অাকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:
আর মাত্র এক ম্যাচের অপেক্ষা। প্রথমবারের মতো ইউএস ওপেন সাক্ষী হতে পারে রজার ফেদেরার ও রাফায়েল নাদাল ধ্রুপদী লড়াইয়ের। আজ কোয়ার্টার ফাইনাল জিতলে বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্লামটির সেমি-ফাইনালে মুখোমুখি হবেন দুই কিংবদন্তি।
শেষ ষোলতে ইউক্রেনের আলেকজান্দ্রার দোলগোপলোভকে হারাতে তেমন কোনো বেগ পেতে হয়নি ওয়ার্ল্ড নাম্বার ওয়ান নাদালকে। স্প্যানিশ তারকা ম্যাচ জিতেন ৬-২, ৬-৪ ও ৬-১ গেমে। জার্মানির ফিলিপ হারমানকে ৬-৪, ৬-২ ও ৭-৫ গেমে হারিয়েছেন ফেদেরার। কোয়ার্টার ফাইনালে নাদালের প্রতিপক্ষ রাশিয়ান ১৯ বছর বয়সী তরুণ আন্দ্রে রুবলেভ এবং ফেদেরারের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনার হুয়ান মার্টিন দেল পোত্রো।
তবে রাফা, রজারের জয়কে ছাপিয়ে শেষ ষোলতে সবার নজর কেড়ে নিয়েছেন দেল পোত্রো। ষষ্ঠ বাছাই ডমিনিক থিয়েমের বিপক্ষে দুই সেট পিছিয়ে পড়েও ‘মহাকাব্যিক’ ম্যাচ জিতেছেন আর্জেন্টাইন তারকা। দেল পেত্রোর জয়টি আরো মহিমান্বিত হয়েছে তিনি অসুস্থ থাকায়। খেলার সময় চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি। তারপরও হাল ছাড়েননি ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়ন।
দেল পোত্রোকে প্রথম দুই সেটে সহজেই ৬-১, ৬-২ গেমে হারান থিয়েম। এরপর ঘুরে দাঁড়ান দেল পোত্রো। শেষ তিন সেট ৬-১, ৭-৬ (৭-১) ও ৬-৪ গেমে জিতে বিজয়ীর হাসি হাসেন দীর্ঘদিন কব্জির ইনজুরিতে ভোগা আর্জেন্টাইন তারকা। জয়ের পর তিনি বলেন, ‘আমার প্রিয় টুর্নামেন্ট ইউএস ওপেনে জীবনের অন্যতম মহাকাব্যিক ম্যাচটা খেললাম। দ্বিতীয় সেটের মাঝামাঝি সময়ে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিতে চেয়েছিলাম। কারণ আমি শ্বাস নিতে পারছিলাম না, নিজেকে অচল মনে হচ্ছিল। ডমিনিকও খুব সহজে খেলার আধিপত্য বিস্তার করে। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। ভক্তরা আমার জন্য গলা ফাটিয়েছেন। আমি আজীবন এটা মনে রাখব।’
দেল পেত্রোকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শেষ চারের প্রতিপক্ষ ফেদেরারও। ৩৬ বছর বয়সেও বছরের তৃতীয় গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের লক্ষ্যে পথ চলা সুইস কিংবদন্তি বলেন, ‘তাকে আবার ফিরে আসতে দেখে সত্যিই ভালো লাগছে। কব্জির ইনজুরির কারণে তাকে কঠিন সময় পার করতে হয়েছে।’
২০০৯ সালে ইউএস ওপেনে পাঁচ সেটের ধ্রুপদী লড়াইয়ে ফেদেরারকে হারিয়েই ক্যারিয়ারের একমাত্র গ্র্যান্ড স্লামটি জিতেছিলেন দেল পোত্রো। এবার ফর্ম বিবেচনায় সুইস তারকাই এগিয়ে। তবে আর্জেন্টাইন তারকার মতো শেষ ষোলতে চিকিৎসা নিতে হয়েছে ফেদেরারকেও। পিঠের ইনজুরিটা ফিরে এসেছিল আবার। তাই চিন্তামুক্ত হতে পারছেন না তিনি।
অন্যদিকে কোয়ার্টার ফাইনালে রুবলেভ অপেক্ষায় আছেন নাদালকে চমকে দিতে। বেলজিয়ামের ডেভিড গোফিনকে হারিয়ে ২০০১ সালে অ্যান্ডি রডিকের পর সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবে শেষ আটে উঠেছেন রাশিয়ান তরুণ। নাদাল বড় প্রতিপক্ষ, এটাই যেন শক্তি তার, ‘রাফা সত্যিকারের চ্যাম্পিয়ন। আমি আমার সবটুকু দিয়ে জিততে চেষ্টা করব। আমার হারানোর কিছু নেই’, বলছিলেন রুবলেভ।
-সুপার স্পোর্টস
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























