ঢাকা ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

‘মিনি কক্সবাজার’ ভ্রমণই কাল হল একই পরিবারের ৭ জনসহ ১৭ জনের

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

নেত্রকোনার মদনে মিনি কক্সবাজারে ভ্রমণে এসে হাওরে ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকা ডুবে ১৭ জন নিহত ও ১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ৭ জন রয়েছেন।

মঙ্গলবার ময়মনসিংহ ও গৌরীপুর থেকে ৩৮ জন মদনের আটপাড়া তেলিগাতী মাদ্রাসায় বেড়াতে আসেন। তেলিগাতির ১০ জনসহ ৪৮ জন উচিতপুর মিনি কক্সবাজারে ভ্রমণে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বুধবার সকালে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরশিরতা ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রাম, গৌরীপুর ও আটপাড়া উপজেলার তেলিগাতী মাদ্রাসা থেকে ৪৮ জন লোক উচিতপুর এসে নৌকা ভ্রমণে বের হয়। নৌকাটি উচিতপুর হাওরের গোবিন্দশ্রী রাজালীকান্দা নামক স্থানে পৌঁছলে উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে বেলা ১২টার দিকে ডুবে যায়। এতে ১৮ জন নিখোঁজ হয় এবং বাকিরা সাঁতরে কিনারায় উঠেন।

উদ্ধারকৃত পর্যটক আতাউল্লাহ ও ওমর ফারুক জানান, উচিতপুর ঘাট থেকে আমরা ট্রলারযোগে হাওরে ঘুরতে গেলে হঠাৎ বাতাসে প্রচণ্ড ঢেউ শুরু হয়। নৌকার মাঝি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে নৌকাটি ডুবে যায়। আমরা সাঁতার কেটে তীরে উঠতে পারলেও নৌকার ভেতরে থাকায় তারা বের হতে পারেনি।

এলাকাবাসী রিয়াজ উদ্দিন ও ইউসুফ আলী তালুকদার জানান, এ ধরনের ঘটনা পূর্বে কখনও ঘটেনি। তবে নৌকায় লোক বেশি থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে আমাদের ধারণা। এ ব্যাপারে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো উচিত।

মদন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আহমেদুল কবির জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ৩ ঘণ্টা অভিযানে ১৭ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এখনও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নেত্রকোনার পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সী জানান, উদ্ধার হওয়া লাশের মধ্যে ময়মনসিংহের একই পরিবারের ৭ জন রয়েছেন। তারা হলেন- হাফেজ মাহফুজুর রহমান, ছেলে আশিফ, মাহমুদ মিয়া, ভাতিজি জুলফা, লুবনা, ভাতিজা জুবায়ের ও মোজাহিদ। তাদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া সাইফুল ইসলাম রতন, জাহিদ, শামীম হাসান, শফিকুল, শহিদুল, ইসা মিয়া, আজহারুল, সামাআন, রেজাউল করিম, হামিদুলকে পরিবারের লোকজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া প্রত্যেক লাশের পরিবারকে ৭ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে। পর্যটন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

‘মিনি কক্সবাজার’ ভ্রমণই কাল হল একই পরিবারের ৭ জনসহ ১৭ জনের

আপডেট সময় ১১:২১:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

নেত্রকোনার মদনে মিনি কক্সবাজারে ভ্রমণে এসে হাওরে ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকা ডুবে ১৭ জন নিহত ও ১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ৭ জন রয়েছেন।

মঙ্গলবার ময়মনসিংহ ও গৌরীপুর থেকে ৩৮ জন মদনের আটপাড়া তেলিগাতী মাদ্রাসায় বেড়াতে আসেন। তেলিগাতির ১০ জনসহ ৪৮ জন উচিতপুর মিনি কক্সবাজারে ভ্রমণে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বুধবার সকালে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরশিরতা ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রাম, গৌরীপুর ও আটপাড়া উপজেলার তেলিগাতী মাদ্রাসা থেকে ৪৮ জন লোক উচিতপুর এসে নৌকা ভ্রমণে বের হয়। নৌকাটি উচিতপুর হাওরের গোবিন্দশ্রী রাজালীকান্দা নামক স্থানে পৌঁছলে উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে বেলা ১২টার দিকে ডুবে যায়। এতে ১৮ জন নিখোঁজ হয় এবং বাকিরা সাঁতরে কিনারায় উঠেন।

উদ্ধারকৃত পর্যটক আতাউল্লাহ ও ওমর ফারুক জানান, উচিতপুর ঘাট থেকে আমরা ট্রলারযোগে হাওরে ঘুরতে গেলে হঠাৎ বাতাসে প্রচণ্ড ঢেউ শুরু হয়। নৌকার মাঝি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে নৌকাটি ডুবে যায়। আমরা সাঁতার কেটে তীরে উঠতে পারলেও নৌকার ভেতরে থাকায় তারা বের হতে পারেনি।

এলাকাবাসী রিয়াজ উদ্দিন ও ইউসুফ আলী তালুকদার জানান, এ ধরনের ঘটনা পূর্বে কখনও ঘটেনি। তবে নৌকায় লোক বেশি থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে আমাদের ধারণা। এ ব্যাপারে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো উচিত।

মদন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আহমেদুল কবির জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ৩ ঘণ্টা অভিযানে ১৭ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এখনও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নেত্রকোনার পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সী জানান, উদ্ধার হওয়া লাশের মধ্যে ময়মনসিংহের একই পরিবারের ৭ জন রয়েছেন। তারা হলেন- হাফেজ মাহফুজুর রহমান, ছেলে আশিফ, মাহমুদ মিয়া, ভাতিজি জুলফা, লুবনা, ভাতিজা জুবায়ের ও মোজাহিদ। তাদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া সাইফুল ইসলাম রতন, জাহিদ, শামীম হাসান, শফিকুল, শহিদুল, ইসা মিয়া, আজহারুল, সামাআন, রেজাউল করিম, হামিদুলকে পরিবারের লোকজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া প্রত্যেক লাশের পরিবারকে ৭ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে। পর্যটন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।