ ডেসপাসারের কাছে চলে যাবে। পুলিশ ডেসপাসার ঘটনাস্থলে নিকটস্থ প্যাট্রল টিম প্রেরণের মাধ্যমে ভিকটিমকে উদ্ধারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

‘জয় মোবাইল অ্যাপ’ : রাস্তাঘাটসহ যে কোনো জায়গায় হুট করে কোনো নির্যাতনের শিকার হলে গোপনে মোবাইল ফোনের পাওয়ার বাটনে পরপর চারবার চাপ দিতে হবে। এরপর মোবাইল ফোন ভাইব্রেট হবে। তারপর পাওয়ার বাটনে আর একবার চাপ (মোট পাঁচবার) দিতে পারলেই তিনি বিপদে পড়েছেন সে সংকেত চলে যাবে ‘জয় মোবাইল অ্যাপে’। নির্যাতনের শিকার বা শিকার হওয়ার আশঙ্কা আছে এমন ব্যক্তি যদি মোবাইল ফোন বের করার মতো অবস্থায় থাকেন, তা হলে অ্যাপের জরুরি বাটন চেপে জিপিএস লোকেশন, ছবি ও অডিও রেকর্ডিং পাঠাতে পারবেন। আর কেউ লিখিত অভিযোগ পাঠাতে চাইলে অ্যাপটির ‘অভিযোগ করুন’ অপশনে গিয়ে অভিযোগের ধরন বাছাই করে বিবরণসহ অভিযোগ করতে পারবেন।

অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘উত্তরণ’ : নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম প্রকল্পের উদ্যোগে সচিবালয়ে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘উত্তরণ’ নামের এ সেবাটি ১ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন করেছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুননেসা ইন্দিরা। এছাড়াও নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ন্যাশনাল হেল্পলাইন সেন্টার (ন্যাশনাল টোল ফ্রি হেল্পলাইন ১০৯), ন্যাশনাল সেন্টার অন জেন্ডার বেইজড ভায়োলেন্স প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

ডিএমপি ও র‌্যাবের অ্যাপ : বাংলাদেশে ২০১৪ সালের ১৪ জানুয়ারি ‘ডিএমপি’ নামে একটি অ্যাপ চালু করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। অ্যাপটি উদ্বোধন করার সময় জানানো হয়, অ্যাপটি থেকে ডিএমপির নারী-সহায়তা বিভাগের বিভিন্ন সেবা পাওয়ার জন্য ‘নারী বাটন’টি চাপলেই নানা সহায়তা পাওয়া যাবে। হঠাৎ রাস্তায় ঘটা কোনো দুর্ঘটনায় ডিএমপির হটলাইনে জানানোর জন্য এতে রয়েছে একটি ‘কুইক কন্টাক্ট বাটন’ যা ব্যবহার করে সহজেই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে যে কোনো তথ্য দেয়া যাবে সরাসরি ফোনে বা ইমেইলে।

‘সিস্টার’ অ্যাপ : ২০১৯ সালের নভেম্বরে বাজারে আসে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার পার্সোনাল সেফটি অ্যাপ- সিস্টার। স্প্যানিশ এ অ্যাপে মোবাইল কন্টাক্টস থেকে সবচেয়ে বিশ্বস্ত ১০ জনকে বাছাই করে লিস্টেড করে রাখা যায়। কোনো কারণে অনিরাপদবোধ করলে সঙ্গে সঙ্গে লাইভ লোকেশন অন করলেই ব্যবহারকারীর অবস্থান দেখতে পাবেন সেই ১০ জন। একই সঙ্গে নিকটস্থ পুলিশ স্টেশনের ঠিকানা ও ফোন নম্বর ভেসে উঠবে।

‘ওমেন সেফটি’ অ্যাপ : এ সেফটি অ্যাপের বিশেষ দিকটি হল, এটিতে ব্যবহারকারী যতগুলো ইচ্ছা পরিচিত নম্বরকে অভিভাবকের তালিকায় রাখতে পারেন। বিপদের সময় একটি স্পর্শেই ব্যবহারকারীর জিপিআরএস (লোকেশন) লিংক চলে যাবে তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের কাছে। এছাড়া পুলিশ স্টেশনের ঠিকানা তো থাকছেই।

দেশে তথ্যপ্রযুক্তি ও কল সেন্টারের মাধ্যমে নারী নির্যাতন রোধে নানা পদক্ষেপ রয়েছে। এ বিষয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর অ্যাডিশনাল ডিআইজি তবারক উল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, আমরা প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে নারীদের আধুনিকতম সেবা স্বল্প সময়ে দেয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি